কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
নেপালের মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। রামেছাপ জেলার মাচানেতার এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ১০০ মিটার নিচে খাদে পড়ে তামাকোশি নদীতে গিয়ে পড়লে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ চালু হল ২৪ ঘণ্টার টোল-ফ্রি হেল্পলাইন; নয়া উদ্যোগ নয়া উদ্যোগ
রামেছাপ জেলা পুলিশ দপ্তরের উপ-পুলিশ সুপার ভোলা কুমার ভাট্টা জানিয়েছেন, ‘দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজন প্রাণ হারান।’ জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ছয়টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ছয়জন চিকিৎসার সময় মারা যান।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই দুর্ঘটনায় অন্তত আটজন গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে। আহতদের অনেকেরই মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লেগেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কাঠমান্ডু থেকে ওখালঢুঙ্গার পোকালির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল বাসটি। পথে মাচানেতার এলাকায় একটি বাঁক ঘোরার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এরপরই বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে খাদে পড়ে নদীতে গিয়ে পড়ে। বাসটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পুলিশের অনুমান, অন্তত দুই ডজন যাত্রী ছিলেন ওই বাসে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা শাখার কর্মীরা যৌথভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দুর্গম এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজে বেশ বেগ পেতে হয় বলে জানিয়েছেন এক আধিকারিক। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করেন।
আরও পড়ুনঃ অফিস ছুটির সময়ে ফের বিগড়োল মেট্রো! দুর্ভোগ চরমে
প্রসঙ্গত গত কয়েক বছরে নেপালে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, সরু রাস্তা, অতিরিক্ত গতি এবং যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধিকে এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এক দশক আগে যেখানে প্রায় পাঁচ হাজার সড়ক দুর্ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল, সাম্প্রতিক অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা বেড়ে সাত হাজারেরও বেশি হয়েছে। প্রাণহানির ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি, নিয়মিত যানবাহন পরীক্ষা না হওয়া এবং চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব এই সমস্যাকে জটিল করে তুলছে। দুর্ঘটনায় দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষেরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। কারণ তাঁদেরই অধিকাংশ ক্ষেত্রে দূরপাল্লার গণপরিবহনের উপর নির্ভর করতে হয়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে রামেছাপ জেলায়। মৃতদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও পরিবারের হাতে দেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসনের তরফে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।









