শিবনাথ প্রধান, সাঁতরাগাছি, হাওড়া:
দিল্লিতে প্রাকৃতিক আবহাওয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে যে পারে কৃত্রিম বৃষ্টির প্রক্রিয়া সফল না হলে সে সম্পর্কে অবশ্যই ওয়াকিবহাল ছিলেন এই প্রজেক্টের সাথে যুক্ত আইআইটি কানপুরের বিজ্ঞানীরা ।

ক্লাউড সিডিংয়ের জন্য মেঘে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকা প্রয়োজন (প্রায় ৫০%), যাতে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টি হতে পারে। যখন বাতাস সর্বোচ্চ পরিমাণে জলীয় বাষ্প ধারণ করে (পূর্ণতা বা স্যাচুরেশন বিন্দু), তখন ক্লাউড সিডিং সফল হতে পারে। ক্লাউড সিডিংয়ের জন্য মেঘে যথেষ্ট পরিমাণে জলীয় বাষ্পের পাশাপাশি অন্যান্য বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থাও উপযুক্ত হতে হয়।
আরও পড়ুনঃ শেষ পর্যন্ত নিজের অস্তিত্ব জানান দিল শীত; প্রথমবার ১৯ ডিগ্রিতে কলকাতা, শীতলতম দার্জিলিং
২০ অক্টোবরের পর থেকে দিল্লি ও তার সংলগ্ন অংশে বাতাসে আর্দ্রতা যে কম থাকবে সেটা যারা আবহাওয়া নিয়ে খবরাখবর রাখেন তারাও জানেন । অতীতের রেকর্ড বলছে অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই দিল্লি সংলগ্ন অংশ থেকে আর্দ্রতা কমতে শুরু করে ।
এই পরিস্থিতিতে ক্লাউড সিডিংয়ের জন্য সিলভার আয়োডাইড বাতাসে ছড়িয়ে দেওয়া এবং পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকায় ও কৃত্রিম বৃষ্টি না হওয়ার ফল কি হতে পারে সে সম্পর্কে জানতেন না এটা বিশ্বাস করতে পারছি না । শুধুমাত্র অনুমান ভিত্তিক বিজ্ঞানের প্রয়োগ হয় বলেও কোনো ধারণা নেই । কিন্তু এক্ষেত্রে এমন প্রয়োগ কি কারণে হলো সত্যিই ভাবার সময় এসেছে । কারণ কৃত্রিম বৃষ্টি না হওয়াতে এবং ক্লাউড সিডিংয়ের জন্য সিলভার আয়োডাইড বাতাসে থেকে যাওয়ার কারণে তার প্রভাব পরিবেশ ও মানবজাতির জন্য ভালো নয় । কারণ সিলভার আয়োডাইডের প্রভাবে বমি বমি ভাব / বমি, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা এবং ত্বকের বা চোখের জ্বালার মতো সমস্যা হতে পারে। বর্তমান ভয়াবহ বায়ু দূষণে কি হতে পারে সেটা সহজেই অনুমেয়।

আমরা জানি শীতকালে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় বায়ুর ঘনত্বের কারণে দূষণ বেশি হয়। এই সময় ‘তাপমাত্রার বিপরীতমুখীতা‘ (Temperature Inversion) ঘটে, যেখানে ঠান্ডা বাতাস মাটির কাছাকাছি আটকে থাকে এবং উষ্ণ বাতাস উপরের স্তরকে ঢেকে রাখে, ফলে দূষণকারী কণাগুলো ছড়িয়ে পড়তে পারে না। এছাড়াও, শীতকালে বৃষ্টিপাত কম হওয়া এবং শুষ্ক বাতাসে ধুলোবালির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়াও দূষণ বাড়িয়ে তোলে।
আরও পড়ুনঃ কার্তিক কৃষ্ণা ষষ্ঠীতে পুষ্য নক্ষত্রে, সোমবার ভাগ্য প্রসন্ন হবে এই চার রাশির
এক কথায় বলতে গেলে বর্তমান বছরে এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে চলেছে দিল্লি সহ উত্তরপ্রদেশ সংলগ্ন অংশে। সাথে ভয়াবহ বায়ু দূষনে নাম সংযোজন মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খন্ড ও পশ্চিমবঙ্গ । প্রকৃতিগত ভাবে বৃষ্টিই এক্ষেত্রে একমাত্র সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে ।
তারমধ্যেই সচেতন আমাদের হতে হবে, আমাদের বাসযোগ্য স্থানের আশেপাশে যাতে ধুলো উড়তে না পারে তার জন্য নজর রাখা, প্রয়োজন ব্যতীত ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, বনাঞ্চল ধ্বংস, নির্মাণ কাজের ধুলো, বর্জ্য পোড়ানো থেকে বিরত অবশ্যই থাকুন । সাথে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন









