নিরাপত্তা ও স্বচ্ছ ভোটের দাবিকে সামনে রেখেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এক দফায় ভোট করানোর পক্ষে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সাম্প্রতিক নির্বাচনী অভিজ্ঞতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আমরা চাই না ২০২১ বা ২০২৪ সালের মতো নির্বাচন হোক। ক্যামেরা বন্ধ করে ভোট হবে, ভূতেরা ভোট দেবে— এ সব চলতে পারে না।” তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে নির্বাচনী হিংসা ও বুথ দখলের অভিযোগ। শুভেন্দুর কটাক্ষ, “সকালে কোচবিহারে গিয়ে, পরের দিন মালদহে মারধর, তার পর মুর্শিদাবাদ ঘুরে শেষে ভবানীপুরে ঝেড়ে দিয়ে চলে যাওয়া, এই ব্যবস্থার অবসান চাই।”
আরও পড়ুনঃ ফের শোনা গেল বুদ্ধ স্তুতি! ‘বুদ্ধবাবু সৎ ছিলেন’, মুসলিম প্রসঙ্গে হঠাৎ বললেন শুভেন্দু
বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্যের মধ্যেই ভোটের দফা সংখ্যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। জানা যাচ্ছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এক দফায় ভোট করানোর পক্ষেই মত রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালের দফতরের।
যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশনই, তবু সিইও দফতর সূত্রে খবর, তাদের তরফে এক দফায় ভোটের প্রস্তাবই দেওয়া হবে। উল্লেখযোগ্য, অতিমারির আবহে ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে আট দফায় বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল। সেই দীর্ঘ ভোটপর্ব নিয়ে তখন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল নির্বাচন কমিশন।
আরও পড়ুনঃ ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা! টায়ার ফেটে উল্টে গেল দিঘাগামী বাস, মৃত ১, আহত বহু
তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছিলেন, ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ুতে যদি এক দফায় ভোট সম্ভব হয়, তা হলে পশ্চিমবঙ্গে আট দফার প্রয়োজন কেন।
সেই সময় নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি কেন্দ্রের মোদী সরকার ও বিজেপিকেও নিশানা করেছিলেন তিনি। পরিসংখ্যান বলছে, পশ্চিমবঙ্গে দফায় দফায় ভোটের ইতিহাস নতুন নয়। ইউপিএ জমানায় ২০১১ সালে ছ’দফায় ভোট হয়েছিল রাজ্যে— যে নির্বাচনে বামেদের হারিয়ে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল-কংগ্রেস জোট। তার পরে ২০১৬ সালে মোদী সরকারের আমলে সাত দফায় ভোট হয়। আবার ২০২১ সালে দফা বেড়ে দাঁড়ায় আটে। এ বার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলছে। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্য বিহারে দু’দফায় বিধানসভা ভোট করিয়েছে নির্বাচন কমিশন।









