কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
জাতীয় সড়কে আচমকা লরি খারাপ হয়ে যাওয়ায় ফাঁস হয়ে গেল গবাদি পশু পাচারের এক বড়সড় কারবার। জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ট্রাফিক চৌপথি এলাকায় শিলিগুড়ি থেকে অসমগামী একটি বিকল লরি থেকে বিপুল সংখ্যক মহিষ উদ্ধার করল পুলিশ। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে চালক চম্পট দিলেও লরির ভেতর গাদাগাদি করে বেঁধে রাখা অবস্থায় অন্তত ৪০টি মহিষ উদ্ধার হয়েছে। ধূপগুড়ি ও পার্শ্ববর্তী বানারহাট থানা এলাকার জাতীয় সড়ককে পাচারকারীরা রুট হিসেবে ব্যবহার করছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশাসনিক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অন্নপূর্ণার ভাতা মিলছে না কেন? পুজোর পর বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি মহিলাদের
ঘটনাক্রম ও পুলিশের পদক্ষেপ
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ির দিক থেকে একটি মহিষ বোঝাই লরি অসমের দিকে যাচ্ছিল। ধূপগুড়ি ট্রাফিক চৌপথি সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছতেই আচমকা গাড়িটি বিকল হয়ে পড়ে। বহু চেষ্টা করেও গাড়ি চালু না হওয়ায় এবং পুলিশী নজরদারির আশঙ্কায় চালক গাড়ি ফেলে রেখে চম্পট দেয়।
-
পুলিশী তল্লাশি: মাঝরাস্তায় চালকহীন গাড়িটিকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় ট্রাফিক ও স্থানীয় থানার পুলিশের। তল্লাশি চালাতেই দেখা যায়, অত্যন্ত অমানবিক ও বিপজ্জনকভাবে লরির ভেতরে ঠাসাঠাসি করে প্রায় ৪০টি মহিষ বেঁধে রাখা হয়েছে।
-
গাড়ি উদ্ধার ও খোয়াড়ে স্থানান্তরিত: এরপর ধূপগুড়ি থানার পুলিশ এসে লরিটিকে সেখান থেকে সরিয়ে গয়েরকাটা রোডের একটি পেট্রল পাম্পের সামনে নিয়ে যায়। মহিষগুলির সুরক্ষার স্বার্থে সেগুলিকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় খোঁয়াড়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ৩২ হাজার টাকার গরু, দুধ দেয় মাত্র ৩ লিটার! প্রতারণার নালিশ; সঙ্গে গরু নিয়ে সোজা থানায় হাজির গোয়ালা
ডুয়ার্সের জাতীয় সড়ক কি তবে নতুন পাচার করিডর?
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই উত্তরবঙ্গের জাতীয় সড়ক ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় পশুপাচার রুখতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
-
পুরনো রুট ও নতুন সন্দেহ: এর আগে আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম বা উত্তরবঙ্গের একাধিক সীমান্ত এলাকায় গরু ও মহিষ বোঝাই গাড়ি আটক করা হলেও, ধূপগুড়ি বা বানারহাট রুট দিয়ে সচরাচর এমন দৃশ্য নজরে আসেনি। লরি বিকল না হলে হয়তো এই বিপুল সংখ্যক মহিষ মসৃণভাবেই সীমানা পেরিয়ে যেত।
-
এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮: পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মহিষগুলিকে মূলত অসমেই পাচার করা হচ্ছিল। তবে ডুয়ার্সের এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ (AH48) এবং সংলগ্ন জাতীয় সড়ককে আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য পাচারকারীরা নতুন করিডর হিসেবে ব্যবহার করছে কি না, তা গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে পুলিশকর্তাদের।
বর্তমানে মহিষগুলি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং অসমের কোথায় পৌঁছনোর কথা ছিল, তার মূল ছক জানতে তদন্ত শুরু করেছে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। পলাতক চালক ও লরির নম্বর প্লেটের সূত্র ধরে মূল পাচারচক্রের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।


