spot_img
Sunday, 15 February, 2026
15 February
spot_img
Homeলাইফ-স্টাইলMedicine: প্রশ্ন ক্রেতাদের মনের মধ্যে! ব্র্যান্ডেড ওষুধ বনাম জেনেরিক ওষুধ

Medicine: প্রশ্ন ক্রেতাদের মনের মধ্যে! ব্র্যান্ডেড ওষুধ বনাম জেনেরিক ওষুধ

ইউ.এস.এ র মত উন্নত দেশেও ৮০% ওষুধ জেনেরিক নামে বিক্রি হয়।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

ইদানিং একটা প্রশ্ন ক্রেতাদের মনের মধ্যে আসে, ব্রান্ডেড ওষুধ এর তুলনায় জেনেরিক ওষুধের দাম এত কম হয় কী করে ? ওগুলো কি সত্যি কাজ করে ?

এটা বোঝার জন্যে প্রথমে বুঝতে হবে Ethical Branded Medicine কী আর Generic Medicine এর মধ্যে পার্থক্য কী ?

Ethical Branded Medicine কথাটার মানে হল এটি বিভিন্ন মাধ্যমে জনসাধারনের মধ্যে প্রচার করা যায় না ।( সাবান বা টুথপেস্টের মত মিডিয়াতে পাব্লিক অ্যাড করা যায় না)। এর মধ্যে যে  Chemical (Basic Medicine)টি থাকে, প্রত্যেক কোম্পানি তাদের নিজেদের জন্যে একটা ব্র্যান্ড নাম দেয় এবং সেই নাম  রেজিস্টার্ড  করিয়ে  নেয় । তারপর  মার্কেটিং টীম (Medical representative /Manager)-এর মাধ্যমে  সরাসরি ডাক্তারের কাছে গিয়ে ঐ  ব্র্যান্ড নামের সপক্ষে প্রেসক্রিপসন  চায় ।

ডাক্তার ঐ ব্র্যান্ড নেম প্রেস্ক্রাইব  করলে সেটি বিক্রি হয় – এবং Sale  কোম্পানির খাতায় জমা হয় । সাধারন মানুষ  ব্র্যান্ড নেম আর তার মধ্যে রাসায়নিকের   (জেনেরিক নেম) পার্থক্য জানে না, জানা সম্ভবও নয় – তাই ডাক্তার যা  প্রেস্ক্রাইব করেন, তারা তাই কিনে

নেয় । সুতরাং এখানে ওই  ব্র্যান্ড মার্কেটিং বা প্রেসক্রিপসন এর জন্য কোম্পানিকে অতিরিক্ত খরচ করতে হয় ।

আরও পড়ুনঃ পুলিশ-জনতার সংঘর্ষ! মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ

আর জেনেরাল ওষুধের ক্ষেত্রে শুধু ঐ কেমিক্যালের নামটুকুই যথেষ্ট । অল্প সংখ্যক মানুষ যারা বোঝেন, ব্র্যান্ডেড ওষুধের কেমিক্যাল এবং জেনেরিকে ব্যবহৃত কেমিক্যাল একই – তাঁরা ওই জেনেরিক ওষুধ কিনে নেন । অবশ্য তখন প্রশ্ন আসবে – সস্তার  ওষুধ কি একই কাজ করবে ? সঙ্গত প্রশ্ন ।

তাহলে প্রথমে দামের ব্যাপারটা হিসেব করা যাক

ব্র্যান্ডেড ওষুধের ক্ষেত্রে একটা কোম্পানির কত খরচ হয় ?

১.খুচরো ওষুধের দোকান ————-২০- ৩০%

২.স্টকিস্ট —————————– ১০%

৩.প্রোমোশনাল এক্সপেন্স **———- ২০%

৪. ডাক্তারকে বিশেষ সেবা # #——- ২০-৩০%

মোট প্রায় —————————-৮০%

প্রমোশনাল এক্সপেন্স – মানে Medical representative/ Manager দের  salary. Expense, daily allowance, travelling allowance, তাছাড়া Sample , literature ইত্যাদি ।

যে কোন একটা ওষুধ অন্তত ২৫-৩০টি কোম্পানির ব্র্যান্ড নামে বাজারে পাওয়া যায় । প্রত্যেক কোম্পানিই চাইবে যে ডাক্তার তাদের ব্র্যন্ড নামে প্রেসক্রাইব করুক – কারন তাহলেই সেটি তার কোম্পানির খাতায় যোগ হবে । তবে ডাক্তার কোন ব্র্যন্ড প্রেসক্রাইব করবে – সেটি তার ইচ্ছা । তবে বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি ডাক্তারকে খুশি করার জন্যে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি গ্রহন করে । তাই বর্তমানে ডাক্তারকে খুশি করার জন্যে উৎকোচ  দেবার পদ্ধতিও প্রচলিত হয়েছে ।

ডাক্তারকে খুশি করা – মানে ডাক্তারের জন্য উপহার, ডাক্তার বা তার  পরিবারের জন্য জন্মদিনের cake, উপহার, ডাক্তাররা যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে  বিভিন্ন conference এ যোগ দেন, তাঁদের যাতায়াত, থাকা, খাওয়ার জন্য ভাল  হোটেলের ব্যবস্থা – এমনকি তেমন বড় নাম করা কোন ডাক্তার হলে—তাঁদের সপরিবারে ব্যাংকক পাটায়া বেড়াতে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি ।

(অবশ্য এখানে জোর গলায় একটা কথা জানিয়ে রাখি – সব ডাক্তার কিন্তু এমন নন ।  এমন ডাক্তার আছেন যারা কোন কোম্পানির এই ধরনের উৎকোচ গ্রহন করেন না । তাঁরা চেষ্টা করেন রুগী বৎসল থাকার । নিজের স্বার্থে রুগীকে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন না ।)

তাহলে ঐ ওপরের হিসেব থেকে বোঝা গেল,  যে ওষুধ ১০০ টাকা/ প্রতি স্ট্রিপ দামে বিক্রি হয় সেটি আসল দাম ২০ টাকা/ প্রতি স্ট্রিপ বা তারও কম । আবার ঐ ২০ টাকার মধ্যে যেহেতু পরিবহণ খরচ এবং বিভিন্ন ট্যাক্স জুড়ে থাকে, তাই কোন ওষুধের উৎপাদন খরচ  ১০% এর বেশি হলে কোম্পানির বিশেষ কোন লাভ থাকবে না ।

এবার আসি জেনেরিক ওষুধের কথায় । সেখানে প্রোমোশনাল এক্সপেন্স, ডাক্তারদের প্রতি খরচ ইত্যাদি থাকে না । তাই ঐ ২০ টাকার ওপর স্টকিস্ট আর রিটেলারের ৩০% যোগ করলেও – তার দাম ২৬—২৭ টাকার বেশি হবে না । অর্থাৎ যে ব্রান্ডেড ওষুধ আপনি বাধ্য হয়ে ১০০ টাকায় কিনছেন, সেই একই ওষুধ জেনেরিকে দাম পড়বে ২৬ টাকা (বা আরও কম)।

আরও পড়ুনঃ শ্রদ্ধা জানাল গোটা দেশ! নৃশংস হামলার ৭ বছর

এবারে দুটি বাস্তব উদাহরণ দেব।

১.কোন একটি কোম্পানির হাই-ব্লাডপ্রেসারের একটি ব্র্যান্ডেড ওষুধের এম.আর.পি ছিল ২২ টাকা

প্রতি স্ট্রিপ । ওই একই কোম্পানি, একই মেশিনে, একই উপাদানে তৈরি ঐ ওষুধ  জেনেরিক হিসাবে একটি Railway bulk purchase এর tenderএর জন্য দাম Quote  করেছিল ২ টাকা ৩০ পায়সা প্রতি স্ট্রিপ (অর্থাৎ MRP র ১০%) এবং সেটিও কোম্পানি লাভ রেখেই দিয়েছিল ।

২. একটি কোম্পানি একটি ওষুধ (এম.আর.পি ৮০ টাকা প্রতি স্ট্রিপ)   নিজেদের ফ্যাক্টরির অভাবে অন্য ফ্যাক্টরি থেকে তৈরি করাতো । সেই প্রস্তুতকারক কোম্পানি নতুন কোম্পানিকে সাপ্লাই দিত ৩ টাকা ১০ পয়সা প্রতি স্ট্রিপ । অর্থাৎ অন্য কোম্পানিতে তৈরি ওষুধ এই নতুন কোম্পানি কিনতো ৩.১০ টাকা দামে আর পেসেন্ট কিনতো ৮০ টাকায় ।

পারসেন্টেজের হিসেবটা কত হল, সেটি সহজ হিসাব সাপেক্ষ ।

অর্থাৎ যে কথাটা প্রথমেই বলেছি, যে কোন ব্র্যান্ডেড ওষুধের MRP তার প্রোডাকশন খরচের অন্তত দশ গুন ।

তাহলে সহজ হিসেবটা দাঁড়ালো – একটি ১০০ টাকার ওষুধ বিভিন্ন খাতে খরচের কারণে ১০০ টাকা হয়েছে — কিন্তু তার উৎপাদন খরচ ১০ টাকার বেশি নয় । সুতরাং  কোম্পানি জেনেরিক হিসাবে বিক্রি করতে চাইলে, ক্রেতা ২০-২২ টাকায় কিনতে পারবে ।

সুতরাং ওষুধ উৎপাদক কোম্পানির ন্যুনতম সততা থাকলে ঐ ২০-২২ টাকায় বিক্রি করলেও সমান লাভ করবে ।

অবশ্য তার মধ্যেও যদি কেউ মানুষকে ঠকাতে চায়, ওষুধের গুনগত মানে আপস করে বা বেশি লাভ করতে চায় – তাহলে অন্য কথা । সেটা আরও বেশি অনৈতিক ।

এর থেকে আর একটা বিষয় পরিস্কার যে কিছু ডাক্তরাবাবু (সবাই নয়) কেন তাঁরই প্রেসক্রাইব করা ওষুধ কেনার জন্য জোর দেন ।

আর গুনগত মান নিয়ে সন্দেহ থাকলে – তার জন্যে Central Drug Testing Laboratory/ Drug Control তো আছেই । Quality Compromised হলে সেই কোম্পানির লাইসেন্স পর্যন্ত বাতিল হতে পারে ।

প্রসঙ্গক্রমে জানিয়ে রাখি, ইউ.এস.এ র মত উন্নত দেশেও ৮০% ওষুধ জেনেরিক নামে বিক্রি হয়।

সঙ্গত কারনেই লেখক কিন্তু কোন কোম্পানির নাম, ওষুধের ব্র্যান্ড নাম বা কোন ডাক্তারের নামোল্লেখ করেনি। । সেটি ethical নয় ।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন