কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলিকে সংবেদনশীল, উসকানিমূলক বা আইন ভঙ্গ করতে পারে এমন কনটেন্ট সম্প্রচার না করার বিষয়ে নতুন করে সতর্ক করল। সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার জারি করা এই পরামর্শনামায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—রেড ফোর্ট বিস্ফোরণ মামলায় জড়িত সন্দেহভাজনদের এমনভাবে দেখানো হচ্ছে যা তাদের সহিংস কার্যকলাপকে সমর্থন বা ন্যায্যতা দেওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিছু সংবাদ চ্যানেল এমন ভিডিও এবং তথ্য সম্প্রচার করেছে যা বিস্ফোরক তৈরি করার “পদ্ধতি” হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। সরকারের মতে, এই ধরনের কনটেন্ট অনিচ্ছাকৃতভাবে সহিংসতা উসকে দিতে পারে, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
আরও পড়ুনঃ পাচারের ছক! শিলিগুড়ি রেলওয়ে জংশন থেকে উদ্ধার চার নাবালিকা
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় মনে করিয়ে দিয়েছে যে, সম্প্রচার সংক্রান্ত সমস্ত স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলকে কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক অ্যাক্ট, ১৯৯৫–এর অধীনে প্রোগ্রাম ও বিজ্ঞাপন কোড কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
বিশেষত Rule 6(1)(d), 6(1)(e), এবং 6(1)(h)–এর উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানায়:
- কোনো কনটেন্ট অশ্লীল, মানহানিকর, মিথ্যা বা ইঙ্গিতপূর্ণ হওয়া যাবে না
- সহিংসতা উসকে দেওয়া বা আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার মতো কিছু দেখানো যাবে না
- এমন কোনো বিষয় প্রচার করা যাবে না যা দেশের অখণ্ডতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বা রাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব প্রচার করে
মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, বিভিন্ন সম্প্রচারিত ভিডিওতে এমন ভিজ্যুয়াল দেখা গেছে যা আইনবিরুদ্ধ কার্যকলাপকে “সহায়তা বা উৎসাহ” দেওয়ার মতোভাবে উপস্থাপিত হতে পারে। তাই চ্যানেলগুলিকে উচ্চমাত্রার সতর্কতা, সংবেদনশীলতা এবং বিবেচনাবোধ বজায় রেখে রিপোর্টিং করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রেড ফোর্ট বিস্ফোরণ মামলার তদন্ত চলার সময় কিছু সংবাদমাধ্যম সন্দেহভাজনদের সাক্ষাৎকার, ভিডিও ফুটেজ বা তাদের কার্যকলাপের ব্যাখ্যা হিসেবে উপস্থাপিত কিছু তথ্য প্রচার করেছে। সরকারি সূত্রের মতে, কিছু রিপোর্টে বিস্ফোরক তৈরির উপায় বা ডিভাইসের কাঠামো সংক্রান্ত এমন কনটেন্ট দেখানো হয়েছে যা বিপজ্জনক।
আইএন্ডবি মন্ত্রণালয় মনে করছে, এই ধরনের কনটেন্ট দেশের নিরাপত্তা সংস্থার কাজকেও প্রভাবিত করতে পারে। পাশাপাশি, সংবাদমাধ্যমের ভুল ব্যাখ্যা বা অতিরঞ্জিত উপস্থাপনা জনগণের মধ্যে অস্থিরতা বা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
মন্ত্রণালয় পরিষ্কার করে জানিয়েছে—
সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ হলেও, সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য।
আরও পড়ুনঃ বিভিন্ন প্রান্তে বন্ধ এক্স অ্যাকাউন্ট, বহু ওয়েবসাইট খুলছে না! প্রভাব ভারতেও
চ্যানেলগুলোকে বলা হয়েছে:
- তদন্তাধীন মামলায় অনুমান-ভিত্তিক কনটেন্ট বা অপরাধীকে মহিমান্বিত করার মতো উপস্থাপনা বন্ধ করতে হবে
- বিস্ফোরক তৈরির পদ্ধতি বা কোনো বিপজ্জনক কৌশল দেখানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
- সন্দেহভাজনদের এমন ছবি বা বক্তব্য প্রচার করা চলবে না যা জনগণের আবেগ উত্তেজিত করতে পারে
- সহিংসতা, বিদ্বেষ বা বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী কোনো গ্রাফিক্স বা রিক্রিয়েশন দেখানো যাবে না
হ্যাঁ। জাতীয় নিরাপত্তা বা জঙ্গি কার্যকলাপ জড়িত তদন্তের সময় কেন্দ্র প্রায়ই মিডিয়াকে সংবেদনশীলতার সঙ্গে কভারেজ করতে নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে রয়েছে:
- ২৬/১১ মামলার সময়
- পুলওয়ামা হামলার পর
- বিভিন্ন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলাকালীন
কেন্দ্রের যুক্তি—আইনের শাসন বজায় রাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করার ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল বা বিপজ্জনক তথ্য ছড়ালে তা তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত ব্রডকাস্টার বা সম্পাদকীয় সংগঠনগুলো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সংবাদমাধ্যম সাধারণত এই ধরনের নির্দেশকে “সতর্কতা” হিসেবে গ্রহণ করে। বেশিরভাগ বড় মিডিয়া হাউস তদন্তাধীন মামলার সংবেদনশীল ফুটেজ প্রচারে আগেই কিছু সীমাবদ্ধতা বজায় রাখে।
আইএন্ডবি মন্ত্রণালয়ের এই পরামর্শনামাটি মূলত সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীলভাবে তথ্য পরিবেশনের কথা মনে করিয়ে দেয়। সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনতা প্রদান করা হলেও, সহিংসতা, সন্ত্রাস বা জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত রিপোর্টিংয়ে সতর্কতা বজায় রাখা রাষ্ট্রের ও সমাজের স্বার্থ রক্ষার জন্য অপরিহার্য।









