spot_img
Friday, 13 February, 2026
13 February
spot_img
Homeআন্তর্জাতিক নিউজBangladesh Election 2026: বাংলাদেশে ‘প্রহসনের’ নির্বাচন, দাবি হাসিনার

Bangladesh Election 2026: বাংলাদেশে ‘প্রহসনের’ নির্বাচন, দাবি হাসিনার

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতে, এই নির্বাচন 'সুপরিকল্পিত প্রহসন'।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘প্রহসনের ভোট’ বললেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবারের ভোটে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কম। সমাজমাধ্যমে হাসিনার দাবি, দেশবাসী এই ‘প্রহসনের ভোটকে প্রত্যাখান’ করেছেন। সে জন্য তাঁদের ধন্যবাদও জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রধান।

আরও পড়ুনঃ উত্তপ্ত বাংলাদেশ, দুই শিবিরের ধস্তাধস্তি! খুলনায় নিহত বিএনপি নেতা

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের সচিব জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত (বাংলাদেশের সময়) দেশের ৩২,৭৮৯ কেন্দ্রে ভোটের হার ছিল ৩২.৮৮ শতাংশ। হাসিনা জানান, দেশের মানুষ এই ভোটকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘অবৈধ এবং অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলকারী ইউনূসের আজকের তথাকথিত নির্বাচন ছিল মূলত একটি সুপরিকল্পিত প্রহসন। জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংবিধানের চেতনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আয়োজন করা হয়েছে আওয়ামী লীগবিহীন— ভোটারবিহীন প্রতারণামূলক নির্বাচন।’

হাসিনা এখানেই থামেননি। তিনি ভোট কেনাবেচা, কারচুপির অভিযোগও করেছেন। ভোটে হিংসা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা লেখেন, ‘১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর থেকেই ভোটকেন্দ্র দখল, গোলাগুলি, ভোট কেনাবেচা করতে টাকার ছড়াছড়ি, ব্যালট পেপারে সিল প্রদান এবং ফলাফল শিটে এজেন্টদের স্বাক্ষর গ্রহণের মধ্যে দিয়েই এই প্রহসনের সূচনা হয়।’ তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশের ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ‘নগণ্য’। রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বেশ কিছু জায়গায় বহু ভোটকেন্দ্র ছিল ‘ভোটারশূন্য’।

এই বাংলাদেশ নির্বাচনে হাসিনার দল আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারেনি। তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। হাসিনা জানান, বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগ ছাড়া এই ভোটকে ‘প্রত্যাখ্যান’ করেছেন। তিনি লেখেন, ‘আওয়ামী লীগবিহীন এই ভোট জনগণ বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছেন।’ এ প্রসঙ্গে তিনি ভোটদানের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেছেন। হাসিনা নিজের পোস্টে লিখেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত (সাড়ে তিন ঘণ্টায়) ভোটগ্রহণের হার ছিল মাত্র ১৪.৯৬ শতাংশ।’ হাসিনা মনে করেন, ‘ভোটগ্রহণের উৎকৃষ্ট সময়ে জনগণের এই কম অংশগ্রহণ’ প্রমাণ করে যে, তাঁরা ভোট প্রত্যাখ্যান করেছেন।

হাসিনার অভিযোগ, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের জোর করে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছে। এ জন্য তাঁদের ‘ভয় দেখানো হয়েছে’। গত কয়েক দিন তাঁদের উপরে ‘হামলা’ও হয়েছে। হাসিনার কথায়, ‘সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে তাঁরা এই প্রতারণামূলক নির্বাচন বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রই ছিল কার্যত ভোটারশূন্য।’ ঢাকায় ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসিনা। তিনি জানিয়েছেন, এই বিষয়টি ‘অবিশ্বাস্য’। এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর দলের নেতারাও। আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১১টা পর্যন্ত সাড়ে তিন ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ১৪.৯৬ শতাংশ। তার পরের এক ঘণ্টায় ভোটের হার বেড়ে হয়েছে ৩২.৮৮ শতাংশ। এটা অস্বাভাবিক। বাংলাদেশের ভোটগ্রহণের ইতিহাস বলছে, ১১টা পর্যন্তই ভোটের হার সর্বোচ্চ থাকে। ১২টার পর থেকে ভোটকেন্দ্রে ভোটার থাকেন নামমাত্র।’’

এর পরেই হাসিনা দাবি করেছেন, ‘ভোটারবিহীন অবৈধ ও অসাংবিধানিক’ নির্বাচন বাতিল করা হোক। তাঁর আরও দাবি, আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের উপর যে স্থগিতাদেশ রয়েছে, তা তুলে নেওয়া হোক। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করানোরও দাবি তুলেছেন তিনি। ‘রাজবন্দি-সহ শিক্ষক-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবী-সহ সকল পেশাজীবীর বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার করার দাবিও তুলেছেন হাসিনা।

আরও পড়ুনঃ জামাতের জ্যামিতির ছক! বদলে যাবে বাংলাদেশের ভোটের পাশা?

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা (বাংলাদেশের সময়) থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ পর্ব। সকালের দিকে মোটের উপরে নির্বিঘ্নেই চলছিল ভোটপর্ব। দুপুর ১২টা পর্যন্ত সে দেশের ৩২,৭৮৯টি ভোটকেন্দ্রে ৩২.৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। যদিও আওয়ামী লীগের এক নেতার দাবি, সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে মাত্র ১৪.৯৬ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে এক ঘণ্টার ব্যবধানে ভোটদানের হার যতটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা ‘অস্বাভাবিক’ বলেও দাবি ওই আওয়ামী লীগ নেতার। কমিশনের হিসাবে, দুপুর ২টো পর্যন্ত ৩৬,০৩১টি ভোটকেন্দ্রে ৪৭.৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ভোটের এই হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। তাদের দাবি, সর্বত্রই ভোটারদের উপস্থিতি বেশ কম। ঢাকা-সহ তিনটি বিভাগে ভোটের হার নিয়ে আলাদা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা। দলের তরফে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সারা দেশেই ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি বেশ কম। আমাদের জন্য এমন পরিস্থিতি শুভ নয়। যত বেশি মানুষ ভোট প্রদান করবে, আমাদের ভোট তত বাড়বে।’ এ বার ভোটের হার নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দিকে আঙুল তুললেন হাসিনাও।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন