শীতকালীন অলিম্পিক্সে মাঠে-টার্ফে লড়াই জমে উঠেছে। কিন্তু গেমস ভিলেজে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত সঙ্কট। মিলান-কোর্তিনা অলিম্পিক্সে মাত্র তিন দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে ফ্রি কন্ডোমের প্রথম মজুত। আয়োজকরা শুরুতে ১০ হাজার প্যাকেট সরবরাহ করেছিলেন। সেই স্টক মুহূর্তে উধাও। যে কারণে নতুন করে আমদানির আশ্বাস দিতে হয়েছে কমিটিকে!
আরও পড়ুনঃ ভারতের ট্রেড ইউনিয়নগুলির মুখে কুলুপ; ১৩ লাখ কর্মীর চাকরি ঝুঁকির মুখে
অলিম্পিক ভিলেজে প্রায় তিন হাজার ক্রীড়াবিদ থাকছেন। তাঁদের জন্য শুরুতে প্রায় ৯,৭০০-১০,০০০ প্যাকেট কন্ডোম রাখা হয়েছিল। প্রয়োজনে আরও দেওয়া হবে—মিলেছিল এমন প্রতিশ্রুতিও। কিন্তু চাহিদা এত দ্রুত বেড়েছে, যে প্রথম দফার সরবরাহ তিন দিনের মধ্যেই শেষ। কোর্তিনা দি’আমপেজোতে তৈরি অস্থায়ী আবাসনে থাকছেন বিভিন্ন দেশের অ্যাথলিট। সীমিত ব্যক্তিগত পরিসর, ভাগ করা কমন স্পেস—সব মিলিয়ে ভিলেজের পরিবেশ রীতিমতো ‘ঘনিষ্ঠ’। ফলে চাহিদাও তুঙ্গে!
আয়োজকদের বক্তব্য, নতুন স্টক দ্রুত এনে গেমস চলাকালীন নিয়মিত বিলি চালু থাকবে। তবে যাই আশ্বাস আসুক না কেন, এই ঘাটতি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ আজ থেকেই শুরু ইন্ডিয়ান সুপার লিগ; গতকাল সম্পূর্ণ স্কোয়াড ঘোষণা করল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট
বিতর্ক আরও বড় হয়েছে, কারণ প্যারিস অলিম্পিক্সে প্রায় ২ লক্ষ পুরুষ ও ২০ হাজার মহিলা কন্ডোম দেওয়া হয়েছিল। সেবার অংশগ্রহণকারী ছিলেন প্রায় ১০,৫০০ অ্যাথলিট। তার আগে একাধিক অলিম্পিক্সে ৩ লক্ষ পর্যন্ত কন্ডোম বিতরণের নজির রয়েছে। সেই তুলনায় মিলানের ১০ হাজার প্যাকেট সরবরাহ অনেক কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনায় ঘাটতি থেকেই এই সংকট।
অলিম্পিক ভিলেজে বিনামূল্যে কন্ডোম দেওয়া নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরে এই স্বাস্থ্য-উদ্যোগ প্রচলিত। হাজার হাজার তরুণ অ্যাথলিট কয়েক সপ্তাহ একই কমপ্লেক্সে থাকেন। নিরাপদ যৌনতা ও সচেতনতা বজায় রাখা এই প্রকল্পের মোদ্দা লক্ষ্য। এর আগে একমাত্র টোকিও অলিম্পিক্সে কোভিড বিধিনিষেধের কারণে ‘ঘনিষ্ঠতা’ জমেনি। কিন্তু সেই ‘দুঃসময়’ পেরিয়েছে। স্বাভাবিক ভিলেজ জীবন ফিরতে চাহিদাও বেড়েছে। আয়োজকদের মতে, পরিস্থিতি খুব তাড়াতাড়ি সামাল দেওয়া হবে। তবে তিন দিনের মধ্যেই মজুত শেষ হয়ে যাওয়া দেখিয়ে দিল—অলিম্পিক ভিলেজের চিরায়ত ‘ঐতিহ্য’ এখনও অটুট।









