আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি হানার প্রতিবাদে শুক্রবার থেকেই রাস্তায় নামছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে প্রতিবাদ মিছিল শেষ হবে হাজরা মোড়ে।
আরও পড়ুনঃ বাড়ছে রহস্য! পালানোর জন্য রাষ্ট্রপতি শাসন আনতে চাইছেন মমতা!
আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশির নামে ইডিকে ব্যবহার করে বিজেপি তৃণমূলের নির্বাচনী নথি ‘চুরি’ করেছে, এমনই গুরুতর অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসের সামনে দাঁড়িয়েই তিনি দলের পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইডির এই অভিযানের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেল চারটে থেকেই রাজ্যের ব্লকে ব্লকে মিছিল করবে তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁর কথায়, “যেভাবে ইডিকে দিয়ে বিজেপি ডাকাতি করেছে, তার প্রতিবাদেই আজ বিকেলে আমাদের কর্মীরা পথে নামবেন।”
মমতার অভিযোগ, ভোর ছ’টা থেকে এই অভিযান শুরু করা হয়, এমন সময়ে যখন অফিসে প্রায় কেউই ছিলেন না। “ইলেকশন আর এসআইআর সংক্রান্ত আমাদের সমস্ত রাজনৈতিক ডেটা ওরা চুরি করেছে। এটা একটা অপরাধ। আইপ্যাক কোনও প্রাইভেট অর্গানাইজেশন নয়, এটা তৃণমূলের অথরাইজড টিম। সেই টিমের কাজ থেকে সব কাগজ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। টেবিল ফাঁকা করে দিয়েছে। আবার নতুন করে সব করতে গেলে ইলেকশনই পেরিয়ে যাবে,” বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “আপনাদের অফিসে যদি আমরা এ ভাবে ঢুকি, তা হলে আপনারা কি মেনে নেবেন?” মমতার দাবি, যদি কোনও তথ্যের প্রয়োজন থাকত, তবে ইডি বা আয়কর দফতর থেকেই তা সংগ্রহ করা যেত। তাঁর কটাক্ষ, “বিজেপিই দেশের সবচেয়ে বড় ডাকাত।”
আরও পড়ুনঃ রাজ্যপালকে খুনের হুমকি! তড়িঘড়ি খবর গেল শাহের কাছে
ইডির হানা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর তৎপরতাকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অনৈতিক। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, তদন্ত বা ইডি-র তল্লাশি সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না।
শুভেন্দু জানান, তদন্তের বিষয়বস্তু নিয়ে তিনি কথা বলবেন না, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাংবিধানিক সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ আগেও উঠেছে। তাঁর দাবি, ২০২১ সালে ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও মদন মিত্রকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে মমতা সিবিআইয়ের নিজাম প্যালেস দফতরের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন। একইভাবে রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই তল্লাশির সময়েও তিনি তৎকালীন পুলিশ কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে ধর্না দিয়েছিলেন।









