বিধানসভা ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সিঙ্গুর সফর ঘিরে চড়ছে রাজনীতির পারদ। টাটা বিদায়ের ১৭ বছর পর সিঙ্গুরে পা পড়ছে মোদীর। তা নিয়ে যখন চর্চা তুঙ্গে তখন সিঙ্গুরের রতনপুর এলাকায় দেখা গেল এক বিতর্কিত পোস্টার। রাস্তার উপর একাধিক জায়গায় সেই পোস্টার পড়েছে।
আরও পড়ুনঃ ডেথ সার্টিফিকেটহীন এক মহাপ্রয়াণ; বাঙালি কি আজও বিবেকানন্দকে চিনেছে?
সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী পা রাখার আগেই অননুমোদিত বা বেনামী পোস্টার ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহল, সাধারণ মানুষ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পোস্টারগুলোতে বলা হয়েছে, “বাঙালিকে ধোঁকা দিলে কেন?”, যা স্বাভাবিকভাবেই প্রধানমন্ত্রী আগমনের পূর্বেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ স্বর্গারোহণ করলেন খাতড়ার “ভারত সেবাশ্রম সংঘের” প্রধান মহারাজ অরুনানন্দজী
স্থানীয়রা বলছেন, এই ধরনের পোস্টার সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং উত্তেজনা ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও পোস্টারগুলোর প্রেক্ষাপট এখনো স্পষ্ট নয়, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি সিঙ্গুরে দীর্ঘদিন ধরেই চলমান কৃষি ও জমি সংক্রান্ত ইস্যুর প্রেক্ষিতে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক সংকেত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী আসার আগে এই পোস্টারগুলো স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কেউ এটি সমালোচনা করছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা বিকাশ মাইতি বলছেন, “সকালে উঠে তো দেখছি কেউ বা কারা পোস্টার লাগিয়ে চলে গিয়েছে। যেই লাগাক ঠিকই করেছে। মোদী যেভাবে বাংলার উপর অত্যাচার করছে তাতে এই পোস্টার আরও বেশি করে লাগানো দরকার ছিল। এখন ভোট এসে গিয়েছে বলে মোদী এখানে আসছে। ভোট না এলে এখানে আসতো না। যাই করুক ওরা একটা সিটও পাবে না। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পোস্টারগুলি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও, ইতোমধ্যেই এটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে।
রাজনৈতিক মহলও এই ঘটনার প্রতি সরব হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একে কেন্দ্র করে একে অপরের প্রতি অভিযোগ তোলার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দল প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন, তারা বলছেন, “এ ধরনের পোস্টার দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অশান্ত করে এবং জনগণের মনোভাবকে প্রভাবিত করে।”









