দু’শো বছরের ঐতিহ্য, অথচ শিক্ষক-শূন্যতার ভারে কার্যত দিশেহারা শহরের সরকার পোষিত হিন্দু স্কুল। পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস করানোই হয়ে উঠছে দুষ্কর।

সেই অভিযোগকে সামনে রেখেই শুক্রবার স্কুল চত্বরে বিক্ষোভে শামিল হল বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই । বিক্ষোভে অংশ নেন স্কুলের পড়ুয়ারা এবং অভিভাবকরাও।
আরও পড়ুনঃ ‘ঘর ছেড়েছি নতুন ঘর বাঁধার জন্য নয়’; স্মৃতিকথায় বিমান
এসএফআইয়ের দাবি, রাজ্যের বহু সরকারি স্কুলের মতো হিন্দু স্কুলেও শিক্ষক-সঙ্কট ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিয়েছে। দিবা বিভাগের তিনটি সেকশনে যেখানে মোট ৪৬ জন শিক্ষক থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে ১৮টিরও বেশি পদ শূন্য। ইংরেজি, অর্থনীতি ও রসায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একজন করে শিক্ষক দিয়েই কোনওরকমে কাজ চালানো হচ্ছে। শরীরশিক্ষার জন্য নেই কোনও শিক্ষকই। অঙ্কের এক শিক্ষক স্বতঃপ্রণোদিতভাবে সেই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বলে অভিযোগ।
শিক্ষক-ঘাটতির জেরে একাধিক ক্ষেত্রে দু’টি সেকশন একসঙ্গে নিয়ে ক্লাস করাতে হচ্ছে। ইংরেজির জন্য একজন শিক্ষককেই ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সব ক্লাস নিতে হচ্ছে। যা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে মত শিক্ষামহলের।

ফলে সেই দায়িত্ব অনেক সময় গ্রন্থাগারিককে সামলাতে হচ্ছে। অঙ্ক বিভাগেও সমস্যা তীব্র। আগে যেখানে পাঁচ জন শিক্ষক ছিলেন, সম্প্রতি একজন অবসর নিয়েছেন। বাকি চার জনের মধ্যে দু’জনের অন্যত্র বদলির নির্দেশ এসেছে।
আরও পড়ুনঃ উত্তাল বেলডাঙা! ঝাড়খণ্ডে বাংলার শ্রমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
এই অবস্থায় বুধবার বর্তমান পড়ুয়াদের অভিভাবকদের একাংশ বিকাশভবনে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার চেষ্টা করেন। শিক্ষামন্ত্রী উপস্থিত না থাকায় তাঁর আপ্ত সহায়ক ও এক আধিকারিক সেই স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। এবার পথে নামল এসএফআইও। এসএফআইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, অবিলম্বে শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ এবং বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার না করা হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।









