নেহরু থেকে গান্ধী: বংশপরিচয় ও নামের গোলকধাঁধায় এক অনন্য সফর!
সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে কান পাতলেই শোনা যায় গান্ধী পরিবারকে নিয়ে হাজারো তত্ত্ব। কিন্তু ইতিহাস আর মিথ্যের ফারাক ঠিক কোথায়? চলুন আজ নেহরু-গান্ধী পরিবারের ইতিহাসের অলিগলি থেকে ঘুরে আসা যাক।
আরও পড়ুনঃ দুঃসংবাদ! ঢেউ আসছে AI-র; কর্মী ছাঁটাই করতে চলেছে গুগল
‘নেহরু’ আসলে কোনো পদবী ছিল না?
নেহরু পরিবারের আদি নিবাস ছিল কাশ্মীর। তাঁরা ছিলেন উচ্চবংশীয় কশ্মীরি পণ্ডিত (সারস্বত ব্রাহ্মণ)। তাঁদের আদি পদবী ছিল ‘কৌল’। ১৭১৬ সালে মুঘল সম্রাট ফারুকশিয়ারের আমন্ত্রণে তাঁরা দিল্লি আসেন। যমুনার একটি খালের (নহর) ধারে তাঁদের বসবাসের জায়গা দেওয়া হয়েছিল। উর্দু বা ফারসিতে খালের নাম থেকেই লোকমুখে তাঁরা পরিচিত হতে শুরু করেন ‘নেহেরু’ নামে। এভাবেই ‘কৌল’ হারিয়ে গিয়ে জন্ম হলো ‘নেহরু’ পরিচয়ের।
পণ্ডিত বংশ থেকে ‘গান্ধী’ পদবীর রহস্য
অনেকেই মনে করেন ইন্দিরা গান্ধী তাঁর স্বামী ফিরোজ গান্ধীর থেকে এই পদবী পেয়েছেন। কিন্তু ফিরোজ কে ছিলেন? তিনি কি মুসলিম ছিলেন?
তথ্য বলছে, ফিরোজ গান্ধীর আসল নাম ছিল ফিরোজ জাহাঙ্গীর ঘ্যান্ডি। তিনি ছিলেন একজন পার্সি (Zoroastrian) পরিবারের সন্তান। জওহরলাল নেহরু প্রথমে এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না। পরবর্তীতে মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ফিরোজ তাঁর পদবী ‘ঘ্যান্ডি’ (Ghandy) থেকে বদলে ‘গান্ধী’ (Gandhi) করেন। এভাবেই ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী নেহরু হয়ে উঠলেন ইন্দিরা গান্ধী।
আরও পড়ুনঃ খুব সাবধান! সময়ের আগেই আসছে তীব্র গরম; ফেব্রুয়ারিতেই হবে ৩২ ডিগ্রি
এক পরিবারে হিন্দু, খ্রিস্টান, পার্সি ও মুসলিমের মেলবন্ধন!
গান্ধী পরিবার যেন ভারতের ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ র এক জীবন্ত প্রতীক। এই পরিবারের সদস্যদের বৈবাহিক সম্পর্কের দিকে তাকালে দেখা যায়:
* ইন্দিরা গান্ধী: হিন্দু ব্রাহ্মণ কন্যা, বিয়ে করেন পার্সি ফিরোজ গান্ধীকে।
* রাজীব গান্ধী: বিয়ে করেন ইতালীয় বংশোদ্ভূত রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টান সোনিয়া মাইনোকে।
* প্রিয়াঙ্কা গান্ধী: বিয়ে করেন হিন্দু-খ্রিস্টান মিশ্র পরিবারের সন্তান রবার্ট ভাদরাকে।
* ভবিষ্যৎ প্রজন্ম: বর্তমান জল্পনা অনুযায়ী, প্রিয়াঙ্কার পুত্র রেহান ভাদরার বাগদান হতে চলেছে মুসলিম ব্যবসায়ী পরিবারের কন্যা অবিবা বেগের সঙ্গে।
কেন এই ইতিহাস জানা প্রয়োজন?
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত অনেক ভুল তথ্যের মাঝে প্রকৃত ইতিহাস হলো এই যে, নেহরু পরিবার মুঘল দরবারে উচ্চপদে কাজ করলেও তাঁরা মূলে কশ্মীরি পণ্ডিত ছিলেন। ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে একের পর এক ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সাথে যুক্ত হয়েই এই পরিবার আজকের রূপ নিয়েছে। এটি কোনো রাজনৈতিক তত্ত্ব নয়, বরং একটি পরিবারের বিবর্তনের দীর্ঘ ইতিহাস।
আপনি কি মনে করেন? একটি রাজনৈতিক পরিবারের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কি তাঁদের শাসনের বিচার করার মাপকাঠি হওয়া উচিত?









