গিটার ছেড়ে পতাকার ঝান্ডা! হাল ছেড়ো না বন্ধু, বরং কণ্ঠ ছাড়ো জোরে। সেই মতোই সুরেলা, তালিমি কণ্ঠ এবার সজোরে সওয়াল করতে পারে দেশের হালহকিকত নিয়ে। অরিজিৎ সিংয়ের সিনেমার গান ছাড়ার নেপথ্যে একটি জোরাল দাবি করল সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। তারা একটি গোপন সূত্র মারফত জানিয়েছে, সিনেমার নেপথ্য কণ্ঠ ছেড়ে অরিজিৎ রাজনৈতিক দলের সূচনা করতে পারেন। অত্যন্ত গোপনে এই কাজ চলছে।
আরও পড়ুনঃ খুচরো সমস্যা মেটাতে বড় সিদ্ধান্তের পথে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক
এই প্রজন্মের অন্যতম জনপ্রিয় প্লেব্যাক গায়ক অরিজিৎ সিং ২৭ জানুয়ারি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করে বসেন, তিনি আর প্লেব্যাক গান গাইবেন না। সেই পোস্ট দেখেই সব বয়সের ভক্তদের মধ্যে হইচই পড়ে যায়। কী করবেন এবার? কেনই বা এমন সিদ্ধান্ত? জল্পনার শেষ নেই। এনডিটিভি সূত্রে জানা গিয়েছে, অরিজিৎ সিং নাকি এবার রাজনীতির ময়দানে নামতে চলেছেন। নিজের একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন তিনি। যদিও তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাইছেন না। গায়কের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, ইতিমধ্যেই বিনোদনের দুনিয়া থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে রাজনীতির দিকে পা বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন অরিজিৎ সিং।
সূত্রের আরও খবর, সম্প্রতি অরিজিৎ সিং একটি হিন্দি ছবির নির্দেশনাও দিয়েছেন। ছবিতে অভিনয় করেছেন পঙ্কজ ত্রিপাঠী, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি এবং অরিজিৎ সিংয়ের মেয়ে শোরা। ছবির শুটিং হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বোলপুরে। কোটি কোটি টাকা রোজগার করলেও অরিজিৎ বরাবরই মাটির মানুষ। বিলাসবহুল জীবন নয়, আজও তিনি থাকেন নিজের গ্রাম জিয়াগঞ্জে, মুর্শিদাবাদে। সাদাসিধে জীবনযাপনই তাঁর পরিচয়।
“হ্যালো। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। এত বছর ধরে শ্রোতা হিসেবে যে ভালোবাসা আপনারা আমাকে দিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ। আজ আমি জানাতে চাই, এখান থেকে আর নতুন কোনও প্লেব্যাক কাজ নেব না। আমি এখানেই থামছি। সফরটা সত্যিই দারুণ ছিল।” ইনস্টাগ্রামে লিখেছিলেন অরিজিৎ সিং।
আরও পড়ুনঃ পর্যটকদের জন্য সুখবর! পাহাড়-তরাই-ডুয়ার্সের সমন্বয়ে হবে ষষ্ঠ বেঙ্গল হিমালয়ান কার্নিভাল
প্রবীণ গায়ক কুমার শানু লেখেন, “এই খবর শুনে খুব খারাপ লাগছে। তোমার গলা আর প্রতিভা একেবারেই বিরল। তোমার সাহসকে কুর্নিশ। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুন।” শ্রেয়া ঘোষাল লেখেন, “এটা কোনও শেষ নয়, বরং নতুন এক অধ্যায়ের শুরু। এমন শিল্পীকে কোনও ছকে ফেলা যায় না। উড়ে চলো, আরও উঁচুতে।” র্যাপার বাদশাহ লেখেন, “সদিয়োঁ মে এক।” বি প্র্যাকের সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, “ফ্যান ফর লাইফ।” অমোল মালিক লেখেন, “এই খবর শুনে কিছুই বুঝতে পারছি না। তবু তোমার সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। আমি চিরকাল অরিজিৎ সিংয়ের ভক্ত।” আরমান মালিক লেখেন, “ভালোবাসা আর সম্মান সবসময়। তোমার দেওয়া সঙ্গীতের জন্য ধন্যবাদ।”
দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে নতুন প্রজন্মের প্রেম, বেদনা আর ভাঙা হৃদয়ের কণ্ঠস্বরের একটাই নাম অরিজিৎ সিং। শাহরুখ খান থেকে সলমান খান, রণবীর কাপুর থেকে রণবীর সিং, সকলেরই ছবিতে সুরকারদের প্রথম পছন্দ ছিলেন অরিজিৎ সিং। ‘তুম হি হো’, ‘লাল ইশ্ক’, ‘রাবতা’, ‘কভি জো বাদল বরসে’, ‘আজ ফির’—এমন অসংখ্য হিট গানই তাঁর পরিচয়।









