ভারত এখন কৃষি ক্ষেত্রে পুরোপুরি আত্মনির্ভর হওয়ার পথে দ্রুত এগোচ্ছে। কেন্দ্রীয় কৃষি, গ্রামোন্নয়ন ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে, দেশ ফল, সবজি এবং ফুল আমদানি বন্ধ করে দেবে। আর এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকারের পরিকল্পনা চলছে পুরোদমে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বেঙ্গালুরুতে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ (আইসিএআর)-এর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ হর্টিকালচারাল রিসার্চ (আইআইএইচআর)-এর এক পর্যালোচনা বৈঠকে মন্ত্রী এই কথা বলেন।
আরও পড়ুনঃ মরণোত্তর চক্ষুদান বাস্তবায়িত করায় পরিবারকে অঙ্গচুরির কেসে গ্রেফতার করল এরাজ্যের পুলিশ..!
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সহজ ফল, ফুল এবং সবজি আমদানি করব না। এসব ক্ষেত্রে আমাদের আত্মনির্ভর হতে হবে।”ভারত ইতিমধ্যে কৃষিতে অনেক দূর এগিয়েছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, দেশের উৎপাদন এখন ‘ঐতিহাসিক’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগে যেসব ফসলের জন্য আমদানির ওপর নির্ভর করতে হতো, সেগুলোতেও এখন দেশীয় উৎপাদন শুরু হয়েছে।
উদাহরণস্বরূপ, অ্যাভোকাডো যা একসময় পুরোপুরি আমদানি করা হতো, এখন ভারতেই উৎপাদিত হচ্ছে। সবজির ক্ষেত্রে তো কোনো আমদানির প্রয়োজনই নেই বলে মন্ত্রী জানান। ফুল এবং ফলের ক্ষেত্রেও একই লক্ষ্য। সরকারের পরিকল্পনা হলো, উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়ানো, কৃষকদের লাভজনক জাত তৈরি করা এবং গবেষণাকে কৃষক-বান্ধব করে তোলা।এই ঘোষণা ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
আরও পড়ুনঃ ধর্মতলায় নতুন ঘাঁটির খোঁজে বিজেপি, বাড়ি কিনতেই ঝোঁক!
মন্ত্রী বলেন, স্বনির্ভর ভারতের জন্য কৃষিতে স্বনির্ভরতা অপরিহার্য। ফল-সবজি-ফুলের আমদানি বন্ধ হলে কৃষকদের আয় বাড়বে, বিদেশি বাজারের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশীয় সাপ্লাই চেইন আরও মজবুত হবে। উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, মূল্য সংযোজন এবং বাজার সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে ভারতীয় উৎপাদনকে বিশ্বমানের করে তোলা হবে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং কৃষি অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।বর্তমানে ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় ফল ও সবজি উৎপাদক।
তবু কিছু নির্দিষ্ট ফল যেমন আপেল, আঙ্গুর, কিউই, চেরি বা ফুলের কিছু প্রজাতি এখনও আমদানি করা হয়। এই আমদানি মূলত নিউজিল্যান্ড, তুরস্ক, চিলি, থাইল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস থেকে আসে। সরকারের লক্ষ্য এই ফাঁকগুলো পূরণ করা। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এমন জাত তৈরি করতে যা কৃষকদের লাভ দেবে এবং বাজারে চাহিদা মেটাবে।
এই পদক্ষেপ কৃষকদের জন্য বড় সুযোগ। যখন আমদানি কমবে, দেশীয় উৎপাদন বাড়বে, তখন দাম স্থিতিশীল হবে এবং কৃষকরা ভালো মূল্য পাবেন। গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে চ্যালেঞ্জও আছে। জলবায়ু পরিবর্তন, মাটির উর্বরতা হ্রাস, পোকামাকড়ের আক্রমণ এসব মোকাবিলা করে উৎপাদন বাড়াতে হবে। সরকার বলছে, প্রযুক্তি, আধুনিক চাষ পদ্ধতি এবং সরকারি সহায়তার মাধ্যমে এগুলো সম্ভব।









