গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের অভিযোগ তুলে তৃণমূল নেতৃত্বে পদত্যাগের হিড়িক ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল রাজনৈতিক মহলে। একযোগে ইস্তফা দিলেন তিন তৃণমূল নেতা। ভোটের আবহে এই ঘটনাকে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে জেলা থেকে রাজ্য রাজনীতিতে।
আরও পড়ুনঃ উত্তপ্ত বাংলাদেশ, দুই শিবিরের ধস্তাধস্তি! খুলনায় নিহত বিএনপি নেতা
দলীয় অন্দরের কোন্দল যে অনেকদিন ধরেই ধিকিধিকি জ্বলছিল, এদিনের পদত্যাগ যেন সেই আগুনকেই প্রকাশ্যে নিয়ে এল।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় তৃণমূলের(TMC) মধ্যে একাধিক গোষ্ঠী সক্রিয়। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে কর্মসূচি নির্ধারণ প্রায় সব ক্ষেত্রেই মতবিরোধ ছিল স্পষ্ট। এক গোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বললে অন্য গোষ্ঠীর নেতাদের (TMC) মধ্যে তৈরি হচ্ছিল অসন্তোষ। অভিযোগ, দলীয় বৈঠকেও বারবার প্রকাশ্যে এসেছে বিভাজনের চিত্র। ফলে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও তৈরি হচ্ছিল বিভ্রান্তি।
পদত্যাগী নেতাদের দাবি, তাঁরা বারবার ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তাঁদের কথায়, “দলের স্বার্থে আমরা বহুবার সমঝোতার চেষ্টা করেছি। কিন্তু গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে কাজ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।” লাগাতার মানসিক চাপ ও অপমানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছিল বলেও অভিযোগ তাঁদের।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে তিন নেতা একযোগে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন। লিখিতভাবে দলীয় নেতৃত্বের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তাঁরা। যদিও তাঁরা দল ছাড়ছেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি। আপাতত সব সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং সংগঠনের স্বচ্ছতা ও সুস্থ পরিবেশের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ।









