আজ ১৭ই জানুয়ারি, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবাদপ্রতীম কমিউনিস্ট নেতা জ্যোতি বসুর মৃত্যুদিন। কিংবদন্তি রাজনীতিবিদের আরও এক প্রয়ান দিবসে ফিরে দেখা তাঁর বর্ণময় কর্মজীবন।
ভারত তথা রাজ্যের রাজনীতিতে জ্যোতি বসুর প্রাসঙ্গিকতা বরাবর শীর্ষস্থানে থেকেছে। আন্তর্জাতিক দুনিয়াতেও তাঁর খ্যাতি নেহাত কিছু কম ছিল না। আসল নাম জ্যোতিরিন্দ্র বসু। তবে জ্যোতি বসু নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি। ১৯১৪ সালের ৮ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। লরেটো স্কুল, সেন্ট জেভিয়ার্স এবং প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ধাপে ধাপে শিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। ১৯৩৫ সালে ইংল্যান্ডে চলে যান আইন নিয়ে পড়াশোনা করতে। সেখানেই রাজনীতির দুনিয়ায় তাঁর প্রবেশ ঘটে। বিদেশেই কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন জ্যোতি বসু। তাঁর বাবা নিশিকান্ত বসু ছিলেন পেশায় ডাক্তার। মা হেমলতা বসু ছিলেন একজন গৃহবধূ। উচ্চ মধ্যবিত্ত বাঙালি কুলীন কায়স্থ পরিবারের জ্যোতি বসু পরবর্তী সময়ে বাবার ডাক্তারির পেশার দিকে আকৃষ্ট হননি। বরং আইন নিয়ে পড়াশোনার প্রতি তাঁর বিশেষ ঝোঁক ছিল। তাই ইংল্যান্ডে চলে যান আইন নিয়ে পড়াশোনা করতে।
দেশে ফিরে ১৯৪০ সালে পাকাপাকিভাবে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন তিনি। শুরু থেকেই তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা ছিল প্রশ্নাতীত। অল্পদিনেই তৎকালীন সময়ের কমিউনিস্ট দলের শীর্ষ নেতাদের সুনজরে চলে আসেন জ্যোতি বসু। ১৯৪০ সালেই রেল শ্রমিকদের সংগঠনের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নেন তিনি। ধাপে ধাপে এরপর এগিয়ে চলে তাঁর রাজনৈতিক জীবন। অসম্ভব ভালো বক্তা আর সেই সঙ্গে অত্যন্ত মনোযোগী স্রোতাও তিনি। অল্প সময়ের মধ্যেই ভারতীয় রাজনীতিতে ব্যতিক্রমী এক গ্রহণযোগ্য নাম হয়ে ওঠেন জ্যোতি বসু। তাঁর নিজের দলের নেতাদের কাছে তো বটেই, এমনকী ঘোর বিরোধী নেতাদেরও জ্যোতি বসুর সঙ্গে নানা সময়ে শলা-পরামর্শ করতে দেখা গিয়েছে কিংবা শোনা গিয়েছে।
১৯৬৪ সালে সিপিআই মার্কসবাদী পার্টি গঠনে জ্যোতি বসুর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৭ সালে জ্যোতি বসুর নেতৃত্বেই রাজ্যে ক্ষমতায় আসে বামেরা। তারপর থেকে একটানা ২০০০ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে গিয়েছেন জ্যোতি বসু। মাঝে ১৯৯৬ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ‘সুবর্ণ সুযোগ’ চলে আসে তাঁর কাছে। তবে তাঁর দল CPIM ঐক্যমত্যে পৌঁছতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী হওয়া হয়নি জ্যোতি বসুর। সেই সময় জ্যোতি বসুর ‘ঐতিহাসিক ভুল’ ভাবনা আজও রীতিমতো চর্চায় ঘোরে-ফেরে।
আরও পড়ুনঃ আচমকাই ভারতে বন্ধ হল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)! ক্ষোভ উগরে দিলেন লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী
জ্যোতি বসুর নেতৃত্বেই পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার ও গ্রাম পঞ্চায়েত ব্যবস্থার বিস্তৃতি ঘটে। শিক্ষাব্যবস্থা এবং শ্রমিক অধিকার প্রসারের পথে গুরুত্বপূর্ণ পরপর বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছিলেন জ্যোতি বসু। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদী প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন ছিলেন জ্যোতি বসু। দল গঠনের পর ২০০৮ সাল পর্যন্ত সিপিআইএমের পলিটব্যুরো সদস্য ছিলেন তিনি। ১১ বার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
সুদীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর রাজনৈতিক জীবন চলেছে। যে সময়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়েন, সেই সময় পর্যন্ত ভারতবর্ষের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের রেকর্ড গড়েছিলেন জ্যোতিবাবু।









