দোরগড়ায় বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু, বামফ্রন্টে জোটের জট কাটার কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বরং ফরওয়ার্ড ব্লকের অনমনীয় মনোভাবে জোটের জট আরও বাড়তে চলেছে। বিধানসভা নির্বাচনে আইএসএফের সঙ্গে জোট চায় বামফ্রন্টের বড় শরিক সিপিআইএম। কিন্তু আইএসফের সঙ্গে কোনও সমঝোতা করতে চায় না ফরওয়ার্ড ব্লক। শনি ও রবিবার ফরওয়ার্ড ব্লকের ২ দিনের বৈঠকের নির্যাস এটাই। শুধু আইএসএফের সঙ্গে জোটে নিমরাজি হওয়া নয়, এবারের নির্বাচনে ৩২টি আসনেও প্রার্থী দিতে চায় ফরওয়ার্ড ব্লক।
শনিবার আর রবিবার দু’দিন বৈঠক করেন ফরওয়ার্ড ব্লক নেতৃত্ব। প্রথম দিন ছিল রাজ্য কমিটির বৈঠক। দ্বিতীয় দিন রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর। সূত্রের খবর, বৈঠকে স্থির হয়েছে ৩২টি আসনে তাঁরা লড়বেন। ইতিমধ্যেই যা বামফ্রন্টের বৈঠকেও বারবার জানিয়েছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লক নেতৃত্ব।
কয়েকদিন আগে বামফ্রন্টের বৈঠকেও আইএসএফের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করেছিল ফরওয়ার্ড ব্লক। বৈঠক চলাকালীন ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়কে তড়িঘড়ি আলিমুদ্দিন ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছিল। পরে তিনি বলেছিলেন, “আমরা বলছি, বামফ্রন্টগতভাবে লড়াই চাই। মানুষ বামফ্রন্টকে বিশ্বাস করে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বামফ্রন্টকে ৩৬ বছর ক্ষমতায় রেখেছে। মানুষের প্রত্যাশা নেই বামফ্রন্টের কাছে?”
আরও পড়ুনঃ বঙ্গ ব্রিগেডকে নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন! ৩ বছর পর আবার ফাইনাল খেলবে বাংলা
এবার ফরওয়ার্ড ব্লকের ২ দিনের বৈঠকেও একই বক্তব্য উঠে এল। ফরওয়ার্ড ব্লক নেতৃত্বের বক্তব্য, বামফ্রন্টগতভাবে লড়তে কোনও সমস্যা নেই। আপত্তি নেই। আইএসএফের সঙ্গে যেভাবে সিপিআইএম যেতে চাইছে, তা নিয়ে ফরওয়ার্ড ব্লকের কোনও আগ্রহ নেই। সিপিআইএমের কথায় আইএসএফকে তারা সমর্থনও করবে না। আবার সিপিআইএমের পরিবর্তে আইএসএফ প্রার্থী দিলে নওশাদ সিদ্দিকীর দলকে ভোট দেবে না বলে স্থির হয়েছে বৈঠকে।
এদিকে সূত্রের খবর, বামফ্রন্টের আলোচনায় প্রাথমিকভাবে ২২টি আসনে ফরওয়ার্ড ব্লকের লড়ার রফাসূত্র মিলেছে। এই বৈঠকে সিপিআইএমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সেই রফা মিলেছে বলে খবর। বাকি আসন নিয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও বৈঠকে উঠে এসেছে। সবমিলিয়ে ভোটের আগে ফরওয়ার্ড ব্লকের কড়া অবস্থানে বামফ্রন্টের জোটের জট আরও বাড়ল বলে রাজনীতির কারবারিরা মনে করছেন।









