সম্প্রতি ভারত এমন একটি কাজ করে দেখিয়েছে, যা শুধু খবরের শিরোনাম নয়, বরং ভবিষ্যতের শক্তির ভিত গড়ে দেওয়ার মতো ঘটনা। দেশে বসেই ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির একটি উন্নত চিপ ডিজাইন করা হয়েছে। অনেকের কাছে বিষয়টি শুনতে ছোট লাগতে পারে, কিন্তু বাস্তবে এটি ভারতের প্রযুক্তি ইতিহাসে এক বড় মাইলস্টোন।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূল আমলে বার বার ধর্ষিত বাংলার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মেয়েরা! হুগলির চণ্ডীতলায় এ কি হল?
আজকের দুনিয়ায় মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে স্যাটেলাইট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিফেন্স সিস্টেম—সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু হলো চিপ। চিপই হলো যেকোনো ডিভাইসের মস্তিষ্ক। এই চিপ যত ছোট হয়, তত দ্রুত কাজ করে, কম বিদ্যুৎ খরচ করে এবং ক্ষমতা হয় অনেক বেশি। ২ ন্যানোমিটার মানে এমন এক স্তর, যেখানে এখনো বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশই পৌঁছাতে পেরেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই চিপটি ভারতে ডিজাইন করা হয়েছে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের হাতেই। এটি কোনো সাধারণ ব্যাক-অফিস কাজ নয়। সম্পূর্ণ ডিজাইন থেকে শুরু করে ভ্যালিডেশন পর্যন্ত কাজ হয়েছে ভারতের মাটিতে, Qualcomm-এর উন্নত গবেষণা পরিবেশে। এই সাফল্যের কথা নিজেই প্রকাশ্যে জানিয়েছেন ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ও রেলমন্ত্রী Ashwini Vaishnaw।
অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, চীন যেখানে ৭ ন্যানোমিটারের নিচে যেতে পারছে না, সেখানে ভারত কীভাবে ২ ন্যানোমিটারে পৌঁছাল। এর উত্তর লুকিয়ে আছে দক্ষ মানবসম্পদে। বিশ্বজুড়ে চিপ ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ারদের বড় একটি অংশ ভারতীয়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবস্থায় ডিজাইনই হলো সবচেয়ে কঠিন ধাপ, আর সেই জায়গাতেই ভারত নিজের শক্তি প্রমাণ করেছে।
আরও পড়ুনঃ প্রেমিকাকে সারপ্রাইজ দেবেন বলে তৈরি ছিলেন; কাঠগড়ায় প্রেমিকা! কিন্তু কি এমন ঘটল?
এই সাফল্য শুধু একটি চিপের গল্প নয়। এর মানে হলো ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং হাই-এন্ড ইলেকট্রনিক্সে ভারত ধীরে ধীরে আত্মনির্ভর হতে পারবে। সরকার যে India Semiconductor Mission শুরু করেছে, এই সাফল্য তার বাস্তব ফলাফল বলেই ধরা যায়।
সংক্ষেপে বললে, ২ ন্যানোমিটার চিপ ডিজাইন করা ভারতের জন্য একটি নীরব কিন্তু গভীর পরিবর্তনের সংকেত। এই পথেই ভারত ধীরে ধীরে কেবল ব্যবহারকারী দেশ নয়, বরং বিশ্ব প্রযুক্তি শক্তির অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে।









