শীতের মরসুম ধীরে ধীরে শেষের দিকে এগোচ্ছে, আর তার প্রভাব স্পষ্টভাবে পড়ছে সবজির বাজারে। আজ বাজারে গেলে সাধারণ ক্রেতাদের মুখে একটাই কথা “এবার একটু স্বস্তি মিলছে।” কারণ, শীতকালীন সবজির জোগান এখনও বাজারে ভালো থাকায় অধিকাংশ সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাইকারি থেকে খুচরা দু’ক্ষেত্রেই দামের ওঠানামা তুলনামূলকভাবে কম।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যজুড়ে প্রধানত পরিষ্কার আকাশ; শীতের শেষ ইনিংসে বঙ্গের আজকের আবহাওয়া
সবচেয়ে বেশি চাহিদার সবজি আলু। বর্তমানে বাজারে নতুন আলুর জোগান ভালো থাকায় দামে স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে। খুচরা বাজারে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২০ থেকে ২২ টাকায়। পাইকারি বাজারে, বিশেষ করে শিয়ালদহ কোলে মার্কেটের মতো বড় বাজারে, আলুর গড় দাম কুইন্টাল প্রতি প্রায় ১,১২৪ টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এই মুহূর্তে আলুর দাম বাড়ার কোনও আশঙ্কা নেই।
পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও স্বস্তির খবর। গত কয়েকদিনের তুলনায় পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। বাজারে ভালো মানের পেঁয়াজ বর্তমানে কেজি প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, নতুন ফসল বাজারে আসায় সরবরাহ বেড়েছে, যার ফলে দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শীতের টমেটোর জোগান এখনও বাজারে পর্যাপ্ত। ফলে টমেটোর দামও ক্রেতাদের নাগালে। খুচরা বাজারে টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকায়। রান্নাঘরে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় এই সবজির দাম স্থিতিশীল থাকায় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর খরচ কিছুটা হলেও কমছে।
শীতকাল মানেই ফুলকপি আর বাঁধাকপির রমরমা। ভরা মৌসুমের জেরে এই দুটি সবজির দাম এখন বেশ কম। বাজারে ফুলকপি প্রতি পিস ১০ থেকে ১৫ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকায়। অনেক বিক্রেতা আবার ছাড় দিয়ে একসঙ্গে একাধিক কপি কিনলে আরও কম দামে দিচ্ছেন। বেগুনের ক্ষেত্রে অবশ্য ছবিটা একটু আলাদা। মানভেদে বেগুনের দামে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ভালো মানের বেগুন খুচরা বাজারে কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু জায়গায় ছোট আকারের বা দেশি বেগুন তুলনামূলকভাবে কম দামে মিলছে।
অন্যান্য সবজির দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, উচ্ছে এখনও তুলনামূলকভাবে দামি। বাজারে উচ্ছে কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে লাউয়ের দাম বেশ সহনীয়। লাউ পাওয়া যাচ্ছে কেজি প্রতি ২৫ থেকে ৩৫ টাকায়। শসার দাম কিছুটা বেশি হলেও এখনও নাগালের মধ্যেই কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা। শাকসবজির বাজারেও স্বস্তি রয়েছে। পালং শাক বা অন্যান্য শাকের আঁটি ১০ থেকে ২০ টাকার মধ্যেই মিলছে। বিক্রেতাদের মতে, শীতের শেষ পর্যন্ত শাকসবজির জোগান ভালোই থাকবে।
সামগ্রিকভাবে, আজকের বাজারদর সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক। ব্যবসায়ীদের দাবি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং পরিবহণে কোনও সমস্যা না হলে আগামী কয়েকদিন এই দাম মোটামুটি একই রকম থাকবে। তবে ফেব্রুয়ারি থেকে ধীরে ধীরে শীতের সবজি কমতে শুরু করলে কিছু সবজির দামে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা যেতে পারে। এখনই সুযোগ বাজারে গিয়ে সস্তায় শীতের সবজি কিনে রাখুন, এমনটাই বলছেন বিক্রেতারা।









