spot_img
Thursday, 15 January, 2026
15 January
spot_img
Homeদক্ষিণবঙ্গPanihati: ধাক্কাধাক্কি-মারপিট, উৎসব পরিণত হল উৎ-শবে! পানিহাটি উৎসবে মৃত্যু এক যুবকের

Panihati: ধাক্কাধাক্কি-মারপিট, উৎসব পরিণত হল উৎ-শবে! পানিহাটি উৎসবে মৃত্যু এক যুবকের

মা গঙ্গা সরকার কান্না ভেঙে বলেন, “ছেলেকে মঞ্চের পিছন দিকের গলিতে ঢুকিয়ে রাস্তায় ফেলে ২০–২২ জন পেটে লাথি মারছিল।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

পানিহাটির উৎসব মঞ্চে গানের তালে নাচানাচি করতে গিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা বেধে যায়। ওই বচসার জেরে এক যুবককে মেলার মাঠ থেকে তুলে নিয়ে বাইরে একটি গলিতে বেধড়ক মারধর করা হয়। বুধবার রাতে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। প্রশ্ন উঠেছে, পর্যাপ্ত পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন ঘটতে পারল। নিহত যুবকের পরিবার, প্রতিবেশী ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো উৎসব কমিটির ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ সময় এগিয়ে আসছে, ডেডলাইন ২০৩২; ‘মৃত্যু’ এগিয়ে আসছে চাঁদের; জানিয়ে দিল নাসা

নিহত যুবকের নাম তন্ময় সরকার (২৮)। তিনি ঘোলা অপূর্বনগরের বাসিন্দা। ২৮ ডিসেম্বর তাঁকে মারধর হয়। বুধবার রাতেই আরজি কর হাসপাতালে মৃত্যু হয়। তরুণ তন্ময়ের মৃত্যু খবর বাড়িতে পৌঁছতেই পরিবারে নেমেছে শোকের ছায়া। বৃহস্পতিবার খড়দহ থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, শাসকদলের স্থানীয় বিধায়কের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত উৎসবের মাঠে এই মৃত্যুর দায় কেন উৎসব কমিটিই নেবে না।

পানিহাটি অমরাবতী মাঠে উৎসব শুরু হয়েছিল ২০ ডিসেম্বর এবং শেষ হয় ৩১ ডিসেম্বর। রবিবার উৎসবের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী অঙ্কিত তিওয়ারি। তন্ময়সহ চার বন্ধু সেখানে গান উপভোগ করতে গিয়ে নাচানাচি করতে থাকে। ভিড়ে ধাক্কাধাক্কির সময় মদ্যপ অবস্থায় থাকা আরেকদল যুবকের সঙ্গে তাদের বচসা হয়। শুরু হয় হাতাহাতি। পরে অন্য দর্শকদের মধ্যস্থতায় হাতাহাতি সাময়িকভাবে থেমে যায়।

তন্ময় বন্ধুদের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে মেলার বাইরে গলিতে তুলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। রাস্তায় একাধিকজন পেটে লাথি, কিল, চড় ও ঘুষি মারে। সেখান থেকে তন্ময় অসহায় অবস্থায় বাড়ি পৌঁছান। রাতভর বমি শুরু হয়। তাঁকে প্রথমে পানিহাটি ও কামারহাটি সাগর দত্ত হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় আরজি কর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বুধবার রাতে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত যুবকের মা গঙ্গা সরকার কান্না ভেঙে বলেন, “ছেলেকে মঞ্চের পিছন দিকের গলিতে ঢুকিয়ে রাস্তায় ফেলে ২০–২২ জন পেটে লাথি মারছিল। ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না।”

আরও পড়ুনঃ কোচবিহারের রাজনীতিতে উত্তেজনা! পুরাতন পোস্ট অফিসের মাঠে বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী

পুলিশ জানিয়েছে, এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করা হচ্ছে। তবে এটি প্রথম ঘটনা নয়। ২০২৩ সালে একই উৎসবের মাঠে এক মহিলা পুলিশকর্মীকে হেনস্থা করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনকে এবার মঞ্চের সামনের সারিতেও দেখা গিয়েছে।

বিজেপি নেতা জয় সাহা বলেছেন, “উৎসবের মাঠে বিধায়ক, কাউন্সিলার ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতেও গত কয়েক বছর ধরে এই ধরনের অব্যবস্থা ঘটে আসছে। এই মৃত্যুর দায় উৎসব কমিটিকেই নিতে হবে।”

পানিহাটির বিধায়ক এবং উৎসব কমিটির সভাপতি নির্মল ঘোষ বলেন, “অঙ্কিত তিওয়ারি আসার দিন লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হয়েছিল। মেলার ভিতরে কিছু হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। মেলার বাইরে যা ঘটেছে, তার দায় উৎসব কমিটির নয়।”

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন