হলদিয়ার সুতাহাটা থানা এলাকায় ঘোষের মোড়ে আজ সকালে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক রোড অ্যাক্সিডেন্ট, যা একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ করে দিয়েছে চিরকালের জন্য। একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে জলের পাইপে (ওয়াটার পাইপলাইন) ধাক্কা মারে, আর সেই ধাক্কার প্রভাবে পাশ দিয়ে যাওয়া একটি মোটরসাইকেলও চাপা পড়ে। ফলে মোটরসাইকেলে থাকা তিন আরোহী একই পরিবারের তিন সদস্য ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
আরও পড়ুনঃ পরিবার বিজেপি সমর্থক, বাড়িতে বন্ধ সজল ধারার জল; গোঘাটে পাড়ার কল থেকেও জল নিতে বাধার অভিযোগ
মৃতদের নাম অরূপ মন্ডল (৫০), তাঁর স্ত্রী দীপু মন্ডল (৪৫) এবং কন্যা সৃজিতা মন্ডল (১৩)। তিনজনেরই বাড়ি সুতাহাটা থানার কৃষ্ণনগর এলাকায়।সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়রা জানান, বাসটি হলদিয়ার দিকে যাচ্ছিল, সম্ভবত গতি বেশি ছিল বা ড্রাইভারের অসতর্কতা হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে ডাইভার্ট করে জলের বড় পাইপে সজোরে ধাক্কা মারে।
ঠিক তখনই পিছন দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মোটরসাইকেলের তিনজনই ছিটকে পড়েন, গুরুতর আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। বাসের ভিতরে থাকা যাত্রীরা বেশিরভাগই আহত হয়েছেন কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সুতাহাটা থানার পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং ১০৮ অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের হলদিয়া জেলা হাসপাতাল এবং কয়েকজনকে কলকাতার বড় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় একটি সাধারণ পরিবারের সবকিছু শেষ হয়ে গেল মুহূর্তে। অরূপ মন্ডল ছিলেন কৃষ্ণনগরের একজন পরিচিত ব্যক্তি ছোটখাটো ব্যবসা করতেন, পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকতেন। দীপু মন্ডল গৃহিণী, সংসার সামলাতেন। আর সৃজিতা মাত্র ১৩ বছরের কিশোরী স্কুলে পড়ত, স্বপ্ন দেখত ভবিষ্যতের। সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে হয়তো কোনো কাজে বা আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছিলেন।
কিন্তু ফিরল না কেউ। প্রতিবেশীরা বলছেন, “একটা পরিবার পুরোটা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। অরূপদা সবসময় হাসিমুখে থাকতেন, মেয়েকে স্কুলে দিতেন। আজ সকালে যে এমন হবে, কেউ ভাবেনি।” কৃষ্ণনগর এলাকায় এখন শোকের ছায়া। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গেছে।









