খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে ভয়াবহ হামলার শিকার হলেন জি–২৪ ঘণ্টা-র সাংবাদিক সোমা মাইতি । অভিযোগ, বেলডাঙায় তাঁকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। হাত ও পায়ে জুড়ে গুরুতর আঘাত লাগে তাঁর। অতর্কিত এই হামলার পরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন সোমা।
কাঁদতে কাঁদতে সোমা বলেন, “এত বছর সাংবাদিকতা করছি, এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়িনি কখনও। দু’জন আমাকে পাঁজাকোলা করে তুলে নেয়। একজন চুল ধরে টানছিল, কেউ পা ধরে, কেউ জামা ধরে টানছিল। শরীরের এখানে ওখানে হাত দিচ্ছিল। আমার মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়।”
সোমার আরও অভিযোগ, ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিল, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। তাঁর কথায়, “বারবার পুলিশকে ডাকলেও কেউ উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি। যে ক’জন স্থানীয় মানুষ আমাকে বাঁচাতে এসেছিলেন, তাঁদেরও মারধর করা হয়। আমাদের ক্যামেরাম্যানের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
এই হামলার পটভূমিতে রয়েছে ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু। শুক্রবার সকালে মৃতদেহ গ্রামে ফিরতেই উত্তাল হয়ে ওঠে বেলডাঙা। জাতীয় সড়ক অবরোধ ও রেল রোকো কর্মসূচিতে নামেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দোষীদের শাস্তির দাবিতে সুজাপুর–কুমারপুর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তীব্র ক্ষোভ। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
মৃত শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখ (৩৭), বেলডাঙার সুজাপুর–কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। পেশায় ফেরিওয়ালা আলাউদ্দিন কাজের সূত্রে ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সেখানে তাঁর থাকার ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবার ও আত্মীয়দের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়—পরিকল্পিতভাবে মারধর করে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরও অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিক হওয়ার কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল।
এই অভিযোগ ঘিরেই এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বেলডাঙা। সেই পরিস্থিতিতে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন জি–২৪ ঘণ্টার সাংবাদিক সোমা মাইতি। পরে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুনঃ ইতিহাস জানা সোজা নয়! বীরভূমের ব্রহ্মদৈত্যের মেলা
বাম জমানার শেষ দিকে একটা সময়ে সাংবাদিকরা মারধর করা ও হেনস্থা করা প্রায় রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল। তখন কেশপুর, গোঘাট পর্ব চলছে। সাংবাদিকদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হত। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে এ ব্যাপারে একবার প্রশ্নও করা হয়েছিল। তিনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে প্রশ্নকর্তার দিকে একবার তাকিয়ে গট গট করে হেঁটে বেরিয়ে যান। পরবর্তী কালে সিপিএমের দলের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনও আলোচনা হয়েছিল কিনা জানা যায়নি। তবে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা বিক্ষিপ্তভাবে সেই পর্বে বেশ কিছু দিন ধরেই চলেছিল।
শুক্রবার বেলডাঙার ঘটনা অনেককে সেই পর্বের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, ভোটের আগে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা শাসক দলের জন্য ভাল নয়। প্রশাসনিক ভাবেই এই প্রবণতাকে দমন করা উচিত।









