দু’জন মানুষের ভালোলাগা-পছন্দগুলো যখন একরকম হয়, তখন মনের মিলন হতে বেশি দেরি লাগে না ৷ আর সেটা যদি খেলার মাঠের ভালোবাসা হয় তাহলে তো কথাই ৷ হুগলির বৈদ্যবাটির শুভজিৎ ঘোষ এবং সুমনা নন্দী ৷ পড়াশোনার সূত্রে দু’জনের পরিচয় ও সেখান থেকে প্রেম হলেও, দু’জনকে আরও কাছে এনে দিয়েছিল তাঁদের প্রিয় দল মোহনবাগান ও ফুটবল খেলা ৷
আরও পড়ুনঃ সবজির বাজারে দামের মিশ্র ছবি! আজকের বাজারে সবজির দামের হাল হাকিকত
খুব শীঘ্রই এই যুগলের চার হাত এক হতে চলেছে ৷ তার উপর ভ্যালেন্টাইন্স মান্থ ৷ তাই হবু স্ত্রী’র জন্য এক অভিনব উপহার তৈরি করলেন শুভজিৎ ৷ দু’জনের ভালোলাগা ও ভালোবাসার ক্লাব মোহনবাগানের সবুজ-মেরুন রংয়ে পুরো বাড়ি রাঙিয়ে দিল ঘোষ পরিবার ৷ শুধু সবুজ-মেরুন রং নয়, দোতলা বাড়ির বাইরের দেওয়ালে ফুটে উঠেছে মোহনবাগানের পালতোলা নৌকোর ছবি দেওয়া লোগো ৷ লক্ষাধিক টাকা খরচ করে সবুজ-মেরুন রংয়ে রাঙানো হয়েছে বৈদ্যবাটি পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষদের বাড়ি ৷
শুভজিৎ জানাচ্ছেন, প্রেয়সীর ভালোলাগাকে সম্মান জানিয়ে মোহনবাগানের রংয়ে রাঙিয়েছেন বাড়ি ৷ আর এই তাঁর এই চেষ্টায় পূর্ণ সহযোগিতা করেছে গোটা পরিবার ৷ উল্লেখ্য, শুভজিতের পাশের পাড়াতেই বাড়ি সুমনার ৷ পড়াশোনা সূত্রে বৈদ্যবাটি হাতিশালা ঘাটের সুমনার সঙ্গে পরিচয় ৷ আর সুমনা নিজেও মোহনবাগানপ্রেমী হওয়ায়, দু’জনের ভালোবাসা গভীর হতে সময় লাগেনি ৷ তাঁরা দুজনে একসঙ্গে মাঠে বসে খেলাও দেখেছেন একাধিকবার ৷
বৈদ্যবাটির মানুষের কাছে ঘোষদের বাড়ি এখন ‘মোহনবাগান বাড়ি’ নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে ৷ শুভজিৎ-এর বাবা সুব্রত ঘোষ নিজেও মোহনবাগানের সমর্থক ৷ 2006 সাল থেকে বাবার হাত ধরে মোহনবাগানের খেলা দেখতে যাওয়া শুরু হয় শুভজিতের ৷ আর এখন তাঁর মোহনবাগান ম্যাচের পার্টনার সুমনা ৷
শুভজিৎ ঘোষ বলেন, “আমার ইচ্ছে ছিল বাড়িটা মোহনবাগানের জার্সির রঙে রং করানোর ৷ কিন্তু, করা হয়ে ওঠেনি ৷ আমার হবু জীবনসঙ্গী সুমনা নন্দী ৷ ওঁর মাথা থেকেই বেরিয়ে ছিল আইডিয়াটা ৷ আর আমিও মোহনবাগানের অন্ধ ভক্ত ৷ তাই বিষয়টা বাড়িতেও বলি ৷ বাবাও রাজি হয়ে যায় ৷ তখনই ঠিক করি বাড়ির রং করব মোহনবাগানের রঙে ৷ আশেপাশের অনেক বাড়িতেই দেখেছি ৷ সেই থেকে আমার একটা সুপ্ত ইচ্ছা ছিল ৷ দু’টো ভালোবাসা প্রকাশ করার জন্যই এই কাজ ৷ বাড়ির পাশ দিয়ে যারা যাচ্ছে, তারা অনেকেই তাকিয়ে দেখছে ৷ এখন আমাদের বাড়ির নাম হয়ে গেছে ‘মোহনবাগান বাড়ি‘ ৷ অনেকে আবার চিনতে না-পারলে ‘মোহনবাগান বাড়ি’ বললেই চিনিয়ে দিচ্ছে ৷ এটা ভালোই লাগছে ৷”
আরও পড়ুনঃ শীতের আমেজ কিছুটা কমে এসেছে; লক্ষ্মীবারে বঙ্গের আবহাওয়া
শুভজিতের বাবা সুব্রত ঘোষ বলেন, “আমার পরিবারের সকলেই মোহনবাগানের সদস্য ৷ বাড়ির মহিলারা অধিকাংশ সময় সিরিয়াল দেখতে ব্যস্ত থাকে ৷ কিন্তু, ফুটবলের সময় আমরা সবাই ফুটবল দেখি ৷ আর মোহনবাগানের খেলা থাকলে তো কথাই নেই ৷ মোহনবাগান জিতলে আমরা আনন্দিত হই ৷ তবে, আমার বাড়িতে যে আসছে অর্থাৎ আমার হবু বৌমা, সে-ও মোহনবাগানের ভক্ত ৷”
যিনি এই বাড়ি রং করার বরাত পেয়েছিলেন, সেই পঙ্কজ বেলেন বলেন, “আমি নিজেও একজন মোহনবাগান ভক্ত ৷ আর এই পরিবারও মোহনবাগান সাপোর্টার ৷ তাঁরা আমাকে এই রংয়ের বরাত দিয়েছিলেন ৷ সেই অনুযায়ী তাঁদের ভাবনা এবং আমার ভাবনাকে মিলিয়ে এই বাড়ি রং করেছি ৷ এই কাজ করে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি ৷”









