বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনটি ছিল উত্তেজনা আর প্রত্যাশায় ভরা । সারাদেশে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে, গণনা চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর খবর এসেছে ঢাকা-১৫ আসন থেকে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজের ভোটকেন্দ্রেই পরাজিত হয়েছেন। সকালে মিরপুরের মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ (বালক শাখা) কেন্দ্রে ভোট দিয়ে তিনি যখন বেরিয়ে আসেন, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন এই কেন্দ্রে তার প্রভাব অটুট।
আরও পড়ুনঃ জাদুসংখ্যার দিকে দ্রুত এগোচ্ছে বিএনপি, গর্জালেও ভোটে বর্ষাল না জামাত!
কিন্তু প্রাথমিক ফলাফলে উল্টো ছবি।ডা. শফিকুর রহমান ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ‘দাড়িপাল্লা’ প্রতীকে লড়েছেন। এই কেন্দ্রে তার প্রাপ্ত ভোট ৫৬০। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫৬৫ ভোট। মাত্র পাঁচ ভোটের ব্যবধানে হার! কেন্দ্রটিতে মোট ভোটার ছিল ১,১৪৭ জন।
এই ছোট্ট ব্যবধানই জামায়াত আমিরের জন্য লজ্জার মতো ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের এলাকায়, নিজের কেন্দ্রে এমন ফল অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত।সকাল সাড়ে আটটার দিকে ডা. শফিকুর রহমান ভোট দেন। ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, তাহলে ফল যাই হোক আমরা মেনে নেব।”
তিনি আরও বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জেলে থাকায় ভোট দিতে পারেননি। আলহামদুলিল্লাহ, আজ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তার কথায় ছিল আশাবাদ, “ইনশাআল্লাহ জয় হবে।” কিন্তু কেন্দ্রের ফলাফল দেখে মনে হয়েছে, স্থানীয় ভোটাররা তার প্রতি আস্থা রাখেননি।ঢাকা-১৫ আসন মিরপুর-কাফরুল এলাকা নিয়ে গঠিত। এখানে জামায়াতের ঐতিহ্যগত প্রভাব থাকলেও এবারের নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে তাদের জোট ভাঙার পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নয়াদিল্লিতে নামিবিয়া বধ, ঐতিহাসিক জয় ভারতের সূর্য ব্রিগেডের
জামায়াত ১১ দলীয় জোট গঠন করে নির্বাচনে নেমেছে, যেখানে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির মতো নতুন শক্তি যুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি তারেক রহমানের নেতৃত্বে শক্ত অবস্থানে। মিরপুরের মতো এলাকায় বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের সংখ্যা বেশি। এই কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খানের জয়কে অনেকে স্থানীয় রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রতিফলন বলছেন।
এই ঘটনা জামায়াতের জন্য বড় ধাক্কা। দলের সর্বোচ্চ নেতা নিজের কেন্দ্রে হেরে গেলে দলীয় মনোবল কতটা প্রভাবিত হয়, তা সহজেই অনুমান করা যায়। সারাদেশে জামায়াত জোট কিছু আসনে এগিয়ে থাকলেও এই খবর ছড়িয়ে পড়ায় সমালোচকরা বলছেন, জামায়াতের ‘ইসলামী রাষ্ট্র’ গঠনের স্বপ্ন এখনও স্বপ্ন । অনেকে মনে করেন, ভোটাররা ধর্মীয় স্লোগানের চেয়ে বাস্তব পরিবর্তন চান। বিএনপির পক্ষ থেকে এই ফলকে ‘জনগণের রায়’ বলা হচ্ছে।









