কেন্দ্রীয় শ্রম কোড আইন বাতিল-সহ একাধিক দাবিতে 21টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন আজ (বৃহস্পতিবার) শিল্প ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে । পাশাপাশি বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির একটি যৌথ ফোরাম রাজ্যে ‘বাংলা বাঁচাও’ এর ডাক দিয়ে বিক্ষোভে নেমেছে । দেশজোড়া শিল্প ধর্মঘট ট্রেড ইউনিয়নগুলির মধ্যে রয়েছে সিআইটিইউ, এআইটিইউসি এবং ইউটিইউসি-সহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ৷
আরও পড়ুনঃ ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি! আজ দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক
তাদের দাবি, গতবছর 29টি শ্রম আইন বাতিল করে যে চারটি শ্রম কোড চালু করা হয়েছে, তা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী ৷ নতুন কোডে শ্রমিকদের অধিকার খর্ব হয়েছে, চাকরির নিরাপত্তা কমেছে এবং নিয়োগকর্তাদের কর্মী নিয়োগ ও ছাঁটাই সহজ হয়েছে । পাশাপাশি, বেসরকারিকরণ, মজুরি কাঠামো এবং সামাজিক সুরক্ষার অভাব নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে । তাই রাজ্যব্যাপী শিল্প ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে ৷.
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হুগলির ভদ্রেশ্বরের শ্যামনগর নর্থ জুটমিল ও বাঁশবেড়িয়ার গ্যাঞ্জেস জুট মিলে বিক্ষোভ দেখিয়ে ধর্মঘটে সামিল হয় শ্রমিক ইউনিয়নগুলি । সকাল 6টায় জুটমিলের গেট খুললেও কাজে যোগ দেননি শ্রমিকরা ৷ জুটমিল গেটে পিকেটিং করে দেন বিক্ষোভকারীরা । মর্নিং শিফটে শ্রমিকরা এলেও মিলের ভিতরে ঢোকেননি কেউ ।
বামপন্থী দলগুলির ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃত্বের দাবি, শ্রমিকদের সঙ্গে চুক্তি মানতে চায় মালিক পক্ষ, শ্রমিকরা এখন আর রোজ কাজ পায় না । যাঁরা কাজ পাচ্ছেন তাঁদের উপর কাজের বোঝা বাড়ানো হচ্ছে । মজুরি বৃদ্ধি, গ্রেডেশন চালু এবং গেট বাহার না-করার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা ।
আরও পড়ুনঃ যে শিব আমাদের পৃথিবীর নয়! গুডিমল্লম শিব
বামফ্রন্ট এবং বামপন্থী কর্মচারী ফেডারেশনগুলি এই শিল্প ধর্মঘটকে সমর্থন করছে । তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ধর্মঘটের ডাক দেওয়া কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির যৌথ ফোরাম জানিয়েছে, রাজ্যে স্কুলগুলিতে বোর্ডের পরীক্ষার কারণে গণপরিবহন ধর্মঘটের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে । এর আগে গত 9 জানুয়ারি ট্রেড ইউনিয়নগুলির একটি দল কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রমিক-বিরোধী, কৃষক-বিরোধী এবং দেশ-বিরোধী কর্পোরেট-পন্থী নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়ে দেশব্যাপী ধর্মঘটের ঘোষণা করেছিল ৷
বুধবার বিকেলে রাজ্য অর্থ দফতরের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ধর্মঘটের দিন সমস্ত রাজ্য সরকারি অফিস খোলা থাকবে এবং কর্মচারীদের হাজিরা বাধ্যতামূলক । নবান্ন’র তরফে স্পষ্টবার্তা, বৃহস্পতিবার যথার্থ কারণ ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে বেতন কাটা যাবে, এমনকী জুটতে পারে শো-কজ নোটিশও ।









