পর্ষদ বলছে, চেষ্টার ত্রুটি নেই ৷ তবু মাধ্যমিকে নকল রোখা যাচ্ছে না ! শনিবার ভূগোল পরীক্ষার দিনও নকল করতে গিয়ে ধরা পড়ল ১২ জন পরীক্ষার্থী ৷ রাজ্যের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার অভিযোগে উঠেছে এই পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুনঃ থমকে গেল কলকাতা মেট্রো! শীতের মরশুমে ব্যহত পরিষেবা
এতদিন নকল রুখতে পর্ষদ প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর কথা বলত ৷ কিন্তু এবার পরীক্ষার শুরু থেকে দেখা যাচ্ছে, পড়ুয়ারা সেই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়েই নকল করছে ৷ লুকিয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে এসে এআই ব্যবহার করে অজনা প্রশ্নের উত্তর জেনে নিচ্ছে পড়ুয়ারা ৷ মাধ্যমিক শুরুর পর থেকে একাধিকবার এই প্রবণতা চোখে পড়েছে পর্ষদের ৷
শুক্রবার পর্যন্ত পরীক্ষা আয়োজনের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের একটা বড় অংশ সন্দেহ করছিলেন, প্রতিটি কেন্দ্রের পড়ুয়াদের কয়েকজন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটি বা দুটি মোবাইল ভিতরে নিয়ে আসত ৷ তারপর কখনও শৌচাগারে আবার কখনও অন্য কোথায় লুকিয়ে এআইয়ের থেকে উত্তর জানার পালা চলত ৷ কিন্তু শনিবার অন্য ছবি দেখা গেল ৷ একাধিক পডুয়ারা লুকিয়ে ফোন নিয়ে এসেছিল বলে পর্ষদ মনে করছে ৷ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “এ বছর টোকাটুকির ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার স্পষ্ট ভাবে ধরা পড়ছে। দলগতভাবে নকল করার এই প্রবণতা একেবারেই নতুন।”
জানা গিয়েছে, শনিবার কলকাতা ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, কোচবিহার, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমানের বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে এই ১২ জন পরীক্ষার্থী মোবাইল ফোন নিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়েছে ৷ কেউ শৌচাগারে মোবাইল লুকিয়ে রেখেছিল ৷ কেউ আবার জুতো অথবা অন্তর্বাসের মধ্যে মোবাইল নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করেছিল । এদের মধ্যে একজনকে মোবাইল বার করার সময় ধরে ফেলেন পরীক্ষার পরিদর্শক ৷
সকলের চোখে ধুলো দেওয়ার ‘অভিনব’ কায়দাও রপ্ত করেছে পড়ুয়াদের কেউ কেউ ৷ গত বছরের প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে চলে আসছে তারা ৷ সুযোগ বুঝে সেই প্রশ্ন পত্র নিজের আসনে রেখে নতুন প্রশ্ন নিয়ে শৌচাগারে চলে যাচ্ছে ৷ মোবাইলের এআইয়ের সাহায্যে নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তর জেনে ফিরে আসছে ৷
আরও পড়ুনঃ ঔদ্ধত্য কত! পরীক্ষার মাঝেই শিক্ষিকাকে ঠাটিয়ে চড় ছাত্রের
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুলের এক গণিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পর্ষদের দাবি, শুক্রবার ইতিহাস পরীক্ষা চলাকালীন তিনি উত্তর লিখে পরীক্ষার্থীদের বলে দিচ্ছিলেন তিনি। পরিদর্শকের নজরে আসতেই ধরা পড়েন ওই শিক্ষক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, শনিবারের ভূগোল পরীক্ষার শেষে কলকাতার মোমিন হাইস্কুলে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে খন্না হাইস্কুলের কয়েক জন পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, পরীক্ষা কেন্দ্র ভাঙচুর চালিয়ে পাখার ব্লেড বেঁকিয়ে দেওয়া হয়। যদিও এ বিষয়ে পর্ষদের কাছে এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। এদিন হুগলির মহেশ্বর হাইস্কুলে ধরা পড়েছে এক কম্পার্টমেন্টাল পরীক্ষার্থীও। অভিযোগ, তার শুধুমাত্র বাংলা ও অঙ্ক পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকলেও সে এতদিন সব পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিল। এই ঘটনায় ভেন্যু সুপারভাইজ়ারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে পর্ষদ। শনিবার ৫৫ জন পরীক্ষার্থী হাসপাতাল থেকেই পরীক্ষা দিয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়ায় দু’জন পরীক্ষার্থীর জন্য আলাদা পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত মোবাইল ব্যবহারের কারণে মোট ৩১ জনের পরীক্ষা বাতিল করেছে পর্ষদ।









