বাংলার কৃষিতে আরও এক নতুন মাইলফলক যুক্ত হল। রাজ্যের কৃষি দফতর দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে চারটি নতুন উচ্চফলনশীল ধানের ভ্যারাইটি উদ্ভাবন করেছে, যা রাজ্যের ভিন্ন ভিন্ন জলবায়ু ও ভৌগোলিক পরিস্থিতির সঙ্গে বিশেষভাবে মানানসই। এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই খুশি রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই কৃতিত্বের জন্য কৃষি দফতর ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী এক বিবৃতিতে জানান, “আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের কৃষি দফতর রাজ্যের আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপযোগী চারটি নতুন ধানের ভ্যারাইটি উদ্ভাবন করেছে। পুরুলিয়ার খরা প্রতিরোধ গবেষণা কেন্দ্র এবং চুঁচুড়ার ধান গবেষণা কেন্দ্রে দীর্ঘ কয়েক বছরের গবেষণার ফলেই এই সাফল্য এসেছে।”
আরও পড়ুনঃ উত্তপ্ত অসমের কোকরাঝাড়; বন্ধ ইন্টারনেট, মোতায়েন সেনা
খরাপ্রবণ অঞ্চলের জন্য তিনটি নতুন ধান
এই চারটি নতুন ভ্যারাইটির মধ্যে তিনটি ধান বিশেষভাবে খরাপ্রবণ পশ্চিমাঞ্চলের জন্য তৈরি করা হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ার মতো জেলাগুলিতে দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও খরার সমস্যা কৃষকদের বড় চ্যালেঞ্জ।
সেই কথা মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে সুভাষিণী, লছমন্তি, মুসাফির এই তিনটি ধানই খরিফ মরসুমে চাষের জন্য উপযুক্ত এবং অনুকূল পরিস্থিতিতে হেক্টর প্রতি ৫২ থেকে ৫৫ কুইন্টাল পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। কম জলেও টিকে থাকার ক্ষমতা থাকায় খরার সময়েও কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বন্যাপ্রবণ দক্ষিণবঙ্গের জন্য ‘ইরাবতী’
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে বর্ষাকালে জল জমে থাকা ও বন্যা একটি বড় সমস্যা। সেই সমস্যার সমাধান হিসেবেই চুঁচুড়ার ধান গবেষণা কেন্দ্র উদ্ভাবন করেছে ‘ইরাবতী’ নামের নতুন ধানের প্রজাতি।
এই ধান দীর্ঘ সময় জলমগ্ন থাকলেও নষ্ট হয় না এবং প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতেও সহজে হেলে পড়ে না। ফলে হাওড়া, হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরের মতো বন্যাপ্রবণ এলাকায় এই ধান চাষ কৃষকদের জন্য বড় আশীর্বাদ হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ‘মোদী কিছু দেননি’! মোদীকে জবাব দিতে প্রস্তুত মমতা, ২৮ জানুয়ারি বড় সভা
২০১১ থেকে কৃষি গবেষণায় ধারাবাহিক অগ্রগতি
রাজ্য সরকারের দাবি অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত গবেষণার মাধ্যমে মোট ২৫টি নতুন ফসলের প্রজাতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টিই ধানের ভ্যারাইটি। এই তথ্য থেকেই স্পষ্ট, কৃষিকে আরও লাভজনক ও টেকসই করতে গবেষণার উপর বিশেষ জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে অঞ্চলভিত্তিক ফসল উদ্ভাবনই ভবিষ্যতের চাবিকাঠি। নতুন এই ধানের জাতগুলি শুধু ফলন বাড়াবে না, বরং কৃষকদের ঝুঁকি কমিয়ে খাদ্য নিরাপত্তাও আরও মজবুত করবে।
কৃষকদের জন্য কী লাভ?
নতুন ধানের এই ভ্যারাইটিগুলি চালু হলে খরা ও বন্যা সত্ত্বেও স্থিতিশীল উৎপাদন সম্ভব হবে চাষের খরচ তুলনামূলক কমবে, কৃষকের আয় বাড়বে এবং রাজ্যের খাদ্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতা আরও শক্তিশালী হবে। সব মিলিয়ে, বাংলার কৃষিতে এই চার নতুন ধানের সংযোজন রাজ্যের কৃষি ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবেই ধরা হচ্ছে।









