আকাশ ভরা কালো মেঘ। বৃষ্টি এসে লড়াই ভেস্তে দিতে পারে। যদিও কলম্বোয় টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচ ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে আপাতত না আকাশ, না ক্রিকেট… ফোকাসে স্রেফ ‘করমর্দন’! রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় দল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে ‘নো-হ্যান্ডশেক’ নীতিতে অনড় থাকতে পারে।
সংবাদমাধ্যমের দাবি, ভারতীয় ক্রিকেটাররা খেলার আগে বা পরে পাকিস্তান দলের সঙ্গে করমর্দন করবেন না। এমনকি টসের সময়ও ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের পাকিস্তান অধিনায়ক সলমন আলি আঘার সঙ্গে হাত না মেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।
আরও পড়ুনঃ ভাতা হবে ‘Motivational Boost’,যুবদের চাহিদা বুঝেই পদক্ষেপ, বললেন শশী
২০২৫ সালের এশিয়া কাপের সময় পহেলগাম সন্ত্রাস হামলার পর থেকে দুই দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে করমর্দন বন্ধ রয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতীয় পুরুষ ও মহিলা—দুই দলই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হ্যান্ডশেক এড়িয়ে চলেছে।

এই প্রসঙ্গে গতকাল প্রাক-ম্যাচ কনফারেন্সে প্রশ্ন করা হলে সূর্যকুমার যাদব বলেন, ‘২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এত গুরুত্ব কেন? আমরা ক্রিকেট খেলতে এসেছি। কাল দেখা যাবে কী হয়!’ তাঁর জবাবে প্রকট ইঙ্গিত, বিষয়টি নিয়ে তখনই মন্তব্য করতে নারাজ।
অন্যদিকে পাক অধিনায়ক সলমন আলি আঘাও সরাসরি কিছু বলেননি। সাফ মন্তব্য, ‘কাল দেখা যাবে।’তবে আঘা ‘স্পিরিট অফ দ্য গেম’ বজায় রাখার কথা উল্লেখ করেছিলেন। বক্তব্য, ‘ক্রিকেট ঠিক যেভাবে খেলার কথা, সেভাবেই খেলা উচিত। ওরা কী করবে, সেটা ওদের সিদ্ধান্ত।’
আরও পড়ুনঃ সৌন্দর্য অর্থহীন; শারীরিক গঠন কি সম্পর্কের মাপকাঠি?
এই ম্যাচ ঘিরে মাঠের বাইরেও কূটনৈতিক সুর শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানিয়েছেন, আইসিসির আমন্ত্রণে তিনি কলম্বোয় উপস্থিত থাকবেন। উদ্দেশ্য—পাঁচটি এশীয় দেশের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে ম্যাচ দেখা এবং পারস্পরিক আলোচনা সেরে ফেলা। ভারতের তরফে বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মনহাস, সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এবং সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লাও উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।
সব মিলিয়ে ভারত-পাক ম্যাচ শুধু ক্রিকেটীয় লড়াই নয়, প্রতীকী বার্তারও মঞ্চ হয়ে উঠেছে। করমর্দন-ইস্যু হয়তো ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু আবেগ, রাজনীতি এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এখন চোখ কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে । ক্রিকেট বলবে শেষ কথা। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই ‘হ্যান্ডশেক’প্রশ্নে উত্তাপ ছড়িয়েছে দুই শিবিরে।








