পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রশাসনিক স্তরে বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের সাতজন সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (AERO)-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্য প্রশাসনে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নীল নকশা তৈরি! মালদা বিজেপির কার্যালয়ে ভিনরাজ্য থেকে এল বাইক; শুরু রাজনৈতিক তরজা
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ময়নাগুড়ি, সুতি, ক্যানিং পূর্ব, ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ ও ডেবরা এই ছয়টি বিধানসভা এলাকায় কর্মরত সাতজন AERO-র বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রাথমিকভাবে সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাসপেন্ড হওয়া আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন ক্যানিং পূর্বের সত্যজিৎ দাস ও জয়দীপ কুণ্ডু, মুর্শিদাবাদের সুতির শেখ মুর্শিদ আলম, ময়নাগুড়ির ডালিয়া রায় চৌধুরী, সামশেরগঞ্জের শেফাউর রহমান, ফরাক্কার নীতীশ দাস এবং ডেবরার দেবাশিস দাস।
কমিশনের অভিযোগ, এদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলা, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ক্যানিং পূর্বের দুই আধিকারিক সত্যজিৎ দাস ও জয়দীপ কুণ্ডুর বিরুদ্ধে অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। একইভাবে সুতির শেখ মুর্শিদ আলম, ময়নাগুড়ির ডালিয়া রায় চৌধুরী, সামশেরগঞ্জের শেফাউর রহমান, ফরাক্কার নীতীশ দাস এবং ডেবরার দেবাশিস দাসের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
কমিশনের তরফে মুখ্যসচিবকে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলেই কমিশনের বার্তা।
এই পদক্ষেপকে অনেকেই আসন্ন নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার অংশ হিসেবে দেখছেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত আধিকারিকদের নিরপেক্ষতা ও সততার প্রশ্নে কমিশন যে কোনও আপস করতে রাজি নয়, এই সিদ্ধান্ত তারই ইঙ্গিত বহন করছে। রাজ্য প্রশাসনের একাংশের মতে, এতজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে একসঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া বিরল ঘটনা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনিক মহলে চাপ বাড়বে এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী কাজের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর পদক্ষেপ রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার সহ্য করা হবে না। সামনে ভোটের প্রস্তুতির সময় এই সিদ্ধান্ত যে বড় প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।









