শনিবার ভোরে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। শহর জুড়ে সাইরেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা এবং প্রশাসনের তরফে সাধারণ মানুষকে বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ – সব মিলিয়ে ফের যুদ্ধের ভয়াবহতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল রাশিয়ার এই আচমকা হামলা।
আরও পড়ুনঃ দীপু হত্যায় ভারত চুপ কেন? ‘আর উপেক্ষা নয়’ বিবৃতিতে ঝাঁজ বাড়াল মোদি সরকার
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী সোশ্যাল মিডিয়ায় জানায়, দেশের একাধিক অঞ্চলের পাশাপাশি রাজধানী কিভের আকাশেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়ে কিভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে পোস্ট করে বলেন, “রাজধানীতে বিস্ফোরণ হচ্ছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে। সবাই বাঙ্কারে থাকুন।”
এএফপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। কিছু ক্ষেত্রে উজ্জ্বল আলোয় আকাশ কমলা রঙে ভরে ওঠে। কিভের আকাশে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে দেখা যায় এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে। পাশাপাশি, একাধিক অনানুষ্ঠানিক টেলিগ্রাম চ্যানেলেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
সেনা-সংক্রান্ত একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের দাবি, কিভ লক্ষ্য করে ক্রুজ মিসাইল ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ছোড়া হয়েছে।
এই হামলা এমন এক সময় হল, যখন মাত্র দু’দিন পর যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির। প্রায় চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যে ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে, সেই চুক্তির খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করতেই জেলেনস্কির ফ্লোরিডা সফর।
রবিবারের এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষে পরিণত হওয়া এই যুদ্ধে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক দশক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। ট্রাম্প এই যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা আরও জোরদার করছেন বলেই জানা যাচ্ছে।
এদিকে রাশিয়ার অভিযোগ, জেলেনস্কি এবং তাঁর ইউরোপীয় সমর্থকেরা এই মার্কিন মধ্যস্থতাধীন শান্তি পরিকল্পনাকে ভেস্তে দিতে চাইছেন। রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় টেলিভিশনে বলেন, “চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে কোনও সমঝোতা সম্ভব হবে কিনা, তা নির্ভর করবে আমাদের কাজ এবং অপর পক্ষের রাজনৈতিক সদিচ্ছার উপর।”
তিনি আরও বলেন, “বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে, যখন কিভ এবং তাদের কিছু মদতদাতা, বিশেষত ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে যারা এই চুক্তির পক্ষে নয়, তারা এটিকে বানচাল করার চেষ্টা জোরদার করেছে।”
সব মিলিয়ে, ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকের ঠিক আগেই কিভে এই রুশ হামলা শুধু সামরিক চাপ নয়, কূটনৈতিক বার্তাও বহন করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকেরা।









