শিবনাথ প্রধান, সাঁতরাগাছি, হাওড়াঃ
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) চন্দ্রযান-৩ অভিযানের সময় চন্দ্রাভিযানের ল্যান্ডার বিক্রম ‘লুনার সিসমিক অ্যাক্টিভিটি পে লোড’ রেকর্ড করে এমন একটি ঘটনা ২৬ আগস্ট ২০২৩ সালে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো যে ২৩ আগস্ট ২০২৩ সালে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করে চন্দ্রযান-৩-এর ল্যান্ডার।
আরও পড়ুনঃ লক্ষ্মীলাভে খুশি লক্ষ্মী, রেণুরা! শিলিগুড়ির আশ্রমপাড়ায় শীতের ছোঁয়ায় পথের পিঠে
তার পর থেকে বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন দেশ এই বিষয়ে গবেষণা শুরু করে । চিনের সান ইয়াত-সেন ইউনিভার্সিটি, ফুঝৌ ইউনিভার্সিটি, সাংহাই নরমাল ইউনিভার্সিটির তরফে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করা হয়, তাতে বিশেষজ্ঞদের সিলমোহরও পড়ে গিয়েছে। গবেষণার তত্ত্বাবধানে ছিল চাইনিজ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস।
সেই গবেষণা পত্রে চিনের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ২০০৯ সাল থেকে চাঁদের বুকে ৪১টি নতুন ধস শনাক্ত করা গিয়েছে। চাঁদের বুকে ৭৪টি জায়গার আগের ৫৬২ এবং পরের ৫৬২টি ছবি মিলিয়ে দেখে বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা। ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রেই নতুন কোনও বিপর্যয়ের জেরে ধস নেমেছে, যা চন্দ্রকম্পনের দরুণই হয়েছে বলে মত তাঁদের। চাঁদের মাটিতে চন্দ্রকম্পনের কারণ এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি। তবে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে, চাঁদের অন্তঃস্থল এখনো সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘বিহারিবাবু’র কাণ্ড! নীতীশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ন সিন্হা; অবগত দলনেতা অভিষেক
এর আগে, আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছিল, অ্যাপোলো অভিযানের সময় মহাকাশচারীরা চাঁদের মাটিতে যে সিসমোমিটার বসিয়ে আসেন, তাতে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত হাজার হাজার কম্পন ধরা পড়ে (যদিও এই অভিযান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে )।
যাইহোক ২০২৩ সালে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) চন্দ্রযান-৩ অভিযানের সময় ল্যান্ডার বিক্রম যে সঙ্কেত প্রদান করে সেটা চাঁদ নিয়ে গবেষণার নতুন দিক খুলে দেয় । যা চিনের বিজ্ঞানীদের গবেষণাকে পরের ধাপ মনে করা হচ্ছে । চাঁদে কেনো কম্পন হয় তার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে চিনের ‘চ্যাং-৮’ অভিযানে চাঁদের বুকে সিসমোমিটার বসানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বসানো হবে সেটি। ২০২৯ সালে ওই অভিযান চালাবে চিন। বিজ্ঞানীদের মতে, কম্পনের উৎসস্থল শনাক্ত করা গেলে অনেক কিছু অজানা রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে।









