spot_img
Saturday, 7 February, 2026
7 February
spot_img
HomeকলকাতাKolkata Book Fair 2026: বইপ্রেমীদের ভিড় এবং নতুন বইয়ের গন্ধ; মুখ্যমন্ত্রীর কলমে...

Kolkata Book Fair 2026: বইপ্রেমীদের ভিড় এবং নতুন বইয়ের গন্ধ; মুখ্যমন্ত্রীর কলমে আমজনতার ভোগান্তি

উৎসবের মঞ্চ থেকেই এসআইআর-এর প্রতিবাদে সুর চড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা মানেই বইপ্রেমীদের ভিড় এবং নতুন বইয়ের গন্ধ । আর এই বই উৎসবে প্রতিবারের মতো এবারও পাঠকদের জন্য রয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই ৷ তবে এবারের প্রেক্ষাপটটি কিছুটা ভিন্ন এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ । রাজ্যে যখন ‘এসআইআর’ নিয়ে জোর বিতর্ক চলছে, সাধারণ মানুষ যখন হেনস্তার অভিযোগ তুলছেন, ঠিক সেই সময়েই এই জ্বলন্ত ইস্যুকে নিজের কলমে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী ।

এসআইআর-এর নাম করে রাজ্যে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং বয়স্ক থেকে মধ্যবয়সী – সকলকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে, এই অভিযোগ নিয়েই নিজের প্রতিবাদ ও ভাবনাকে মলাটবন্দি করেছেন তিনি । বইমেলার উদ্বোধনী মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ করলেন তাঁর বহুচর্চিত বই ‘এসআইআর 26-এ-26’ (SIR 26-e-26)। জানা গিয়েছে, এই বইটিতে মোট 26টি কবিতা রয়েছে, যা তিনি সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে লিখেছেন ।

আরও পড়ুনঃ একদিকে সুভাষ অন্যদিকে সারদা, নাভিশ্বাস বাঙালীর! ফুল ফুটলেও দামে আগুন; একটি আধ ফোটা পলাশ ১০০ টাকা

বইটি লেখার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বলতে গিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এসআইআর-এর (SIR) যে হ্যারাসমেন্ট চলছে, যেহেতু এই সাল 26…26 এ 26টা কবিতা আমি হেলিতে (হেলিকপ্টারে) যেতে যেতে লিখে দিয়েছি, দু-তিন দিনের মধ্যে । ওটাও স্যার হিসেবে বেরোবে ।”

এদিন উৎসবের মঞ্চ থেকেই এসআইআর-এর প্রতিবাদে সুর চড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । 49তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে তিনি রাজ্যে চলতে থাকা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া এবং নাগরিকদের নথি যাচাইয়ের নামে হেনস্তার যে অভিযোগ উঠেছে, তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন । সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে মমতা বলেন, “আমার ঘরে আগুন লাগেনি বলে আমার পাশের বাড়িতে লেগেছে, আমি চুপ থাকতে পারি না । আমার পাড়া-প্রতিবেশীর যদি সুখে না থাকে, আমিও সুখে থাকতে পারি না ।”

এদিন বইমেলার উদ্বোধনী ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কেবল সাহিত্য বা সংস্কৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং বর্তমান পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে আনেন । তিনি অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন । প্রতিদিন মানুষকে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে । তিনি উল্লেখ করেন, এই হয়রানির জেরে ইতিমধ্যে প্রায় 110 জন মানুষ মারা গিয়েছেন ।

তাঁর কথায়, “লজিস্টিক ডিসক্রিপেন্সি (Logistic Discrepancy) কোনওদিন ছিল না এসআইআর-এ । একমাত্র স্টেট বাংলায় হচ্ছে, অন্য কোথাও হচ্ছে না…যাঁদের এখন বঞ্চিত করা হয়েছে, তাঁরা পাবেন । কিন্তু শুধু আইন মোতাবেক, বাংলায় যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়…ব্যাস, বাদ ।”

মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে এই যাচাই প্রক্রিয়ার অযৌক্তিকতার দিকে আঙুল তোলেন । তিনি প্রশ্ন করেন, বহু প্রবীণ মানুষ, যাঁদের জন্ম স্বাধীনতার আগে বা যখন বার্থ সার্টিফিকেটের প্রচলন ছিল না, তাঁরা এখন কীভাবে বাবা-মায়ের জন্মের প্রমাণ দেবেন ? তিনি বলেন, “আমাদের যদি বলে বাবা-মায়ের সার্টিফিকেট নিয়ে এসো, বাবা-মায়ের জন্ম তারিখই তো জানি না ! তো সার্টিফিকেট কোথা থেকে আনব ?… তখন তো আর বার্থ সার্টিফিকেট ছিল না । এখন তো হসপিটালে হয়, তখন তো বাড়িতে হতো ।”

​অমর্ত্য সেন বা কবি জয় গোস্বামীর মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও এই প্রক্রিয়া থেকে রেহাই দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অমর্ত্য সেনকে যদি বলে – তোমার বাবার সাথে মায়ের বছরের কত ডিফারেন্স ? এর থেকে লজ্জাজনক কী হতে পারে ? কবি জয় গোস্বামী, তাঁকেও তো ডেকে পাঠাচ্ছে । অনেক ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার…সবাইকে ডেকেছে ।” তিনি অভিযোগ করেন, আগে জনগণ ঠিক করত কারা ক্ষমতায় আসবে, কিন্তু এখন কমিশন ঠিক করে দিচ্ছে কারা থাকবে । একে তিনি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ বলে অভিহিত করেন ।

​বইমেলার মতো একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ । উপস্থিত জনতার কাছে তাঁর আহ্বান, এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে । তাঁর কথায়, অমর্ত্য সেন বা জয় গোস্বামীর অপমান আসলে সকলকেই স্পর্শ করে । তাই বইমেলার আনন্দ উপভোগ করার পাশাপাশি, মানুষের ওপর নেমে আসা এই সংকটের কথাও মনে রাখার অনুরোধ জানান মুখ্যমন্ত্রী ।

আরও পড়ুনঃ প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রীর যাতায়াত, বজবজ থেকে নৈহাটি, একাধিক ট্রেন বাতিল

তিনি বলেন, জীবন বা সমাজ কোনও একক আঙুলের মুঠো নয়, বরং পাঁচ আঙুলের সম্মিলিত প্রয়াস । সেখানে ধর্ম, বর্ণ বা জাতির ভেদাভেদ থাকা উচিত নয় । বইমেলার প্রাঙ্গণ থেকে তিনি মানবিকতা ও ঐক্যের বার্তা দিয়ে বলেন, “আসুন আমরা শুধুই মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি । হিউম্যানিটির ওপরে আর কিছু হয় না ।”

উল্লেখ্য, এবারের বইমেলায় মুখ্যমন্ত্রীর মোট নয়টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে । নিজের লেখালেখির পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “এখনও পর্যন্ত 151টা বই বেরিয়েছে আমার । এবারও হয়তো ন’টা বেরোবে । কাজেই এবার সংখ্যাটা 162 হবে ।” তিনি আরও বলেন যে, তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অনেক কথাই এখনও বলে ওঠেননি, ভবিষ্যতের জন্য হৃদয়ের ভাণ্ডারে কিছু জমিয়ে রেখেছেন । তবে পাঠকদের জন্য ‘কথামালা’র মাধ্যমে তিনি অল্প অল্প করে সেই অভিজ্ঞতার ঝুলি উন্মুক্ত করছেন ।

‘এসআইআর’ ছাড়াও এবারের বইমেলায় মুখ্যমন্ত্রীর অন্য যে বইগুলি প্রকাশিত হয়েছে, তার বিষয়বস্তুও বেশ বৈচিত্র্যময় । রেলমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর অভিজ্ঞতার ডালি সাজিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘আমার রেলবেলা’। এই বইটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে । এছাড়া ছোটদের ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য তিনি লিখেছেন ‘বাংলার প্রকৃতি মা – কিছু ছড়ায় বলা মা’। আন্তর্জাতিক পাঠকদের কথা মাথায় রেখে এই বইটির ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়েছে, যার নাম ‘Mother Nature of Bengal: Rhymes and Reflections’।

সরকারের জনমুখী প্রকল্প নিয়েও তিনি কলম ধরেছেন । তাঁর স্বপ্নের প্রকল্প নিয়ে লেখা ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ এবং এর ইংরেজি সংস্করণটিও এদিন প্রকাশিত হয় । এছাড়া ভাষাচর্চা ও চিন্তাশীল পাঠকদের জন্য এসেছে ‘কথার ভাণ্ডার – প্রথম পর্ব’। রাজ্যের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে তিনি লিখেছেন ‘পুণ্যভূমি বাংলা’। পাশাপাশি সমাজসেবামূলক কাজের ওপর ভিত্তি করে ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়েছে ‘In Service of the People’।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন