দুয়ারে কড়া নাড়ছে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন । তার আগে আজ মঙ্গলবার অর্থাৎ ৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হতে চলেছে চলতি বিধানসভার গুরুত্বপূর্ণ বাজেট অধিবেশন । যেহেতু এটি নির্বাচনী বছর, তাই প্রথা মেনে এবার আর পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করছে না রাজ্য সরকার । পরিবর্তে বিধানসভায় পেশ করা হবে ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ বা কয়েকমাসের অন্তর্বর্তীকালীন খরচ চালানোর জন্য বরাদ্দ ।
সোমবার বিধানসভায় সর্বদল বৈঠক এবং কার্য উপদেষ্টা কমিটি বা বিএ কমিটির বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত সিলমোহর পায় । অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মঙ্গলবার শোকপ্রস্তাব পাঠের মধ্যে দিয়ে অধিবেশন শুরু হবে এবং আপাতত যা সূচি স্থির হয়েছে, তাতে আগামী 9 ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সভার কাজ চলবে । সোমবার বিধানসভার অধ্যক্ষের ঘরে অনুষ্ঠিত বিএ কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের রূপরেখা চূড়ান্ত হয় ।
আরও পড়ুনঃ ‘ফুল অন অ্যাকশন’; সাতসকালেই অ্যাকশন মোডে ইডি
স্পিকার জানান, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শোকপ্রস্তাব পাঠের মাধ্যমে সভার সূচনা হবে । এরপর মূল পর্ব শুরু হবে ৫ফেব্রুয়ারি । ওই দিন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস সংবিধানের ১৭৫(১) অনুচ্ছেদ মেনে বিধানসভায় ভাষণ দেবেন এবং তার পরেই পেশ হবে বাজেট বা ভোট অন অ্যাকাউন্ট । তবে এবারের অধিবেশনে সাধারণ বাজেট বা আর্থিক বরাদ্দের থেকেও বেশি রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াতে পারে ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘এসআইআর’ ইস্যু ।
রাজ্য রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে চর্চিত এবং বিতর্কিত বিষয় হল ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’। বিরোধীদের অভিযোগ, বেছে বেছে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে । অন্যদিকে কেন্দ্রের শাসকদলের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনেই স্বচ্ছভাবে কাজ হচ্ছে ।
বিধানসভা সূত্রে খবর, সোমবার বিএ কমিটির বৈঠকে এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে আলোচনার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে । আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় ‘এসআইআর’ নিয়ে বিশেষ আলোচনা হবে । তবে এই আলোচনা কোন প্রস্তাবের ভিত্তিতে হবে, তা নিয়ে বিএ কমিটির বৈঠকেই নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয় ।
আরও পড়ুনঃ শেষ ইনিংসে শীতের পরশ! ফের তাপমাত্রা কমার সম্ভবনা বাংলায়
জানা গিয়েছে, এই ইস্যুতে আলোচনার জন্য দুটি প্রস্তাব জমা পড়েছিল । একটি এনেছিলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী এবং অন্যটি সরকার পক্ষের তরফে মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় । নওশাদ সিদ্দিকীর অভিযোগ, তাঁর প্রস্তাবে সরকারের সমালোচনা থাকায় তা গ্রহণ করা হয়নি । যদিও স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিধানসভার রুলস বা কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, সরকারি প্রস্তাব বা মোশন সবসময় অগ্রাধিকার পায় । তাই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে এবং তার ওপরই আলোচনা হবে । তবে বিরোধীরা চাইলে ওই আলোচনার সময় তাদের বক্তব্য পেশ করতে পারবেন ।
স্পিকার এদিন বলেন, “এসআইআর নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মানুষ মারা গিয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। একটা বিদ্বেষপূর্ণ পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। তাই মানুষের উদ্বেগ কাটাতে এই আলোচনা অত্যন্ত জরুরি ।” ৬ তারিখ নিয়ম ১৬৯-এর অধীনে এই বিষয়ে এক ঘণ্টা বরাদ্দ করা হয়েছে । এছাড়া আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলা এই অধিবেশনে জিএসটি সংশোধনী বিল এবং বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনাও রাখা হয়েছে ।
যদিও এদিনের বৈঠকে বিরোধী বিজেপি বা আইএসএফের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না, তবু স্পিকার আশা প্রকাশ করেছেন যে, শেষ পর্যন্ত সব দলই অধিবেশনে অংশ নিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মেনে তাদের বক্তব্য তুলে ধরবে । সব মিলিয়ে ভোটের আগে এই ‘মিনি বাজেট’ অধিবেশন যে বেশ সরগরম হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিকমহল ৷









