দেশের সমস্ত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান, সরকারি কর্মসূচি এবং আনুষ্ঠানিক সমারোহে এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বা বাজানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের তরফে এই মর্মে একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
সূত্রের খবর, নির্দেশিকায় গানে অভিন্নতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে শুধুমাত্র ৬টি স্তবকবিশিষ্ট একটি নির্দিষ্ট সংস্করণই ব্যবহার করতে হবে। সম্পূর্ণ গানটির সময়সীমা নির্ধারিত করা হয়েছে ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড।
আরও পড়ুনঃ আফগানিস্থানের তালিবান সরকার হাত ধরল ভারতের? কিন্তু কি এমন হল!
অনুষ্ঠানসূচিতে নতুন প্রোটোকল
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, অনুষ্ঠানগুলিতে প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে-
- জাতীয় পতাকা উত্তোলন: তেরঙা উত্তোলনের প্রাক্কালে এই নির্দিষ্ট সংস্করণটি বাজাতে হবে।
- রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালের আগমন: রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালদের অনুষ্ঠানে আগমন এবং প্রস্থানের সময় এটি বাদ্যযন্ত্রে বা কণ্ঠসংগীতে পরিবেশন করতে হবে।
- রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালদের ভাষণের আগে এবং পরে এই সংস্করণটি পরিবেশন করা বাধ্যতামূলক।
প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানগুলির মধ্যে সামঞ্জস্য এবং প্রোটোকল বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এই নির্দেশিকা সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
১৫০ বছরের উদযাপনে বিশেষ পদক্ষেপ Vande Mataram Mandatory at Government Events
এই নির্দেশিকাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী উদযাপনের সূচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এই ঐতিহাসিক গানের সম্মানে একটি বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট এবং মুদ্রা প্রকাশ করেছেন।
১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর (অক্ষয় নবমী) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই কালজয়ী গানটি রচনা করেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এটি ছিল দেশাত্মবোধের অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা। এই ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে আগামী ৭ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বিশেষ অনুষ্ঠান চলবে।
এদিকে, এই নতুন নির্দেশিকা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক। শীতকালীন অধিবেশনে সংসদ চত্বরেও এই বিষয় নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা লক্ষ্য করা গিয়েছে।









