আনন্দ-উৎসবে মাতোয়ারা ছিল গোটা পরিবার। নাচে-গানে মুখরিত ছিল বিয়ের আসর। কিন্তু মুহূর্তেই সেই আনন্দ বিষাদে পরিণত হলো এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে। উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান জেলায় এক বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ নজিরবিহীন! সরস্বতী পুজার ‘ছুটি’র সন্ধ্যায় জরুরি শুনানি কলকাতা হাইকোর্টে
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সরকার সমর্থক নেতা নূর আলম মেহসুদের বাসভবনে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন এক আত্মঘাতী জঙ্গি তার বিস্ফোরক ভর্তি ভেস্টের বিস্ফোরণ ঘটায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অতিথিরা যখন নাচছিলেন, ঠিক তখনই বিকট শব্দে বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে অনুষ্ঠানস্থলের ছাদ ধসে পড়ে। এতে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকা পড়েন।
নিহতদের মধ্যে একজন সাবেক জঙ্গি সদস্য রয়েছেন, যিনি সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন (স্থানীয়ভাবে ‘গুড তালিব’ হিসেবে পরিচিত)। বাকি নিহতরা তার আত্মীয়স্বজন বলে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ট্রাম্পের ডাকে সাড়া দিল না ভারত! একঘরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট
এখনও পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের সন্দেহ, এই হামলার পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) জড়িত থাকতে পারে। উল্লেখ্য, এই প্রদেশটি দীর্ঘদিন ধরেই টিটিপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং তারা মাঝেমধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনী ও শান্তি কমিটির সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, চলতি মাসেই বান্নু জেলায় শান্তি কমিটির চার সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরেও একই ধরনের হামলায় সাতজন নিহত হন। খাইবার পাখতুনখোয়ায় ক্রমাগত বাড়তে থাকা এই সহিংসতা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে।









