পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে রাজস্থানের সীমান্ত জেলা জয়সালমের থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করল নিরাপত্তা সংস্থা। রবিবার গভীর রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে নেহদান গ্রামের বাসিন্দা ঝবরারাম মেঘওয়ালকে হেফাজতে নেয় নিরাপত্তা বাহিনী।
আরও পড়ুনঃ রণক্ষেত্র টিকিয়াপাড়া, দেদার বোমাবাজি, ভাঙচুর দোকান! বিরিয়ানি কেনা নিয়ে ঝামেলা
নিরাপত্তা সূত্রের খবর, ২৫ জানুয়ারি রাতেই বিশেষ একটি দল নেহদান গ্রামে পৌঁছে অভিযুক্তের বাড়ি ঘিরে ফেলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কোনও রকম হইচই ছাড়াই তাঁকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়। ধৃত ঝবরারাম দীর্ঘ চার বছর ধরে ওই সীমান্ত এলাকায় একটি ই-মিত্র অনলাইন পরিষেবা কেন্দ্র চালাচ্ছিলেন। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এই কাজের সূত্রেই তাঁর কাছে একাধিক সরকারি প্রকল্প ও নথির তথ্য পৌঁছানোর সুযোগ ছিল।
সরকারি আধিকারিকদের মতে, ঝবরারাম পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের এক মহিলা হ্যান্ডলারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। মূলত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই কথা বার্তা চলত। তদন্তকারীরা মনে করছেন, অভিযুক্ত সম্ভবত ‘হানি ট্র্যাপে’র শিকার। সন্দেহ, সেই ফাঁদে পা দিয়েই তিনি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করে থাকতে পারেন।
এই ঘটনার পরই সিআইডি (ইন্টেলিজেন্স) এ র একটি দল ঝবরারামকে জয়পুরে নিয়ে গিয়েছে। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন আধিকারিকরা। তাঁর মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার সিস্টেম বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, ঠিক কী ধরনের তথ্য তিনি আদানপ্রদান করা হচ্ছে এবং তার বিনিময়ে আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না।
সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা এটাও জানার চেষ্টা করছেন, অভিযুক্ত স্বেচ্ছায় তথ্য দিয়েছিলেন নাকি কোনও রকম চাপ বা ভয় দেখিয়ে তাঁকে দিয়ে কাজ করানো হয়েছিল। যদিও এই মুহূর্তে নিরাপত্তা সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
আরও পড়ুনঃ মিথ্যে ফাঁস, মুখ চুন পড়শি দেশের! দিল্লির আকাশে উড়ল সেই বিএস-০২২ রাফাল
উল্লেখযোগ্য ভাবে, রাজস্থানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্তের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের গতিবিধির দিকেও বিশেষ নজর রাখে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর জয়সালমের-সহ গোটা সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে বলেই খবর।
পুরো বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলে এবং ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে এলে ঝবরারাম মেঘওয়ালের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ আনা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।









