বছর শুরু হল কাজ খুইয়ে। নতুন বছরের পাঁচ দিন কাটতেই কাজ হারালেন ১ হাজার শ্রমিক। যা ঘিরে ছড়াল উত্তেজনা। কাজ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে সরব হলেন শ্রমিকরা। ঘটনা কামারহাটির প্রবর্তক জুট মিলের। মঙ্গলবার সাতসকালে সেখানে তুঙ্গে ওঠে বিবাদ। জুটমিলে প্রবেশ করতে গিয়ে শ্রমিকরা দেখেন, লোহার গেটে তালা ঝুলিয়ে সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে একটি নোটিস।
আরও পড়ুনঃ এক ধাক্কায় ৯ ডিগ্রি নীচে; শীতের অনবদ্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী বাঙালি, জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়বে আরও
তাতে লেখা রয়েছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হল জুটমিলটি। তারপরেই মাথায় হাত শ্রমিকদের। সবে বছর শুরু হয়েছে। ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজে ভর্তি করা বাকি রয়েছে। এই সময় এমন সঙ্কটের জেরে চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা। কিন্তু আচমকা জুট মিল বন্ধের কারণটাই বা কী? প্রবর্তক জুটমিলের মালিকপক্ষ সেই নোটিসেই উল্লেখ করেছে যে মিল চালানোর জন্য় প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অভাবেই অনির্দিষ্টকালের জন্য় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মালিকপক্ষের আরও দাবি, কাঁচাপাটের আকাশছোঁয়া দামের জেরে তাতে হাত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিপাকে পড়েই এত বড় সিদ্ধান্ত। অবশ্য শ্রমিক পক্ষের দাবি, কর্তৃপক্ষ তাঁদের সঙ্গে ‘ধোঁকাবাজি’ করেছে।
আরও পড়ুনঃ শীতলতম দিনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ! শীতলতম দিনে সবজির বাজারের হাল হাকিকত
এদিন এক বিক্ষোভরত শ্রমিক বলেন, ‘আমরা মালিকপক্ষের সঙ্গে প্রথম থেকেই সহযোগিতা করেছি। বারংবার একটাই আবেদন জানিয়েছি যে কোনও মতে যেন মিল বন্ধ না করা হয়। কাঁচাপাটের দাম বাড়ায় প্রথমে পাঁচ দিন মিল চালানো হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তারপর কমে হল চারদিন। এখন ওরা বন্ধই করে দিল।’ এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের জুট-শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন নিয়ে তাঁরা মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়, দমদমের সাংসদ সৌগত রায় এবং কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের কাছে দ্বারস্থ হতে পারেন বলেও জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, দেশজুড়ে চলা কাঁচাপাটের সমস্যা নিয়ে সম্প্রতি বস্ত্র মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের দফতরে একটি চিঠি লিখেছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ তথা শ্রমিক সংগঠন INTUC সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ প্রভাবে কাঁচাপাটের দাম বৃদ্ধি, যার জেরে জুটি শ্রমিকদের কাজ চলে যাওয়ার প্রসঙ্গটি তুলে ধরেন তিনি।









