বেআইনি নির্মাণকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধকে মারধর ও পরে সেই বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় কাঠগড়ায় তৃণমূল কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। উত্তর ২৪ পরগনার উত্তর ব্যারাকপুরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনায় অভিযোগের তীর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের দিকে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল তাঁকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করেছে।
আরও পড়ুনঃ তীব্র উত্তেজনা ব্যারাকপুরে! কাউন্সিলরের লাথিতে বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ
অশীতিপর তুলসী অধিকারীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ব্যারাকপুরে। সেই মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের দিকে। ইতিমধ্যেই তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে খবর। সূত্রের খবর, উত্তর ব্যারাকপুরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে মণিরামপুরে এক নির্মাণ ঘিরে উত্তেজনা চড়ে। সেখানে ওই নির্মাণ ঘিরে প্রতিবাদে নামেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, এই নির্মাণ ছিল অবৈধ। আর সেই অভিযোগ ঘিরেই তুঙ্গে ওঠে পারদ। জানা যাচ্ছে, প্রতিবাদী যুবকদের মারধর করা হয়। মারধর করা হয় হেমন্ত অধিকারী নামের এক যুবককে। আর তাঁর বাবা তুলসী অধিকারী, ছেলেকে বাঁচাতে ছুটে আসেন। ৮১ বছর বয়সী তুলসী অধিকারীর পরিবারের দাবি, রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ওই বৃদ্ধকে মারধর করেন। তাতেই অসুস্থ এবং আহত হন তুলসী অধিকারী। সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারান। বৃদ্ধকে উদ্ধার করে ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। যদিও কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ শনিবারই উড়িয়ে দেয় দল ও কাউন্সিলর। তবে রবিবার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে মৃতের পরিবার। এরপর পদক্ষেপ করে পুলিশ। তদন্তে নেমে প্রথমে কাউন্সিলরকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক। তিনি বলেন, স্থানীয় কাউন্সিলর কেন ব্যক্তিগতভাবে এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়লেন, তা দলের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলেই এই সিদ্ধান্ত। তিনি জানান, প্রশাসন তাদের মতো ব্যবস্থা নেবে এবং আইন আইনের পথেই চলবে।
পেশায় আইনজীবী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগকেই ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। অভিযোগ অস্বীকার করে কাউন্সিলর আগেই জানিয়েছিলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যে। কাউকে আমি মারিনি। রাজনৈতিক স্বার্থে বদনাম করা হচ্ছে।” তবে এবার দল থেকেই সাসপেন্ড করা হল তাঁকে।
আরও পড়ুনঃ উপগ্রহচিত্রে ধরা দিল ভারতের সিঁদুরে গুঁড়িয়ে যাওয়া বিমানঘাঁটির পুনর্নির্মাণ পাকিস্তানের
ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি ব্যারাকপুর মনিরামপুর এলাকার। স্থানীয় বাসিন্দা তুলসী অধিকারীর পরিবার অভিযোগ করে, তাদের বাড়ির সামনে বেশ কিছুদিন ধরে অবৈধ নির্মাণ চলছিল। শনিবার সেই কাজে বাধা দেন তুলসীবাবু। অভিযোগ, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। অভিযোগকারীর বক্তব্য, সেখানে উপস্থিত হয়েই তুলসী বাবু এবং তাঁর ছেলে হেমন্ত অধিকারীকে মারধর শুরু করেন তিনি।
পরিবারের দাবি, একাধিকবার ঘুষি-চড়ের পর বৃদ্ধকে লাথিও মারা হয়। সেই লাথির আঘাতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তুলসীবাবু। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট জগদীশচন্দ্র বসু হাসপাতাল-এ। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের ক্ষোভ, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এমনকি ঘটনার পুনর্নির্মাণ এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে তদন্ত।









