spot_img
Monday, 2 March, 2026
2 March
spot_img
HomeকলকাতাNirupam Sen: শিল্পায়নের সাহসী মুখ, শিল্পায়নের স্থপতি নিরূপম সেন

Nirupam Sen: শিল্পায়নের সাহসী মুখ, শিল্পায়নের স্থপতি নিরূপম সেন

একথা অস্বীকার করা যায় না যে, নিরূপম সেন ছিলেন এক নীরব, সংগঠিত, ও চিন্তাশীল নেতা— যাঁর কাছে রাজনীতি মানে ছিল নীতি ও উন্নয়নের সংমিশ্রণ।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

সময় পেরিয়ে গেছে প্রায় ছয় বছর, কিন্তু আজও পশ্চিমবঙ্গের বাম রাজনীতিতে উচ্চারণ হয় এক নাম— নিরূপম সেন। সিপিআই(এম)-এর এই প্রবীণ নেতা শুধু বর্ধমান নয়, সমগ্র রাজ্যে শিল্পায়নের এক নতুন দিশা দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন।

২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি প্রয়াত হন, কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও উদ্যোগ এখনো আলোচনায়।

আরও পড়ুনঃ ‘দুটো পেয়ারা নিন না!’ মুখে হাসি, হাতে ঝুড়ি গড়িয়াহাটের ফুটপাতে একাকী লড়াই বৃদ্ধর

১৯৪৬ সালের ৮ অক্টোবর বর্ধমান জেলার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নিরূপম সেনের।

ছাত্রজীবনেই বামপন্থী ভাবধারায় প্রভাবিত হয়ে ১৯৬৪ সালে সিপিআই(এম)-এ যোগ দেন। মাত্র ২২ বছর বয়সেই তিনি পূর্ণকালীন পার্টি কর্মী হিসেবে দায়িত্ব নেন। সংগঠন ও আদর্শের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা দ্রুতই তাঁকে জেলা নেতৃত্বের পর্যায়ে নিয়ে আসে।

বর্ধমানের মাঠে-ঘাটে, শ্রমিক-কৃষকের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি গড়ে তুলেছিলেন পার্টির এক দৃঢ় ভিত্তি।

১৯৮৭ সালে প্রথমবার বর্ধমান শহর আসন থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। সেখান থেকেই শুরু তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সফর।

১৯৮৫ সালে রাজ্য কমিটিতে, ১৯৯৫ সালে রাজ্য সচিবালয়ে এবং ১৯৯৮ সালে সেন্ট্রাল কমিটিতে নির্বাচিত হন নিরূপম সেন।

২০০৮ সালে তিনি পলিটব্যুরোর সদস্য হন— যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শীর্ষস্থানীয় অর্জন।

২০০১ সালে বামফ্রন্ট সরকারে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান নিরূপম সেন।

তাঁর সময়ে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, রাজ্যের কর্মসংস্থান বাড়াতে শিল্প খাতেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।

সেই লক্ষ্যে টাটা মোটরসের সিঙ্গুর প্রকল্পসহ একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

কিন্তু এই প্রকল্পগুলির জমি অধিগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয় তীব্র বিতর্ক ও আন্দোলন— বিশেষ করে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামে। সেই সময়কার অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শেষ পর্যন্ত বামফ্রন্ট সরকারের জনপ্রিয়তায় বড় ধাক্কা আনে।

আরও পড়ুনঃ চওড়া টাক, উসকোখুসকো চুল, উদ্ধত চালচলন! উত্তরবঙ্গের অন্ধকার জগতের রহস্যময় বেতাজ বাদশা

২০১৩ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হন নিরূপম সেন। দীর্ঘ সময় অসুস্থ থাকার পর ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮-তে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৭২।

তাঁর প্রয়াণে সিপিআই(এম) জানায় গভীর শোক — “কমরেড নিরূপম সেন ছিলেন শিল্পায়নের সাহসী মুখ, সংগঠনের নীরব শ্রমিক।

২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, নিরূপম সেনের শিল্পনীতি আজও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

কেউ তাঁকে দেখেন ‘দূরদর্শী শিল্পনীতির কারিগর’ হিসেবে, কেউ বা বলেন— তাঁর সিদ্ধান্তই বামফ্রন্টের পতনের পথ প্রশস্ত করেছিল।

তবে একথা অস্বীকার করা যায় না যে, নিরূপম সেন ছিলেন এক নীরব, সংগঠিত, ও চিন্তাশীল নেতা— যাঁর কাছে রাজনীতি মানে ছিল নীতি ও উন্নয়নের সংমিশ্রণ।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন