একমাসের ব্যবধানে ফের বিধ্বংসী আগুন বিরাটির স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে আগুন নেভানোর কাজ। অগ্নিকাণ্ডের জেরে বন্ধ রাখা হয়েছে ট্রেন চলাচল। ফলে রাতে বাড়ি ফিরতে যাত্রীদেরও ভোগান্তির মুখে পড়তে হল।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গতকাল শনিবার রাত ১০.৩০টা নাগাদ বিরাটি স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের কাছে একটি বইয়ের দোকানে আগুন লাগে। দ্রুত সেই আগুন ছড়িয়ে যায় আশেপাশের কয়েকটি দোকানে। মুহূর্তে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে, রাতের অন্ধকারে কালো ধোঁয়া আতঙ্ক বাড়িয়ে দেয় আরও। মুহূর্তে পুড়ে ছাই হয়ে যায় পরপর ৪টি দোকান।
ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় প্রথমে দমকলকে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। দুটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং একটি ইঞ্জিন স্টেশনের পাশের ব্রিজ থেকে আগুন নেভানোর কাজ করতে থাকে। সূত্রে খবর এখনও পুরোপুরি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।
অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। তবে কী কারণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটল তা খতিয়ে দেখছে দমকল। এখনও পর্যন্ত কারও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের জেরে ব্যহত হয়েছে ট্রেন চলাচল। মধ্যমগ্রাম, হাসনাবাদ- ডাউন লাইনের ট্রেন এখনও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি বলেই খবর। বিরাটি স্টেশনের আগেই পরপর ট্রেন দাঁড়িয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বিজেপির ইশতেহার তৈরিতে মহা চমক, ভোটের আগে মাস্টারস্ট্রোক!
গত ডিসেম্বরেই বিরাটি স্টেশন সংলগ্ন বাজারে গভীর রাতে আগুন লেগেছিল। সেই অগ্নিকাণ্ডের জেরে একরাতে যদুবাজারের ২০০টি দোকান পুড়ে ব্যবসায়ীরা কার্যত সর্বস্বান্ত হন। তবে কোনও প্রাণনাশের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, গতমাসে ওয়াও মোমোর গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ‘মৃত্যুপুরী’ হয়ে উঠেছিল আনন্দপুরের নাজিরাবাদ। ঝলসে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে বহু শ্রমিকের। এখনও নিখোঁজ একাধিক। গোডাউনে ছাইয়ে চাপা কঙ্কাল, দেহাংশ উদ্ধার করে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পরিচয় জানার কাজ চলছে। এই ঘটনা কার্যত গোটা বাংলায় সাড়া ফেলে দিয়েছে।
এদিন বিরাটির অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। দমকল তৎপরতার সঙ্গে কাজ চালালেও রাতের ঘুম উড়েছে প্রায় সকলেরই।









