ঝাড়খণ্ডের ছাতরা জেলার ঘন জঙ্গলে একটা ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে। রাঁচি থেকে দিল্লি যাওয়া একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিমান ভেঙে পড়েছে। বিমানে ছিলেন মোট সাতজন একজন গুরুতর অসুস্থ রোগী, একজন ডাক্তার, একজন প্যারামেডিক, দুজন অ্যাটেন্ডেন্ট এবং দুজন পাইলট। দুর্ঘটনার পর থেকে কোনো জীবিতের খোঁজ মেলেনি। সবাইকে মৃত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই খবরে পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।বিমানটি ছিল Beechcraft C90 মডেলের, রেজিস্ট্রেশন নম্বর VT-AJV। এটি Redbird Airways Pvt Ltd-এর পরিচালিত একটা প্রাইভেট চার্টার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। বিমানটি রাঁচির বিরসা মুন্ডা বিমানবন্দর থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে টেক অফ করে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে। রোগী ছিলেন ৪১ বছরের সঞ্জয় কুমার, যিনি রাঁচির একটি হাসপাতালের আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক ছিল, তাই দিল্লির উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডাক্তার ছিলেন ড. বিকাশ কুমার গুপ্তা, প্যারামেডিক সচিন কুমার মিশ্রা, অ্যাটেন্ডেন্ট আর্চনা দেবী ও ধুরু কুমার। পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন বিবেক বিকাশ ভগত এবং সবরাজদীপ সিং।উড়ানের মাত্র ২৩ মিনিট পর, সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে কলকাতা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। পাইলটরা খারাপ আবহাওয়ার কারণে রুট পরিবর্তনের অনুমতি চান।
আরও পড়ুনঃ যুবভারতী মানেই যেন মোহনভারতী; বসন্তের ছোঁয়ায় ম্যাকলারেন-দিমি ম্যাজিকে বিজয়রথ অব্যাহত
তারপরই বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাডার কন্ট্যাক্টও হারায়। বিমানটি তখন বারাণসীর দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল। পরে জানা যায়, বিমানটি চতরা জেলার সিমারিয়া ব্লকের কাসারিয়া পঞ্চায়েতের কাছে খাসিয়াতু করম টাঁড় জঙ্গল এলাকায় ক্র্যাশ করেছে। জঙ্গলের গভীরে পড়ায় উদ্ধারকাজ খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA) তাৎক্ষণিক বিবৃতি দিয়েছে।
রোগীর পরিবার তো আগে থেকেই চিন্তায় ছিলেন, তার ওপর এই খবরে তারা ভেঙে পড়েছেন। এক আত্মীয় বলেন, “সঞ্জয় ভাইয়ের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। আমরা ভেবেছিলাম দিল্লিতে নিয়ে গেলে বাঁচবে। কিন্তু এখন সব শেষ।” ডাক্তার ও প্যারামেডিকের পরিবারও শোকে মুহ্যমান। পাইলটদের পরিবারের কথা ভাবলে চোখে জল আসে তারা তো শুধু একটা মানুষকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন।









