spot_img
Thursday, 15 January, 2026
15 January
spot_img
HomeদেশLeft Leader’s: মহিলাদের একমাত্র কাজ বিছানা গরম করা! বিস্ফোরক বাম নেতা

Left Leader’s: মহিলাদের একমাত্র কাজ বিছানা গরম করা! বিস্ফোরক বাম নেতা

মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি একযোগে তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

কেরলের পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বাম সমর্থিত নির্দল প্রার্থী সইদ আলি মাজিদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে গৃহবধূ ও মহিলাদের নিয়ে চরম নারী-বিদ্বেষী মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। তাঁর সেই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি একযোগে তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ জারি হবে নির্দেশ! যুবভারতীতে গচ্চা যাওয়া অর্থ দর্শকদের ফেরত দেওয়াই এখন অগ্রাধিকার নবান্নের?

নির্বাচনে মাত্র ৪৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পর একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাজিদ বলেন, বিয়ে করে আসা মহিলাদের ভোট বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সামনে আনা উচিত নয়। এই বক্তব্যের মাঝেই তিনি বলেন, “মহিলাদের কাজ শুধু স্বামীর সঙ্গে শোয়া”—যা মুহূর্তের মধ্যে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে। সামাজিক মাধ্যমে বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

শুধু এখানেই থামেননি ওই নেতা। তাঁর বক্তব্যে কেরলের মুসলিম লিগের মহিলা শাখাকেও আক্রমণ করা হয়। মাজিদের দাবি, মুসলিম লিগের মহিলা সভাপতি একটি ভিডিও বার্তায় বলেছেন যে মুসলিম লিগ নিয়ে মানুষের সমালোচনা করা উচিত নয়। এর জবাবে মাজিদ বলেন, “আপনি যদি রাজনীতিতে থাকেন, তাহলে পানাক্কাড়ের থাঙ্গালদের কথাও বলা হবে। যাঁদের কথা শোনার সাহস আছে, কেবল তাঁরাই রাজনীতিতে নামবেন। না হলে আপনারা বাড়িতে গৃহবধূ হয়েই থাকুন।”

এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এটি শুধু রাজনৈতিক শালীনতা লঙ্ঘন নয়, বরং নারীর মর্যাদা ও অধিকারের উপর সরাসরি আঘাত। কংগ্রেস, বিজেপি এবং মুসলিম লিগের নেতারা মাজিদের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন।

বিতর্ক আরও বাড়ে যখন মাজিদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এই কারণেই বলা হয়, বিয়ে হয়ে গেলে তোমাদের কাজ শ্বশুরবাড়ির দেখাশোনা করা। যদি রাজনীতিতে ঢোকো, তাহলে আরও বেশি কথা শুনতে হবে। যদি তা সহ্য করতে না পারো, তাহলে রাজনীতিতে থাকার দরকার নেই।” অনেকের মতে, এই মন্তব্য কেবল নারীবিদ্বেষী নয়, বরং রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করার একটি বিপজ্জনক বার্তা বহন করছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ নিয়েও তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। মাজিদ বলেন, “আমার বক্তব্যের জন্য যদি আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়, তাহলে আমি জানি কীভাবে তা সামলাতে হবে।” এই মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে তিনি কি আইন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অবজ্ঞা করছেন?

আরও পড়ুনঃ আচার্য পদ নিয়ে জোর ধাক্কা মমতার, মুখ্যমন্ত্রীর বিল ফেরালেন রাষ্ট্রপতি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেরলের মতো শিক্ষিত ও সামাজিকভাবে সচেতন রাজ্যে এই ধরনের মন্তব্য শুধু একজন ব্যক্তির ভাবনাকেই নয়, বরং রাজনীতিতে নারীদের ভূমিকা নিয়ে গভীর সংকটকেই তুলে ধরছে। মহিলা সংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই ঘটনার পর বাম শিবিরও অস্বস্তিতে পড়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রার্থী নির্দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তবুও তাঁর বাম সমর্থনের বিষয়টি সামনে আসায় রাজনৈতিক দায় এড়ানো কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কেরলের রাজনীতিতে এই বিতর্ক কতদূর গড়ায় এবং প্রশাসন বা নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন