মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রবর্তক শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধা জানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও দলিত মানুষের উন্নয়নের জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছিলেন। পাশাপাশি এদিন হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে লিখেছেন, “পূৰ্ণব্রহ্ম পূর্ণাবতার শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১৫তম শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে আয়োজিত, পবিত্র মতুয়া ধর্ম মহামেলা ও পুণ্য স্নানের এই শুভক্ষণে মতুয়া সম্প্রদায়ের সকল ভাই ও বোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। শ্রীশ্রী ঠাকুর ছিলেন এক মহান ও ঐশ্বরিক আত্মা। তিনি আমাদের চিরন্তন জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার গভীরে প্রবেশ করে ভক্তি, সাম্য ও নৈতিক জীবনবোধের অমূল্য বাণী তুলে ধরেছিলেন, যা আজও আমাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনায় অনুষ্ঠিত মতুয়া ধর্ম মহামেলা ২০২৬-এ এই মহান আদর্শগুলির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার আরও দৃঢ় হোক এই প্রার্থনাই করি”।
আরও পড়ুনঃ DA ঘোষণার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বিজ্ঞপ্তি সরকারের
১৮১২ সালের ১১ মার্চ অবিভক্ত বাংলার গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার অন্তর্গত ওড়াকাঁন্দি সংলগ্ন সাফলাডাঙ্গা গ্রামে তাঁর জন্ম হয়। তাঁর প্রচারিত আদর্শ থেকেই মতুয়া ধর্মীয় ও সামাজিক আন্দোলনের সূচনা হয়, যা আজও বাংলার বহু মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করে রয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর একজন মহান সমাজ সংস্কারক ছিলেন। প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষের শিক্ষা ও উন্নয়নের জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর আদর্শ শুধু মতুয়া সম্প্রদায় নয়, সমগ্র সমাজকেই অনুপ্রাণিত করে চলেছে’।
এদিকে উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে আবারও মতুয়া রাজনীতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ১৭ মার্চ থেকে শুরু হতে চলেছে মতুয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব বারুণী মেলা। সেই মেলাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই লক্ষাধিক ভক্ত ঠাকুরবাড়িতে জমায়েত হতে শুরু করেছেন।
তবে এই ধর্মীয় উৎসবের আবহেই ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে মতুয়া মহলে। নির্বাচন কমিশন বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করার পর জানা যায়, বনগাঁ মহকুমার চারটি বিধানসভা কেন্দ্র বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, গাইঘাটা ও বাগদা এই চার এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার ভোটারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ৬৪ হাজার নাম যাচাইয়ের তালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, অনেকেই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁদের হাতে নাগরিকত্বের শংসাপত্র পৌঁছায়নি। এর ফলে অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অধীনে জমা পড়া আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য দুটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই কমিটিগুলি কবে থেকে কাজ শুরু করবে এবং কবে নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ জ্ঞানেশকে ক্ষুব্ধ মমতার ‘পত্রবোমা’! শেষে লিখলেন, ‘অল দ্য বেস্ট’
এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেন, যারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন তারা খুব শিগগিরই ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর প্রশ্ন তোলেন, যদি আগেই কমিটি থেকে থাকে, তবে এতদিন নাগরিকত্ব দেওয়া হল না কেন।
প্রশাসনিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যে সব কেন্দ্রে ভোটার তালিকা নিয়ে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেখানে যাচাইয়ের তালিকায় থাকা ভোটারের সংখ্যা অনেক ক্ষেত্রেই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের ব্যবধানের থেকেও বেশি। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক দিক থেকেও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।







