spot_img
Thursday, 15 January, 2026
15 January
spot_img
Homeউত্তরবঙ্গSiliguri: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি সচল করছে ভারত; শিলিগুড়ি করিডর ঘিরে বাড়ছে...

Siliguri: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি সচল করছে ভারত; শিলিগুড়ি করিডর ঘিরে বাড়ছে সতর্কতা

এই রানওয়েগুলোকে এমনভাবে প্রস্তুত রাখা হবে যেন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেনা মোতায়েন, রসদ সরবরাহ বা উদ্ধার অভিযানে ব্যবহার করা যায়।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ

বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি জোরদার করতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি সচল করছে ভারত, শিলিগুড়ি করিডর ঘিরে বাড়ছে কৌশলগত সতর্কতা।

আরও পড়ুনঃ ‘নো বোট, নো ভোট’, নৌকা ছাড়া নির্বাচন অবৈধ, দাবি আওয়ামী লিগের

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক যখন সাম্প্রতিক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায়, ঠিক সেই সময় ভারতের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার পাঁচটি পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ বা বিমানঘাঁটি পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে নয়াদিল্লি।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে অবস্থিত এই পুরনো বিমানঘাঁটিগুলোকে আবার ব্যবহারযোগ্য করে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই করিডর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামেও পরিচিত, মূল ভূখণ্ড ভারতের সঙ্গে উত্তর-পূর্বের আটটি রাজ্যের একমাত্র স্থলসংযোগ। করিডরটির প্রস্থ কিছু জায়গায় মাত্র ২০–২৫ কিলোমিটার হওয়ায় এটি ভারতের সবচেয়ে স্পর্শকাতর কৌশলগত অঞ্চলের একটি।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম বড় কারণ হলো বাংলাদেশের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ। সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত এই ঘাঁটিটি শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতীয় সামরিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে লালমনিরহাট ঘাঁটি কেবল বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় প্রয়োজনে ব্যবহৃত হবে, তবুও নয়াদিল্লি কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।

এই প্রেক্ষাপটে ভারত সীমান্ত এলাকায় সামরিক প্রস্তুতি ঢেলে সাজাচ্ছে। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ‘লাচিত বরফুকন’ নামে তিনটি নতুন সেনাঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগকে এই বৃহত্তর প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব বিমানঘাঁটি বা এয়ারস্ট্রিপ সংস্কার করা হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার আমবাড়ি ও পাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদহের ঝালঝালিয়া এবং আসামের ধুবড়ি। এর আগে কোচবিহার এবং আসামের রূপসী বিমানবন্দর সফলভাবে সচল করা হয়েছে, যা ভারতীয় বিমান বাহিনীর জরুরি অপারেশনাল সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে Airports Authority of India পশ্চিমবঙ্গের এই বিমানক্ষেত্রগুলোর দায়িত্ব রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই রানওয়েগুলোকে এমনভাবে প্রস্তুত রাখা হবে যেন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেনা মোতায়েন, রসদ সরবরাহ বা উদ্ধার অভিযানে ব্যবহার করা যায়।

আরও পড়ুনঃ ঠান্ডা হাওয়া মানুষকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে; মকর সংক্রান্তিতে কেমন থাকবে বাংলার আবহাওয়া

তবে এই বিমানঘাঁটিগুলো পুনরায় সচল করার কাজ মোটেই সহজ নয়। প্রতিরক্ষা সূত্র জানাচ্ছে, কয়েক দশক অব্যবহৃত থাকার ফলে অনেক রানওয়ে এখন ঘন জঙ্গলে ঢাকা পড়ে গেছে, কোথাও ভেঙে পড়েছে অবকাঠামো, আবার কিছু ক্ষেত্রে রানওয়ের আশপাশে গড়ে উঠেছে জনবসতি। এসব কারণে বড় যুদ্ধবিমান পরিচালনার জন্য এই ঘাঁটিগুলো আপাতত উপযুক্ত নয়।

তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো, ন্যূনতম সংস্কার ও পরিষ্কারের মাধ্যমে এগুলোকে হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান বা ছোট সামরিক বিমানের জন্য উপযোগী করে তোলা। সংকটের সময়ে এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম দিয়েই দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব বলে মনে করছেন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তের ওপারে ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রেক্ষাপটে ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রতিরক্ষা অবকাঠামোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে এই বিমানঘাঁটিগুলোর পুনরুজ্জীবন সেই কৌশলগত ভাবনারই প্রতিফলন।

সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি বহন করা এই পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপগুলো আবার সক্রিয় হলে তা শুধু একটি অবকাঠামোগত প্রকল্প নয়, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হবে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন