রামায়ণ কি শুধুই কল্পনা? ২০০৭ সালের সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা ও অকাট্য যুক্তি।
অনেকের কাছে এটি কেবল আবেগ, কিন্তু আইনি ও বৈজ্ঞানিক দলিলে সত্যটা বেশ কঠিন। ২০০৭ সালে ভারত সরকার এবং ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (ASI) সুপ্রিম কোর্টে যে হলফনামা জমা দিয়েছিল, তার মূল নির্যাস ছিল এটাই— রামায়ণ একটি কাল্পনিক মহাকাব্য।
আরও পড়ুনঃ আঁউনী-বাউনী উৎসব! নিজস্ব রীতিতে উত্তরবঙ্গেও সারম্বরে পালিত হয়, পৌষ পার্বণ
কেন এই দাবি করা হয়েছিল? এর পেছনে মূল লজিকগুলো দেখুন:
প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের অভাব:
সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া রিপোর্টে পরিষ্কার বলা হয়েছিল যে, রামচন্দ্র বা রামায়ণের চরিত্রগুলোর ঐতিহাসিক কোনো অস্তিত্বের ভৌত প্রমাণ (Physical Evidence) নেই। মাটির নিচে এমন কোনো শিলালিপি, মুদ্রা বা কাঠামো পাওয়া যায়নি যা প্রমাণ করে যে রামায়ণ কোনো বাস্তব ইতিহাস।
সাহিত্যের সীমানা:
যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, রামায়ণ একটি অসাধারণ সাহিত্য বা মহাকাব্য (Epic)। যেমনটা ইলিয়াড বা ওডিসি। প্রাচীন কবিদের কল্পনাপ্রসূত কাহিনী হিসেবেই একে গণ্য করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি মহাকাব্যের নায়ক হন, তবে তিনি বাস্তব নাও হতে পারেন— এটাই ছিল আইনের স্পষ্ট অবস্থান।
আরও পড়ুনঃ ১৩১ বছর আগে আমেরিকাকে দেওয়া ফ্রান্সের উপহার! স্বাধীনতার প্রতীক লেডি লিবাটি
সেতু বনাম প্রাকৃত গঠন:
তথাথিত ‘রামসেতু’ বা অ্যাডামস ব্রিজকে বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে সমুদ্রের তলায় একটি প্রাকৃতিক বালির চড়া বা ‘Natural Formation‘ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এটি মানুষের তৈরি কোনো ব্রিজ বা অলৌকিক কিছু— এমন দাবির পক্ষে কোনো ভূতাত্ত্বিক প্রমাণ মেলেনি।
সিদ্ধান্ত:
আইন এবং বিজ্ঞান চলে প্রমাণের ওপর, আবেগের ওপর নয়। ২০০৭ সালের সেই হলফনামা অনুযায়ী, রামায়ণ মানুষের গভীর বিশ্বাসের ওপর টিকে আছে ঠিকই, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় এর কোনো বাস্তব বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বিজ্ঞানের মানদণ্ডে যা প্রমাণ করা যায় না, তাকে কাল্পনিক বলাই যুক্তিসঙ্গত।
আপনার কাছে কি বিশ্বাস বড় নাকি তথ্য?









