ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আরজি কর হাসপাতালে লিফ্টে আটকে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। ওই ব্যক্তির নাম অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় (৪০)। শুক্রবার ভোরে এই ঘটনার পরেই হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান রোগীর পরিজনেদের একাংশ। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তি দমদমের বাসিন্দা। ভোর ৫টা নাগাদ তিনি হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারের লিফ্টে চেপে পাঁচতলায় যাচ্ছিলেন। লিফ্ট আটকে মৃত্যু হয় তাঁর।
আরও পড়ুনঃ ৯৯.৯৯ শতাংশ সাজানো ভোটে বিশাল জয়লাভ কিমের
হাসপাতাল সূত্রে খবর, ঘটনার সময় লিফ্ট পরিচালনার (লিফ্ট অপারেটর) জন্য কেউ ছিলেন না। তাই কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে গিয়েছে টালা থানার পুলিশ।
সূত্র মারফত এ-ও জানা গিয়েছে, মৃত ব্যক্তি পুত্রের চিকিৎসা করানোর জন্য আরজি কর হাসপাতালে গিয়েছিলেন। চার বছরের পুত্র এবং স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারের পাঁচতলায় যাচ্ছিলেন তিনি। স্ত্রী-পুত্র বেরিয়ে এলেও কোনও কারণে লিফ্টের ভিতর আটকে পড়েন ওই ব্যক্তি। তীব্র ঝাঁকুনির পর লিফ্ট উপরে না উঠে বেসমেন্টে নেমে আসে। বেশ কিছু সময় কেটে যাওয়ার পরে লিফ্ট খুলে ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
যান্ত্রিক গোলযোগের জেরেই এই দুর্ঘটনা কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে টালা থানার পুলিশ। হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা দেখে আরজি করে যান কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যেরা। পরিস্থিতি অবশ্য নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এখন। অরূপের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাচ্ছে পুলিশ। পরিবারের তরফে এখনও কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন রোগীর পরিজনেদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, অধিকাংশ সময়েই হাসপাতালের লিফ্টগুলিতে কোনও অপারেটর বা চালক থাকেন না। ফলে প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই ওঠানামা করতে হয়। ট্রমা কেয়ার সেন্টারের মতো হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে এই ধরনের গাফিলতি হল কী করে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এক রোগীর আত্মীয় বলেন, “কোন ভরসায় এ বার লিফ্টে উঠব? অধিকাংশ সময়েই সাহায্য করার জন্য কাউকে পাওয়া যায় না।”
আরও পড়ুনঃ অবরুদ্ধ পড়াশোনা, C/O কেন্দ্রীয় বাহিনী
এই ঘটনা প্রসঙ্গে আরজি করের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানান, লিফ্টের ভিতর থেকে চিৎকার শুনে উদ্ধারকারীরা বেসমেন্টে যান। মৃত ব্যক্তির নাক-মুখ থেকে রক্ত বেরোচ্ছিল। কী কারণে তাঁর মৃত্যু হল, তা জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি খতিয়ে দেখারও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষের তরফে।
২০২৪ সালের ৮ অগস্ট রাতে আরজি কর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ে ধর্ষণ এবং খুন করা হয় এক চিকিৎসক-ছাত্রীকে। সেই ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। প্রয়াত চিকিৎসকের মা বৃহস্পতিবারই পানিহাটি কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। এ বার কলকাতার সেই হাসপাতালেই লিফ্ট আটকে মৃত্যু হল এক যুবকের।




