spot_img
Thursday, 15 January, 2026
15 January
spot_img
Homeআন্তর্জাতিক নিউজAwami League: 'নো বোট, নো ভোট', নৌকা ছাড়া নির্বাচন অবৈধ, দাবি আওয়ামী...

Awami League: ‘নো বোট, নো ভোট’, নৌকা ছাড়া নির্বাচন অবৈধ, দাবি আওয়ামী লিগের

হাসিনা শুরুতেই বলেছেন, 'ফ্যাসিস্ট ইউনুসের অগণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশ নেবেনা বাংলাদেশ।‌ নো বোট নো ভোট।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে দেওয়া হচ্ছে না দেশটির সবচেয়ে পুরনো দল আওয়ামী লিগকে। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার লড়াইয়ের প্রধান সংগঠক এই দলটির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাস দমন আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দলটির কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লিগ। গত মাসে দ্য ওয়ালের জানানো হয়েছিল শেখ হাসিনার দল শেষ পর্যন্ত ভোট বয়কটের পক্ষে হাঁটতে পারে। তবে সরাসরি এই সিদ্ধান্ত তারা নেয়নি। শেখ হাসিনা গত দু’মাস যাবত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বারে বারে বলেছেন, তাঁর দল নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। শেষ পর্যন্ত সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে বাংলাদেশের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আওয়ামী লিগ নেতারা বলছেন, শুধু নৌকা প্রতীকের ৪০ শতাংশ সমর্থকেরাই নন, কুড়ি শতাংশের মতো ফ্লোটিং ভোটারও আগামী মাসের নির্বাচনে বুথে যাবেন না। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত দিনে ভোট হবে কিনা তা নিয়েও সংশয় আছে।

আরও পড়ুনঃ তিন দফা দাবিতে জেলাশাসকের দফতরের সামনে আদিবাসী সিঙ্গেল অভিযানের অনির্দিষ্টকালীন ধরনা

আওয়ামী লিগের শীর্ষ নেতৃত্ব‌ শেখ হাসিনার তরফে ভোট বয়কটের ডাক দিয়ে একটি বার্তা প্রচার করেছে। ওই বার্তাই লিফলেটে ছেপে প্রচার করবে দল। ওই বার্তায় হাসিনা শুরুতেই বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট ইউনুসের অগণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশ নেবেনা বাংলাদেশ।‌ নো বোট নো ভোট।’।

যে ব্যালটে নৌকা প্রতীক থাকবে না, যে নির্বাচনে আওয়ামী লিগ অংশগ্রহণ করতে পারবে না, সেখানে আমাদের সমর্থক, কোনও ভোটার, নৌকার ভোটাররা কেউ ভোট কেন্দ্রে যাবে না। ভয়-ভীতি, হত্যা, সন্ত্রাস, গ্রেফতার, হুমকি, অত্যাচার, দমন-পীড়ন, গুম, খুন, অপহরণ নিষ্ঠুর মবসন্ত্রাস,  যাই করুক না কেন তারা ভোট দিতে যাবে না, গণতন্ত্র প্রিয় দেশবাসীর কাছে এই বার্তাটি পৌছে দিন।

আওয়ামী লিগ নেত্রী বলেছেন, প্রিয় দেশবাসী, আমাদের সংগ্রামী শুভেচ্ছা, সালাম ও  অভিবাদন গ্রহণ করুন। ​​আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশর আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গভীর সংকট থেকে ভয়াবহ বিপর্যয়ে নিপতিত হয়েছে। অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলকারী—খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনুসের দানবীয় দুঃশাসনের তাণ্ডবে দেশ আজ লণ্ডভণ্ড, এ যেন এক ক্ষতবিক্ষত বিপন্ন জনপদ, সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামল প্রিয় স্বদেশভূমি আজ গণশত্রু ইউনুসের ফ্যাসিস্টতন্ত্রের তাণ্ডবের জাঁতাকলে পিষ্ট আজ দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণ। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নির্বাসিত। ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন অনুপস্থিত, নারীর প্রতি চলছে সহিংসতা, শিল্পাঙ্গনে অরাজকতা, দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার বহুমাত্রিক ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। অগণিত অবর্ণনীয় দুর্ভোগ আর ভয়াবহ পরিকল্পনায় একটি নীল নকশার নির্বাচন অনুষ্ঠানের পাঁয়তারা করছে।

হাসিনার দল এই সন্ধিক্ষণে দলের তরফে বেশ কিছু দাবি পেশ করেছে। সেগুলি হল, * অবিলম্বে অসাংবিধানিক পথে ক্ষমতা দখলদার ইউনুসকে পদত্যাগ ও জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের সভাপতি দেশরত্ন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিদ্বেষপ্রসূত প্রতিহিংসামূলক প্রহসনের রায় বাতিল করতে হবে এবং দায়েরকৃত সকল ভিত্তিহীন মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ আঁউনী-বাউনী উৎসব! নিজস্ব রীতিতে উত্তরবঙ্গেও সারম্বরে পালিত হয়, পৌষ পার্বণ

একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানা; দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, টিউলিপ সিদ্দিক, রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক সহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল প্রহসনের রায় বাতিল ও সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ ও ১৪ দলীয় জোটের জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ তৃণমূল পর্যন্ত ছাত্র-যুবক, কৃষক শ্রমিক, রাজনৈতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, সংস্কৃতিকর্মী সাংবাদিক, নারী জনপ্রতিনিধি, জনপ্রশাসন, সশস্ত্রবাহিনী, পুলিশ সহ সকল শ্রেণি পেশার স্বাধীনতার সপক্ষের গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক নেতা কর্মীদের অনতিবিলম্বে মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

সুমহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও জাতিগত সকল মহতি অর্জনের নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যমণ্ডি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং ইউনুসের পদলেহী নির্বাচন কমিশন কর্তৃক দলীয় নিবন্ধন স্থগিতকরণ এবং গণতন্ত্র বিরোধী স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। বাংলাদেশ ছাত্রলিগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকল গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠন ও ছাত্র যুব পেশাজীবী সংগঠন সমুহকে রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও পার্বত্য এলাকায় বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ওপর অব্যাহত হত্যা, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, দখল, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, উপাসনালয় ভাঙচুর সহ বহুমাত্রিক নিপীড়ন-নির্যাতন বন্ধ করতে দেশব্যাপী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে তাদের নির্বিঘ্নে ও স্ব স্ব ধর্ম পালনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

দেশে বিদ্যমান আর্থ- সামাজিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ক্রমাবনতিশীল ধারায় বিরাজনীতিকরণ রোধ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার উন্নয়নে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের বাস্তবতা অনস্বীকার্য; যে নির্বাচনে মানুষ অবাধ, মুক্ত, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রতিনিধি ও সংগঠনকে নির্বাচিত করতে পারবে। কিন্তু খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনুস এই বাস্তবতাকে অগ্রাহ্য করে তথাকথিত প্রহসনের নির্বাচন করতে উদ্যত হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ ও তার নেতৃত্বাধীন জোট অর্থাৎ স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি অধিকাংশ ভোটারের সমর্থন পুষ্ট জোট। তাই নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ ব্যতিরেকে কোনও অবস্থাতেই জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হতে পারে না। এই নির্বাচন সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণহীন অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে না এবং দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না।

অতএব বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ সহ সকল রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। অধিকাংশ ভোটার ও জনসাধারণের সমর্থনপুষ্ট রাজনৈতিক জোটকে নির্বাচনের বাইরে রেখে অর্থবহ কোনও নির্বাচন হতে পারে না। বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে গণতান্ত্রিক পৃথিবীর নিকট এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায়। অতএব, বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের অংশগ্রহণ ব্যতিরেক যে কোনও নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়াস ফলপ্রসু হবে না বরং সুদূরপ্রসারী সংকট ডেকে আনবে। প্রয়োজনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

আওয়ামী লিগ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেছে, আসুন দেশের এই ভয়াবহ সংকটকালে দেশ বাঁচাতে, মানুষ বাঁচাতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠাকল্পে স্বাধীনতার সপক্ষের সকল গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তি-সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হই, দানবীয় দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এই সংগ্রামে জয়লাভ করতে হবে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন