দেবজিৎ মুখার্জি, কলকাতাঃ
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে তীব্র সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। বুধবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দলের ৯ জন সাংসদ। বৈঠক শেষে বেরিয়েই সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন অভিষেক।
আরও পড়ুনঃ আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা; খালেদার শেষযাত্রায় মানুষের ঢল
তিনি দাবি করেন, “ভোট চুরি আর ইভিএম-এ হচ্ছে না। ভোট চুরি হচ্ছে ভোটার তালিকা থেকে। নির্বাচন কমিশন যে সফটওয়্যার ব্যবহার করে, সেই সফটওয়্যার দিয়েই বিহারের ভোট চুরি হয়েছে। বাংলায় আসন্ন নির্বাচনেও একইভাবে চুরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিহারে কংগ্রেস ধরতে পারেনি, কিন্তু আমি এই ভোটচুরির রহস্যভেদ করে ফেলেছি।”অভিষেক জানান, বৈঠকে তাঁরা কমিশনকে একাধিক কঠিন প্রশ্ন করেছিলেন, কিন্তু তার একটিরও সন্তোষজনক উত্তর পাননি।
বিশেষ করে SIR প্রক্রিয়ায় বাংলার ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৫৮ লক্ষ নামের মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা বা অনুপ্রবেশকারী ছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি জ্ঞানেশ কুমার। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, এ ধরনের কোনও ডেটা তাদের কাছে নেই। অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কীভাবে এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়া হল? তিনি অভিযোগ করেন, জীবিত এবং বৈধ ভোটারদের নামও বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
এছাড়া বাংলায় অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অনেক কম সংখ্যক নাম বাদ পড়ার পরেও কেন মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নেরও কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি। অভিষেক বলেন, “প্রশ্নের চাপে জ্ঞানেশ কুমার মেজাজ হারিয়ে আঙুল তুলে কথা বলেছেন। এটা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন।” তিনি দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়াটি বিজেপির নির্দেশে চালানো হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে বিরোধীদের ভোটারদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে।
আরও পড়ুনঃ “নতুন বছর শুরু হবে জানুস দেবতার সম্মানে”-ঘোষণা করলেন রোমান সম্রাট; নববর্ষের ইতিহাস
বিহারের নির্বাচনে এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে ফলাফল ম্যানিপুলেট করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, নদীমুল হক সহ অন্যান্যরা। বৈঠকে তারা ভোটার তালিকা সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আপত্তি জানান। অভিষেক বলেন, “আমরা কমিশনকে বলেছি, যদি সত্যিই অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দিতে হয়, তাহলে ডেটা দেখান। কিন্তু তারা কোনও প্রমাণ দিতে পারেননি। এটা স্পষ্ট যে, বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলোতে ভোটারদের হয়রানি করাই লক্ষ্য।”’
এখানেই থেমে থাকেনি বিতর্ক। অভিষেক জ্ঞানেশ কুমারকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন তিনি যেন বৈঠকের সিসিটিভি ফুটেজ সকলের সামনে প্রকাশ করেন। কারণ নির্বাচন কমিশন পরে তার অভিযোগ অস্বীকার করতে পারে। অভিষেদক আরও বলেন নির্বাচন কমিশনের যদি সৎ সাহস থাকে তবে নিচে এসে সংবাদ সম্মেলন করুন এবং সকলের সামনে স্বীকার করুন কিভাবে বাংলায় ভোট চুরি করার চেষ্টা করছে বিজেপি এবং কমিশন।









