রবিবারের ছুটির দিনে বাজারে পা রাখলে সাধারণ মানুষের প্রথম নজর থাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামের দিকে। সপ্তাহের শেষে দাম কিছুটা কমে কি না, সেটাই দেখেন মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত ক্রেতারা। শীতের মরসুম প্রায় শেষের দিকে হলেও এখনও বাজারে শীতকালীন সবজির জোগান ভালো থাকায় বেশ কিছু সবজির দাম স্বস্তির জায়গায় রয়েছে। তবে কিছু কিছু সবজিতে এখনও চড়া দামের চাপ অনুভূত হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ হায়রে কপাল! মাথায় হাত; বাজেট পেশের দিন ৪৯ টাকারও বেশি বাড়ল গ্যাসের দাম
আলু ও পেঁয়াজের বাজার আপাতত স্থিতিশীল। পাইকারি বাজারে জ্যোতি আলুর দাম প্রতি কুইন্টালে সর্বনিম্ন ৮২৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১১০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। খুচরো বাজারে এর প্রভাব তুলনামূলক কম। সাধারণ মানের আলু এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই রয়েছে। অন্যদিকে, পেঁয়াজের দাম মানভেদে প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩৫ টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক একটু বেশি হলেও বড় কোনও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
শীতকালীন সবজির বাজারে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় স্বস্তি ফুলকপি ও বাঁধাকপিতে। শীতের মরসুমে ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে এই দুই সবজির জোগান প্রচুর। ফলে দামও বেশ কম। ফুলকপি প্রতিটি ১০ থেকে ১৪ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে এবং বাঁধাকপি প্রতি কেজি ১২ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। সংসারের প্রতিদিনের রান্নায় এই সবজিগুলি ব্যবহার হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা বেশ খুশি।
টমেটোর বাজারেও স্বস্তির ছবি। কয়েক সপ্তাহ আগেও যে টমেটো নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল, এখন তার দাম অনেকটাই কমেছে। বর্তমানে বাজারে টমেটো কেজি প্রতি প্রায় ২০ থেকে ২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে ডাল, তরকারি বা স্যালাড সবেতেই টমেটো ব্যবহার করতে আর অতিরিক্ত খরচের কথা ভাবতে হচ্ছে না। তবে গাজরের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি একটু আলাদা। গত কয়েক দিনে গাজরের দাম কিছুটা বেড়েছে। মানভেদে গাজর এখন ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় কিছুটা বেশি।
অন্যান্য সবজির দিকেও নজর দিলে দেখা যাচ্ছে, বেগুনের দাম মাঝামাঝি জায়গায় রয়েছে। বেগুন প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। উচ্ছের দাম তুলনামূলক বেশি প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকার আশেপাশে। অনেকের মতে, শীত কমতে শুরু করায় উচ্ছের জোগান কিছুটা কমেছে, যার প্রভাব দামে পড়ছে।
আরও পড়ুনঃ উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গ দুই অংশেই বড় কোনো পরিবর্তন নেই, ছুটির দিনে বাংলার আবহাওয়া
কাঁচা লঙ্কার বাজারে এখনও ঝাঁঝ বজায় রয়েছে। পাইকারি বাজারে কাঁচা লঙ্কার দাম প্রতি কুইন্টাল প্রায় ৬৫০০ টাকা। তার জেরেই খুচরো বাজারে মানভেদে কাঁচা লঙ্কা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। রান্নায় অল্প পরিমাণে ব্যবহার হলেও দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই মুখে মুখে অভিযোগ করছেন।
সব মিলিয়ে রবিবারের বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য ছবি পুরোপুরি খারাপ নয়। আলু, পেঁয়াজ, ফুলকপি, বাঁধাকপির মতো প্রয়োজনীয় সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে থাকায় সংসারের খরচ কিছুটা হলেও সামলানো যাচ্ছে। তবে গাজর, উচ্ছে এবং কাঁচা লঙ্কার মতো কিছু সবজিতে দাম বাড়তি থাকায় বাজেটের হিসেব কষে বাজার করতে হচ্ছে। শীত পুরোপুরি বিদায় নিলে আগামী দিনে সবজির বাজার কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার।









