রাজ্য রাজনীতিতে এখন অন্যতম আলোচিত চরিত্র হুমায়ুন কবীর৷ যিনি বাবরি মসজিদ গড়ার উদ্যোগ নিয়ে তৃণমূল থেকে বিতাড়িত হয়েছেন এবং তৈরি করেছেন নিজের দল জনতা উন্নয়ন পার্টি৷ বিতর্ককে সঙ্গী করে চলা সেই হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বুধবার রাতে বৈঠক করেছেন সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম৷ যা নিয়ে বৃহস্পতিবার দিনভর সরগরম রাজ্য রাজনীতি৷
এতদিন সেলিম-সহ সিপিআইএমের অন্য নেতাদের মুখে হুমায়ুনের ধর্মের রাজনীতির সমালোচনা শোনা যাচ্ছিল৷ সেই হুমায়ুনের সঙ্গে কেন বৈঠকে বসলেন সেলিম? বুধবার রাত থেকে বঙ্গ রাজনীতিতে এই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে৷ তৃণমূল-বিজেপি তো বটেই, বামফ্রন্টের অন্দরেও এই প্রশ্ন উঠেছে এদিন৷
সেলিম–হুমায়ুন বৈঠক
নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ড, এসআইআর, চুরি, দুর্নীতি-সহ একাধিক ইস্যুতে বুধবার কলকাতায় বামেদের দু’টি মিছিল ছিল। যাদবপুর থেকে টালিগঞ্জ পর্যন্ত মিছিলে পা মেলানোর পর কাউকে না-জানিয়ে চুপিসারে নিউটাউনের এক পাঁচতারা হোটেলে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করেন সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বৈঠকের ‘প্রকৃত নির্যাস’ না-বললেও দুই নেতা বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন সংবাদমাধ্যমের কাছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। রাত পেরিয়ে দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও আলোচনা থামছেই না৷ তর্ক-বিতর্ক যুক্তি-পাল্টা যুক্তিতে সংবাদমাধ্যম-সামাজিক মাধ্যম তোলপাড় চলছে।
কেউ বলছেন, যারা 34 বছর ক্ষমতায় টিকে থাকার কয়েক বছরের মাথায় লোকসভা ও বিধানসভাতে ‘শূন্য’, হুমায়ুন-সেলিমের বৈঠকের পর তারা মহাশূন্যে পৌঁছাবে। কেউ বলছেন, মহম্মদ সেলিম দায়িত্ব নিয়ে পার্টিটা তুলে দেবে। কেউ আবার সেলিমকে সম্প্রদায়িক বলে কটাক্ষ করছেন। কেউ বলছেন বিধায়ক হওয়ার লোভ সামলাতে পারছেন না মহম্মদ সেলিম। এরকম হাজারও যুক্তি-দাবি উঠলেও সিপিআইএম-সহ বামফ্রন্ট শরিক ও সহযোগী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা কী ভাবছেন? তাঁরা কী মনে করছেন, কার মন বুঝতে চাইছেন মহম্মদ সেলিম? হুমায়ুনের নাকি বামফ্রন্ট ও শরিক দলের?”
বাম শরিকরা কী বলছে?
সিপিআই নেতা প্রবীর দেব বলেন, “মহম্মদ সেলিম হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, সেটা সংবাদমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি। কী আলোচনা হয়েছে? কী করতে গিয়েছিলেন কিছুই জানি না? বামফ্রন্টের নতুন করে বৈঠক হলে জানতে পারব। যদি আসন সমঝোতা নিয়ে কথা হয়ে থাকে, নিশ্চয়ই সেটা সেলিম পরবর্তীতে আমাদের জানাবেন। বাম ঐক্য বা বামফ্রন্ট সেলিমের একার বিষয় নয় বা সিপিআইএম-কে নিয়েই শুধুমাত্র বামফ্রন্ট নয়।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘তিনি তো ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে গিয়েছিলেন বলে শুনেছি। ফলে এখনই এত বিচলিত হওয়ার কিছু আছে বলে আমার মনে হয় না। যে কেউ যে কারও সঙ্গে দেখা করতেই পারেন। কেউ যদি আমার সঙ্গে দেখা করতে চান, আমি কি তাঁকে বারণ করব?”
তবে ভিন্ন সুর শোনা গেল ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি নেতাদের মুখে। ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “যে কেউ কারও সঙ্গে বৈঠক করতেই পারেন। মহম্মদ সেলিম কী ব্যাপারে বৈঠক করেছেন, না করেছেন জানি না। না জেনে সেই বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে, বামফ্রন্টে আলোচনা না করে কেউ একা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা বামপন্থীরা তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করি৷ এটাই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ চায়। সেই কারণে আমরা চাইছি না কোনও সম্প্রদায়িক শক্তি রাজনৈতিক দল কিংবা সাম্প্রদায়িক মনোভাব সম্পন্ন ব্যক্তির সঙ্গে জোট করি।” আরএসপি-র তপন হোড় বলেন, “আমাদের এই বিষয়ে যথেষ্ট আপত্তি আছে। আমরা এই বিষয়ে একমত নই। এটা বামপন্থী রাজনীতির পক্ষে ভালো নয়।”
কী ভাবছে বাম মনোভাবাপন্ন দলগুলি?
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বৃত্ত বাড়ানোর কথা বলেছিলেন সেলিম-সহ বামফ্রন্ট নেতৃত্ব। সেই বৃত্ত বাড়াতে গিয়ে সিপিআইএম লিবারেশন, এসইউসিআই, আইএসএফ, কংগ্রেস-সহ তৃণমূল-বিজেপি বিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তি, ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা বলেছেন বাম নেতৃত্ব। স্বাভাবিকভাবেই, হুমায়ুন-সেলিম বৈঠক নিয়ে এসইউসিআই, আইএসএফ কিংবা সিপিআইএম লিবারেশনও দলীয় স্তরে আলোচনা করেছে বলে সূত্রের দাবি।
এসইউসিআই-এর রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য বলেন, “আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির বক্তব্য আগে যা ছিল, এখনও তাই আছে। আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলনমুখী বৃহত্তম বাম ঐক্যের কথা বলেছি। সেটাই বলব। এখনও পর্যন্ত আসন সমঝোতা নিয়ে সিপিআইএমের সঙ্গে আমাদের কোনও অফিসিয়াল আলোচনা হয়নি। বিভিন্ন মিটিং-মিছিলে মাঝেমধ্যে আমরা একসঙ্গে হাঁটছি। ফলে সেলিম কার সঙ্গে দেখা করলেন, কী করলেন, সেটা এখন ভাবনার পর্যায়ে আসেনি।”
সিপিআইএম লিবারেশন-এর পার্থ ঘোষ বলেন, “ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে সিপিআইএমের সঙ্গে কথা হলেও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত আসা যায়নি। আগামী 3 ফেব্রুয়ারি আমাদের দলের নিজস্ব বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকের পরেই মন্তব্য করতে পারব এই সমস্ত বিষয়ে।”
নওশাদ সিদ্দিকীর কী মত?
তবে, আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী বলেছেন, “তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে বামদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আমাদের প্রাথমিক পর্যায়ে কথা হয়েছে। কংগ্রেসকেও বহুবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব কোনও জবাব না দেওয়ায় আমরা এআইসিসিকে চিঠি দিচ্ছি। তবে, কে কার সঙ্গে মিটিং করবেন, বৈঠক করবেন, তার নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু মনে রাখতে হবে সাজ পোশাকে শুধুমাত্র ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা দিলে হবে না। সেটা যেন কাজে প্রমাণিত হয়। সেই বিষয়টা আমাদের মনে রাখতে হবে।”
কংগ্রেসের কী বক্তব্য?
অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বে সমস্ত বিষয় নিয়ে ভাবতেই রাজি নয়। সেলিম-এর সঙ্গে হুমায়ুনের বৈঠক প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কে কার সঙ্গে বৈঠক করল? হোটেলে করল, না-রাস্তায় করল, বিছানা পেতে করল, না বেঞ্চিতে বসে করল, আমাদের কোনও ব্যাপার নয়। রাজ্যে আমাদের দলীয় কী ক্ষমতা আছে, কী পরিস্থিতি আছে, সেটাই পরীক্ষা করা এখন এই মুহূর্তে আমাদের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ।”
সিপিআইএমের অন্দরমহলের মত কী?
এবার আসা যাক সিপিআইএমের অন্দরের কথায়। বুধবার রাতের পর থেকে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতারা কার্যত দু’টো শিবিরে আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছেন। একটা পক্ষ সেলিমের দিকে৷ আরেকটা এই বৈঠক নিয়ে সেলিমের সমালোচনা করেছেন৷ কারও মতে, সেলিমের এই পদক্ষেপে ভোটে প্রভাব পড়বে৷ সিপিআইএম-এর ঘুরে দাঁড়ানোর যে সম্ভাবনা ছিল, তা কার্যত শেষ হয়ে যাবে যদি হুমায়ুনের সঙ্গে জোট হয়৷
আবার কেউ কেউ সেলিমের পক্ষেই সরব হয়েছেন৷ তাঁদের বক্তব্য, সেলিম তো লুকিয়ে কোনও বৈঠক করেননি৷ বরং পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে হয়েছে৷ হুমায়ুন যেহেতু একটি রাজনৈতিক দল করেছেন৷ তিনি নিজেই বামেদের সঙ্গে আসতে চাইছেন৷ সেই কারণে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করা যেতেই পারে৷ আলোচনা মানেই তো আর জোট করা নয়৷
আরও পড়ুনঃ বাতাসে বসন্তের ছোঁয়া, শীত কি এবার বিদায় নিচ্ছে, নাকি আরও দাপট দেখাবে? আজ কেমন থাকবে বঙ্গের আবহাওয়া
মহম্মদ সেলিম কী বলছেন?
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে মহম্মদ সেলিমকে৷ বৃহস্পতিবার তিনি ছিলেন হুগলির পাণ্ডুয়ায়৷ সেখানে তিনি বলেন, “রাজনৈতিকভাবে আসন সমঝোতা সব আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের অফিসে হয়। বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির সঙ্গে আসন সমঝোতা চলছে। দু-একদিনের মধ্যেই শেষ হবে। আগে বামফ্রন্ট, তারপরে যারা ফ্রন্টে নেই, তৃণমূল ও বিজেপিকে হারানোর জন্য চেষ্টা করছে, তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনায় বসব। তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে যারা কথা বলবে, তাদের সঙ্গে আলোচনায় আমরা বসব। সকলেই চটজলদি সমাধান চায়। কথা বলা মানেই সব নয়।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের দলের জোট সমঝোতা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে পরীক্ষিত হয়ে একটা জায়গায় আসে।আমরা এখনও চার দফা পর্যন্ত বৈঠক করেছি। যাতে কোনোরকম ভুল বোঝাবুঝি না হয়। সবাই ঐক্যবদ্ধ হতে পারি।বামফ্রন্টের বাইরে যারা আছে সিপিআইএমএল, আইএসএফ, তাদের সঙ্গেও কয়েকদফা আলোচনা হয়েছে। তারপর আসন সমঝোতা হবে।’’
হুমায়ুন প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, ‘‘যারা হিন্দু-মুসলিম বলছে, তাদেরকে আমরা বোঝাচ্ছি তুমি কাজের কথা বলো, রুটি রুজির কথা বলো। হুমায়ুন কবীরকেও আমি বলেছি, কাজের কথা বলতে। পশ্চিমবঙ্গে যদি কেউ রাজনীতি করতে চায় সিপিআইএমকে বাদ রেখে কেউ রাজনীতি করতে পারবে না।’’
হুমায়ুন কবীরকে কি আপনারা সেকুলার মনে করছেন? মহম্মদ সেলিম-এর বক্তব্য, ‘‘আমরা কি তাঁকে সার্টিফিকেট দিয়েছি? তবে ভালো লাগলো আপনারা মনে করছেন মহম্মদ সেলিম যদি কারও সঙ্গে কথা বলে সে রাতারাতি সেকুলার হয়ে যায়। যে দেশে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর ভুয়ো সার্টিফিকেট থাকে, সেখানে চট করে কাউকে সার্টিফিকেট দিই না আমরা।’’
কংগ্রেস–সিপিআইএম জোট নিয়ে সেলিমের মত
সিপিআইএম-এর সঙ্গে কংগ্রেসের জোট প্রসঙ্গে কিছুটা হলেও বীতশ্রদ্ধ মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্য কংগ্রেসের যখন সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী ছিলেন, তখন জোট হয়েছিল। সেখানে তাঁর সদিচ্ছা ছিল। কিন্তু এখন বর্তমান রাজ্য সভাপতি শুভঙ্কর সরকার৷ তাঁর তৃণমূলের প্রতি একটু বেশি দরদ আছে। তিনি নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তাই এআইসিসি কী বলছে, তার ওপর নির্ভর করছেন। সিপিআইএম বা বামফ্রন্ট বেশি দিন অপেক্ষা করে থাকতে পারে না।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘কংগ্রেস ঠিক করবে বিজেপির সঙ্গে যাবে, না কংগ্রেস তৃণমূলের সঙ্গে যাবে, না সিপিআইএমের সঙ্গে যাবে। বাংলার মানুষ চাইছে বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে জোট হোক। শুভঙ্করবাবু যদি না চান, অধীরবাবু যদি চান, সেটা তাঁদের দলের সমস্যা। কংগ্রেস দলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমি কাউকে পায়ে ধরতে পারব না। আমরা সব সময় বলছি আগে অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। শুভঙ্করবাবু এখনও বুঝতে পারছেন না কার সঙ্গে গেলে লাভবান হবেন তিনি। রাজনীতিতে ওরকম ভাবে হয় না। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। আমাদের বামফ্রন্টের নিয়ে সবাইকে মিলে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত হয়।’’
সেলিমকে আক্রমণ কুণালের
কুণাল ঘোষ বলেন, “মহম্মদ সেলিম নাকি কোনও হোটেলে গিয়ে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন৷ সেই হোটেলে আবার বিজেপির নেতারা থাকেন, বৈঠক করেন৷ মহম্মদ সেলিমের আচরণে সিপিআইএম রাজনৈতিক দেউলিয়া হয়ে ভিক্ষাপাত্র হাতে হোটেলে হোটেলে যাওয়া সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে৷ 34 বছর নাকি ক্ষমতায় ছিল৷ সিপিআইএম একা লড়ে না৷ অনেকগুলো দল নিয়ে লড়ে৷ এই মহম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে রাজ্যের 294টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার মতো মুরোদ নেই বামফ্রন্টের৷ কখনও কংগ্রেসের পায়ে ধরতে যায়, কখনও নওশাদ সিদ্দিকির পায়ে ধরে, এখন হোটেলে গিয়ে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করছেন৷ তিনি নাকি মন বুঝতে গিয়েছিলেন৷ ও তো প্রথম প্রথম প্রেমে পড়লে হয়৷”
কুণাল আরও বলেন, “সিপিআইএম বড় বড় নীতির কথা বলে৷ এটা তাদের কত বড় লজ্জা৷ তবে কে কার সঙ্গে বৈঠকে বসছে, চায়ের দাম কে দিচ্ছে, এসব নিয়ে আমরা ভাবি না৷ সেটা তারা বুঝবে৷ তৃণমূল উন্নয়ন, সম্প্রীতি, সংহতির উপর দাঁড়িয়ে বিপুলভাবে জিতে আসতে চলেছে৷ তা দেখে এই দিশাহীন, শূন্য পাওয়া পার্টি পাগল হয়ে গিয়েছে৷ আমাদের একটাই বক্তব্য, মানুষের সমর্থনে তৃণমূল চতুর্থবার জিততে চলেছে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সরকার হবে৷ এখন যেসব টুকরো টুকরো অতৃপ্ত আত্মা রয়েছে, তারা এখন পাগলের মতো ছোটাছুটি করছে৷ জেতা দূরের কথা, তৃণমূলের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতাও কারও নেই৷ হুমায়ুন কবির কোণঠাসা অবস্থায় আছেন৷ তিনি দোকান খুলে বসে আছেন৷ তাঁর দোকানে যে আসছে তিনি সামলাচ্ছেন৷ এখন মহম্মদ সেলিম মার্কসবাদী থেকে হুমায়ুনবাদী হয়ে গেলেন৷ এতেই বোঝা যায় সিপিআইএম কতটা দিশাহীন৷”









